ত্বকের উজ্জ্বলতায় কম খরচে ঘরেই করুন 'ন্যাচারাল বোটক্স,' মাথায় রাখুন ক্ষতির দিকগুলিও
Utsa Tarafdar
রুপোলি পর্দায় তাকালেই দেখা যায়, হলিউড-বলিউডের নায়িকাদের মসৃণ ত্বক। মুখ দেখে বয়স বুঝে যাবে, সাধ্য কার? এর নেপথ্যে ক্রেডিট কেবল বোটক্সের। বোটক্সে ব্যবহৃত বটুলিনাম টক্সিন সাময়িকভাবে স্নায়ু থেকে পেশিতে সংকেত যাওয়ার প্রক্রিয়া আটকে দেয়। ফলে মুখের পেশি কম সংকুচিত হয় এবং তার প্রভাবে বলিরেখা কম দৃশ্যমান হতে পারে। তা দেখে হয়তো যে কারওরই ইচ্ছে হবে এমন ত্বক পাওয়ার। কিন্তু একে তো ওসব ট্রিটমেন্টের আকাশছোঁয়া দাম। অন্যদিকে, সামান্য ভুলচুকে ত্বক নষ্ট হওয়ারও ভয় থেকে যায়।
আরও পড়ুন:
কিন্তু পুজোর আগে ত্বক হয়ে উঠুক এক্কেবারে বোটক্স-ফিনিশ, এমন ইচ্ছে বোধহয় গোপনে সব তরুণীই রাখে। স্কিনকেয়ার স্পেশালিস্টরা বলেন, প্রকৃতিতেই রয়েছে এমন উপাদান যা ত্বককে বোটক্স ব্যবহারের লুক দিতে পারে। এর জন্য খরচ নামমাত্র, ক্ষতিরও কোনও সম্ভাবনা থাকে না।
এর জন্য প্রয়োজন কেবলমাত্র পাকা কলা। সঠিকভাবে বলতে গেলে, কলাও নয়, শুধুমাত্র কলার খোসাটুকু লাগবে এই কাজে (Banana Peel as ‘Natural Botox’)। সঠিক পদ্ধতিতে কলার খোসা ত্বকে ব্যবহার করতে পারলেই পাওয়া যাবে আভ্যন্তরীণ উজ্জ্বলতা। সম্প্রতি এই ভাইরাল ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছেন একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
কীভাবে ব্যবহার করতে হবে পাকা কলার খোসা? জেনে নেওয়া যাক।
১. প্রথমে মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।
২. একটি পাকা কলার খোসা নিন। খোসার ভেতরের সাদা অংশটি মুখের ত্বকে ঘষতে হবে।
৩. খোসার ছোট টুকরোতে কেটে নিয়ে তার ভেতরের সাদা অংশটি গাল, কপাল, থুতনি ও নাকের চারপাশে খুব আলতোভাবে ঘষুন।
৪. ১–২ মিনিট হালকা হাতে ঘষতে হবে। এরপর খোসার আস্তরণটি মুখে ৫–১০ মিনিট চেপে রেখে দিন।
৬. সবশেষে হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে একটি মাইল্ড ময়েশ্চারাইজার লাগান।
পাকা কলা ও কলার খোসায় ভিটামিন C, B6, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও প্রভূত পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে সরাসরি মুখের ত্বকে ব্যবহারের আগে হাতে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া উচিত। কারণ সবার ত্বকে সব উপাদান সহ্য হয় না। নিয়মিত ব্যবহার করতে পারলে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়।
তবে এই ‘নেচারস বোটক্স’-এর প্রভাব সাময়িক। এতে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠলেও কৃত্রিম উপাদান সমৃদ্ধ বোটক্সের মতো হুবোহু লুক পাওয়া সম্ভব নয়। সে কথা মাথায় রেখে তবেই এ ধরনের স্কিনকেয়ার বেছে নেওয়া চলে। ভুললে চলবে না যে, সোশাল মিডিয়ার সমস্ত ভাইরাল ট্রেন্ড কখনওই চোখ বুজে অনুকরণ করা উচিত নয়।