পুজোয় ট্রেকিংয়ের ভাবনা? ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া যাওয়া যাবে না সান্দাকফু-ফালুট!
Suhrid Das
পুজোর মরশুমে ট্রেকিংয়ের ভাবনা? পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ এলাকা সান্দাকফু, ফালুটে ট্রেকিংয়ের প্ল্যান করছেন? সেক্ষেত্রে সাবধান, নিয়মকানুনে বিশেষ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে খবর। অক্টোবরের শুরুতেই সান্দাকফুতে পর্যটকের ঢল। তবে এবার দার্জিলিং জেলা প্রশাসন এবং জিটিএ সান্দাকফু ভ্রমণে যেতে হলে কিছু বিশেষ নিয়মকানুন তৈরি করতে পারে। পর্যটকদের মেডিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করতে উদ্যোগী হয়েছে। সেই সার্টিফিকেট ছাড়া পর্যটকরা ওই রাস্তায় ট্রেকিংয়ের ছাড়পত্র পাবেন না। এমনই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
ফালুট-সান্দাকফু রুটে ট্রেকিংয়ে গিয়ে বুধবার এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। অতীতেও একাধিক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এবার পুজোর মরশুম থেকেই ফের উত্তরে পর্যটকদের ঢল নামতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। সান্দাকফুতেও পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তাতেই এমন ভাবনাচিন্তা চলছে। এছাড়াও ট্রেকিংরুটে স্বাস্থ্যশিবির বসানোর প্রস্তুতি চলছে। ট্রেকারদের গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত বুধবার ফালুট-সান্দাকফু রুটে ট্রেকিংয়ে গিয়ে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের এক যুবকের মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, তুফানগঞ্জের যুককের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা হঠাৎ ৩২ শতাংশে নেমে যাওয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ঘটনাস্থলের কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে থাকায় সময়মতো চিকিৎসা মেলেনি বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার পরেই অতিরিক্ত উচ্চতা এবং ঠান্ডায় অসুস্থতা এড়াতে সান্দাকফু ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের জিটিএ-র তরফে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিপদ এড়াতে জেলা প্রশাসন এবং জিটিএ সান্দাকফুতে ট্রেকিং অথবা ভ্রমণে যেতে চাইলে মেডিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখানো বাধ্যতামূলক করতে চলেছে। সেই সঙ্গে ট্রেকারদের দৈনিক ১২০০ টাকা ভাড়ায় গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ল্যান্ড রোভার গাড়িতে যে পর্যটকরা সান্দাকফুতে যাবেন, তাদের গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এমন নিয়ম পরিবর্তনের কারণ এবার অক্টোবর মাসের শুরুতেই সান্দাকফুতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। বিভিন্ন ট্রেকিং সংস্থা এবং লোকাল গাইড অ্যাসোসিয়েশনগুলির অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের ফিক্সড ডিপার্চার গ্রুপ ট্রেকিং স্লট বুকিং চলছে। স্বভাবতই পুজোর ছুটিতে ভিড় অনেক বাড়বে বলেই মনে করছেন সিঙ্গালিলা ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশন।
সংস্থার সভাপতি চন্দন প্রধান বলেন, "শুধু নিয়ম লাগু করলে হবে না। বিপদ এড়াতে সান্দাকফুতে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রাখতে হবে।" দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের এক কর্তা সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, 'ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম-২'-এ সান্দাকফুতে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন কোনও পর্যটক অসুস্থ হলে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে সুখিয়াপোখরি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নামিয়ে আনতে হয়। এই পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ওই সময়ের মধ্যে সর্বনাশ হয়ে যায়। এছাড়াও সান্দাকফুতে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করার আর্জি জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের (অ্যাক্ট) কর্ণধার রাজ বসু। কলকাতায় নেপালের রাষ্ট্রদূতকে এই বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তাও দিয়েছেন তিনি। রাজ বসু জানিয়েছেন, কথাবার্তার পর্যায়েই এই বিষয়টি রয়েছে।
এবার সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানে প্রবেশের জন্য ভারতীয় পর্যটকদের মাথাপিছু ২০০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের ৫০০ টাকা এন্ট্রি ফি দিতে হচ্ছে। সেটা অবশ্য পর্যটক মহলে তেমন ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে না। এমনিতেই অক্টোবরের আকাশ পরিষ্কার থাকায় সান্দাকফু ও ফালুট থেকে মাউন্ট এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে এবং মাকালু শৃঙ্গের অপরূপ দৃশ্য পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু রুটে ল্যান্ড রোভার গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পাহাড়ি আবহাওয়া যে কোনও সময় পরিবর্তন হতে পারে। তাই ট্রেকারদের পর্যাপ্ত গরম পোশাক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।