পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি, পুজোর ছুটিতে কালিম্পংয়ের এই অচেনা গ্রামে যাবেন নাকি?
Sayani Sen
দূরে পাহাড়। পাইনবনের মাঝখান দিয়ে হাঁটার পথে যেন মেঘ ছুঁয়ে যাবে আপনাকে। আবার কখনও রোদ ঝলমলে এলাকা। শান্ত, নিরিবিলি গ্রামে শুধু শোনা যায় পাখির কাকলি। ঠিক ছবির মতো সুন্দর কালিম্পংয়ের ফুরুনগাঁও গ্রামই পুজোর ছুটিতে (Durga Puja Vacation) হতে পারে আপনার গন্তব্য।
কালিম্পংয়ের সিলিরিগাঁওয়ের কাছে ছোট্ট গ্রাম ফুরুনগাঁও। বাংলা ও সিকিম সীমান্তে হওয়ায় সিকিম যাওয়ার পথে কিংবা ফেরার সময় এই গ্রামে এক রাত কাটাতেই পারেন। তবে এই পথ ধরে খুব বেশি পর্যটক যাতায়াত করেন না। তার ফলে এখনও যথেষ্ট শান্ত গোটা গ্রাম। এখানে আলাদা করে তেমন দর্শনীয় জায়গা নেই। সকালে গ্রামের পথে খানিক হেঁটে নিতে পারেন। ক্লান্ত হয়ে গেলে আশপাশের চাষের জমিতে কিছুটা জিরিয়ে নিন। আর গাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে রংপো নদী, তিস্তা ভিউ পয়েন্টে একবার ঢুঁ মারতে পারেন। এই বেড়ানোর ফাঁকে পাহাড়ি পাখি, বুনো ময়ূর, হরিণের দেখা পেতে পারেন। সন্ধ্যায় পাহাড়ি নদীর স্রোত এবং ঝিঁঝিপোকার ডাক শুনে দিব্য়ি কেটে যায়। বনফায়ারের বন্দোবস্তও চাইলে করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
এখানে খুব বড় বিলাসবহুল হোটেল পাবেন না। তবে হোমস্টের সুবন্দোবস্ত রয়েছে। তবে যাওয়ার আগে অবশ্যই হোমস্টে বুকিং করে যান। নইলে বিপদে পড়তে পারেন। প্রতিটি হোমস্টে-তে চাষ করা সবজি দিয়ে অতিথি আপ্যায়ণের বন্দোবস্ত রয়েছে। তাই পাহাড়ি গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নেপালি খাবারদাবারের স্বাদ নিতে পারবেন অনায়াসে।
এবার জেনে নেওয়া যাক কীভাবে যাবেন ফুরুনগাঁও:
প্রথমে ট্রেন বা বাসে পৌঁছতে হবে শিলিগুড়ি অথবা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে পেডংয়ে। আবার একটি গাড়িতে চড়ে পৌঁছতে পারেন ফুরুনগাঁও। সময় লাগবে ৩০ মিনিট।
এই যাত্রাপথে পাহাড়ি চড়াই উতরাই আপনার মন ভালো করে দিতে বাধ্য। তাই আর দেরি কীসের, আজই পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। আর বাক্সপ্যাঁটরাও গুছোতে শুরু করুন।