১৪ বার অস্ত্রোপচার, দগ্ধ জীবনে শরৎ খুঁজে ফেরেন দেগঙ্গার কল্পনা
Utsa Tarafdar
‘নারী তুমি অর্ধেক আকাশ!’ চিরাচরিত এই শব্দবন্ধে বিরক্তি হয় কল্পনার। আকাশের কালো মেঘে ঘিরে থাকা জীবনে বাঁচতে হয় যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে! অ্যাসিডের ক্ষত সারানোর চেষ্টার পথেও তিনি বলে চলেন যুদ্ধজয়ী এক দুর্গার কথা।
মুহূর্তের নির্মমতায় বদলায় জীবন। নৃশংসতা কেড়ে নেয় তথাকথিত বাহ্যিক সৌন্দর্য! তবে কাড়তে পারেনি কল্পনা দাসের বেঁচে থাকার ইচ্ছা আর অগাধ মনোবল। সেই মনোবলকে সম্বল করেই প্রতিদিনের লড়াই লড়ছেন উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন:
পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো ছিল জীবন। বিয়ে দিয়েছিলেন বাড়ির লোকেরা। নেশায় আসক্ত স্বামী, নিত্য মারধর নিয়ে চলছিল জীবন! দুই কন্যাসন্তানের মুখ চেয়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছিলেন তিনি। মুহূর্তের নির্মমতায় সবটাই যেন বদলে যায়! মৃত স্বামীর বন্ধুর লোভে অকারণে আক্রান্ত হতে হয় তাঁকে। তারপর সে এক অসম্ভব লড়াই! বাঁচা-মরার মাঝখানে শুধুই যন্ত্রণা!
কল্পনা বলছেন, "২০১৯ সাল। ১৩ জুন। আমার বাপের বাড়িতে ছিলাম। গভীর রাতে আক্রান্ত হই। প্রায় ১৪ বার সার্জারি আমার। মুখের বাঁদিক প্রায় শেষ। দুটো চোখে দেখতে পেতাম না। এখন একটা চোখ নেই। সেটা পাথরের!" তবু কল্পনার জগতে প্রবেশ করেছে যুদ্ধের দামামা! শ্বশুরবাড়ির খোঁটা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে কল্পনা আজ কলকাতার এক বিখ্যাত পাঁচতারা হোটেলের কর্মী। ঘরের রান্নাঘর সামলে তিনি গড়েন পাঁচতারার কর্মীদের খাবার! কর্পোরেট পোশাকে, পুরোদস্তুর দক্ষ কর্মী কল্পনা। তাঁর কাছে ৫ ঘণ্টার প্রতিদিনের যাত্রাপথও হার মানে বারবার!
কল্পনা বলেন, “ভেবেছি মরে যাব, হেরে যাব! তারপর ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এক এনজিওর সহযোগিতায় আমি পাঁচতারা হোটেলে কাজ করি। শেফের সহকারী হিসাবে। এখানে আমাকে সকলে ভালোবাসেন। কিন্তু সমস্যা হয় আমাদের গ্রামে!”
এখনও চোখের সামনে ঘোরে অপরাধী! অসম লড়াই, দুই কন্যাসন্তানের পড়াশোনা, সব কিছু সামলেও যুদ্ধ জিততে চান কল্পনা দাস। তাঁর কথায়, “শাস্তি চাই অপরাধীর। সরকারকে বলব, এই বিষয়ে আরও কঠিন ব্যবস্থা নিতে। খোলা বাজারে এমন ভয়ংকর জিনিস বিক্রিতে আরও কড়া হোক প্রশাসন!”
কল্পনা অনন্য, কল্পনা মৌলিক! বারবার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সত্ত্বেও তিনি অভিনব। লড়াকু মায়ের জেদ, হার মানায় সব। তিনি বলছেন, “মেয়েদের ভয় পেলে চলবে না। সকলে যে সমান, সে কথা বারবার মনে করানোর প্রয়োজন নেই। মা দুর্গা সকলকে ভালো রাখবেন তখনই, যখন আমরাও অশুভ বিনাশে এগিয়ে যাব (Durga Puja 2026)।”