বাঁশির সুরে কৃষ্ণপ্রেম, পুজোয় 'মানুষের মতো বাঁচতে' চান বংশীধারী ভিক্ষুক বিপুল কয়াল
Utsa Tarafdar
‘আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন...’ যান্ত্রিক জীবনের অসীম ক্লান্তিতে বিদীর্ণ হয়েছেন তিনি। তবু গেয়ে চলেছেন জীবনের গান! প্রত্যেক মুহূর্তের না-পাওয়ার মধ্যেও বাজিয়ে চলেছেন বাঁশি। তিনি মীরা নন, তবুও কৃষ্ণপ্রেমে মজে জীবনের সমস্ত খারাপ ছুড়ে ফেলে, স্টেশনে স্টেশনে শান্ত, স্নিগ্ধ সুর সৃষ্টি করেন বিশেষভাবে সক্ষম বিপুল কয়াল।
কখনও মথুরাপুর, কখনও বারুইপুর, আবার কখনও বিধাননগর, দমদম, সোদপুর— রেল স্টেশন থেকে বাস স্ট্যান্ড, গামছা-ক্রাচ সঙ্গী করে পৌঁছে যান বিপুল। বুকে ঝোলানো রাধা-কৃষ্ণের ছবি। বাঁশির সুরে নিজের চারপাশে যেন গড়ে তোলেন এক ভিন্ন দুনিয়া। জীবনের একাধিক খারাপ সময়, বদনাম পেরিয়ে বিপুল কয়াল এখন বাঁশিওয়ালা ভিক্ষুক! অসাধারণ সুরে বুনে চলেন বেদনার কথা। দুঃখে-কষ্টে ভরা, অভিযোগে পরিপূর্ণ জীবন-কথায় বাঁধা পড়ে সেই সুর।
আরও পড়ুন:
বিপুলের দাবি, তাঁর প্রতিবন্ধকতার কারণে ছেড়ে গিয়েছেন স্ত্রী। এক পায়ে বল পান না। ছোট থেকেই পোলিও রোগে আক্রান্ত! তিনি বলছেন, "আমার সন্তান রয়েছে। আগে একটা মদের দোকানে কাজ করতাম। এখন বিভিন্ন স্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করি। কারও কাছে কিছু চাই না। গামছা পেতে রেখে বাঁশি বাজাই, যার যা মন চায় দিয়ে যান।"
পায়ের ভরে চলতে ভারী কষ্ট হয়, তবু ছোটবেলার শখ, বাঁশের বাঁশি বাজানোর নেশা ছাড়েননি তিনি। রাধা-কৃষ্ণের ভজনের সুর, ভক্তিগীতি, মন যা চায় সেই সুরেই হিল্লোল তোলেন মথুরাপুরের কয়াল পাড়ার এই বাসিন্দা। পুরনো জীবনে কী ছিল, কেমন ছিলেন, কেন চলে যায় কাজ? সমস্ত প্রশ্নের মুখে অস্বস্তি বোধ করেন বিপুল। শুধু বলে চলেন, ‘পুরনোকে ভুলে আমি আমার সুর নিয়ে বাঁচতে চাই। মানুষের কাছে বাঁশির সুর দিয়ে নিজের কথা বলতে চাই।’ বিপুলের পুজোও (Durga Puja 2026) কাটে এভাবেই। গত তিন-চার বছর ধরে পুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে বাঁশি নিয়ে বসেন তিনি। তখন আয় তুলনায় বেশি হয়! পুজোয় কী চান? থমকে গিয়ে তাঁর উত্তর, ‘সব ভুলে মানুষের মতো বাঁচতে চাই!’
ফের পথ বদলান তিনি। আবারও নতুন সুরের মূর্ছনায় ভাসান তাঁর নিজস্ব পৃথিবী, সুরেই যেন বলে যান একটু সাহায্যের কথা!