দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Traditional Durga Puja 2026

দুর্গার উপরে বিরাজমান মা গঙ্গা, সামশেরগঞ্জের জমিদার বাড়ির ‘বাইশ পুতুলের পুজো’র মাহাত্ম্য কী?

ভাঙনের হাত থেকে জেলাবাসীকে রক্ষা করতে দেবী দুর্গার সঙ্গে মা গঙ্গারও পুজো হয়।
Jaba Sen
10:19 AM Sep 26, 2026 IST
ভাঙনের হাত থেকে জেলাবাসীকে রক্ষা করতে দেবী দুর্গার সঙ্গে মা গঙ্গারও পুজো হয়।
এই পুজো এলাকায় ‘বাইশ পুতুলের পুজো’ নামে পরিচিত। নিজস্ব ছবি।

রাবণকে যুদ্ধে হারাতে শরৎকালে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেছিলেন রামচন্দ্র। আর ভাঙনের হাত থেকে জেলাবাসীকে রক্ষা করতে দেবী দুর্গার সঙ্গে মা গঙ্গারও পুজো হয় ধুলিয়ানে। প্রাচীন এক রীতি মেনে আজও এই পুজো হয়ে আসছে। ভাঙনের জেরে নতুন করে আর কোনও এলাকা যেন নদীগর্ভে তলিয়ে না যায়, সেই কামনায় বহু উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়েও সামশেরগঞ্জের কাঞ্চনতলা জমিদার রাধাবল্লভ রায়ের বাড়ির দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) আয়োজন হয়।

এই বাড়ির প্রতিমা রাজ্যের অন্য সব প্রতিমার থেকে আলাদা। এখানে দেবী দুর্গার মাথার উপর বিরাজমান শিব, আর শিবের মাথার উপর থাকেন মা গঙ্গা। দেবীর ডানদিকে জয়া, বামদিকে বিজয়া। শিবের ডানদিকে কার্তিক, বামদিকে গণেশ। তারও ডানদিকে রাম-সীতা ও মঙ্গলকোট। অসুরের জায়গায় থাকেন মহিষাসুর। এই বংশের পুজো এলাকায় ‘বাইশ পুতুলের পুজো’ নামে পরিচিত। কারণ দুর্গার পাশাপাশি সব মিলিয়ে মোট ২২ জনের পুজো হয়।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

কাঞ্চনতলা জমিদার রাধাবল্লভ রায়ের বাড়ি। নিজস্ব ছবি।

প্রায় ২১৫ বছর আগে এই পুজোর সূচনা করেন জমিদার রায়চন্দ্র রায়। তখন দেড়শো বিঘা জমি দেবোত্তর হিসেবে দান করে এই পুজো শুরু হয়। জমিদার বাড়ির রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর নতুন কাঠামো তৈরি হয় না। পুরনো কাঠামোতেই মাটির প্রলেপ দিয়ে মূর্তি গঠন করা হয়। মহালয়ার আগেই দেবীর বোধন হয়, এটাই এখানকার প্রাচীন রীতি। নিমতিতা জমিদার বাড়ির পুজোয় মায়ের ভোগে থাকে লুচি, রকমারি ভাজা এবং মিষ্টি। যার সবটুকুই তৈরি হয় নুন ছাড়া।

পুজোর আচারের মধ্যেও রয়েছে চমক। প্রাচীন রীতি মেনে নবমীর দিন হয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। এই খেলায় শুধুমাত্র জমিদার বাড়ির পুত্রেরাই অংশগ্রহণ করতে পারেন। বাইরের কেউ খেলতে পারেন না। দশমীর দিন জমিদার বাড়ির মহিলারা সিঁদুর খেলায় মাতেন। সেই সময় জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বার বহিরাগতদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। দশমীর দিন কাঁধে করে শোভা যাত্রার মাধ্যমে দেবীকে নিয়ে আসা হয় কাঞ্চনতলার গঙ্গার ঘাটে। সেখানে চলে বাইচ প্রতিযোগিতা। তারপর গঙ্গায় দেবীকে নিরঞ্জন করা হয়।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, মা গঙ্গাকে তুষ্ট করতে পারলেই ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে ধুলিয়ান-সামশেরগঞ্জ। তাই আজও ভাঙন রোধের কামনায় কাঞ্চনতলা জমিদার বাড়িতে পূজিত হয়ে চলেছেন মা গঙ্গা ও দুর্গা।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Banglar Durga PujaDurga Puja 2026Durga Puja in West Bengalwest bengal durga puja
Advertisement
Tags :
Banglar Durga PujaDurga Puja 2026Durga Puja in West Bengalwest bengal durga puja

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন