পুজোর ক'দিন আপনিই রাজা! থাকা-খাওয়া, ঠাকুর দেখা রাজবাড়িতে, রইল পাঁচ সুলুকসন্ধান
Utsa Tarafdar
এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেলে ঘুরে ঠাকুর দেখতে আনন্দ তো হয়ই। তবে পুরনো দিনের জমিদারবাড়ি অথবা রাজবাড়ির পুজোর (Rajbari's Durga Puja) মেজাজ এই সবের থেকে আলাদা। সেখানকার পুজোর জৌলুসই যেন আগত অতিথিকে নিয়ে যায় ফেলে আসা সময়ে। আচ্ছা, পুজোর সময় দুদিনের জন্য যদি এমন কোনও বাড়িতে কাটানো যায়, তবে কেমন হবে বলুন তো? জমিদারবাড়ির দুর্গা পুজোর সাক্ষী তো হওয়া যাবেই, সঙ্গে পুজোর দুদিন কাটানো যাবে রাজার হালে! কোথায় রয়েছে এমন সুযোগ? জেনে নেওয়া যাক।
বাওয়ালি রাজবাড়ি: গত কয়েক বছরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই রাজবাড়ি হয়ে উঠেছে রাজকীয় রিসর্ট। এখানকার দুর্গাপুজো ৩০০ বছরেরও পুরনো। রয়েছে সুবিশাল ঠাকুরদালান। জাঁকজমক করে দুর্গা পুজো হয় এখানে, নিয়ম মেনে ভোগ নিবেদন করা হয়। চাইলেই এখানে এসে শামিল হওয়া যায় এমন রাজকীয় পুজোয়।
আরও পড়ুন:
কাশিমবাজার রাজবাড়ি: মুর্শিদাবাদের এই রাজবাড়িতে বছরভরই পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। তবে ইউরোপীয় ও ভারতীয় স্থাপত্যরীতির মেলবন্ধনে তৈরি এই রাজবাড়িটির রূপ যেন অন্য মাত্রা পায় পুজোর কয়েকদিনে। এখানে এসে থাকতে পারেন ভিক্টোরিয়ান আমলের পালঙ্ক-টেবিল-চেয়ারে সজ্জিত ‘হেরিটেজ স্টে’তে। কাঁসার বাসনে পরিবেশিত সুখাদ্য উপভোগ করতে পারেন। এই পুজোর বয়সও পেরিয়েছে ৩০০ বছর। এখানে বেড়াতে গেলে ফিরে যাবেন না, আর একদিন সময় হাতে নিয়ে ঘুরে দেখবেন বহরমপুর। ইমামবাড়া, হাজারদুয়ারি, জগৎশেঠের বাড়ি, কাঠগোলা বাগানবাড়ি— রয়েছে নাগালের মধ্যেই।
মহিষাদল রাজবাড়ি: পূর্ব মেদিনীপুরের এই রাজবাড়ি বোধহয় বাংলা সিনেমা-সিরিজের সুবাদে ভালোমতন চেনেন পর্যটকরা। এই রাজবাড়ির পুজো দেখতে এসে দিব্যি দু'দিন কাটিয়ে যেতে পারেন রাজা-রাজড়াদের মতো। রাজবাড়ির মূল অংশ অর্থাৎ ফুলবাগ প্যালেসে রয়েছে থাকার ব্যবস্থা। প্রায় আড়াইশো বছর আগে মহিষাদলের রানি জানকীর আমলে শুরু হয়েছিল এখানকার পুজো।
এখানে থাকতে কাঁসার থালায় রাজকীয় ভোজ খাওয়া ও পুজোর আমেজ উপভোগ করার সুযোগ তো রইলই। পাশাপাশি, রাজবাড়ির এক অংশে গড়ে ওঠা সংগ্রহশালাটি, রাজবাড়ি চত্বরের মন্দির অথবা কাছের রূপনারায়ণ নদী দেখতে পারেন সময় নিয়ে।
আমাদপুর রাজবাড়ি: পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে অবস্থিত এই জমিদারবাড়ির এক অংশে হোম স্টে তৈরি করা হয়েছে পর্যটকদের সুবিধার্থে। মেহগনি কাঠের নকশাদার আসবাব থেকে থালা ভর্তি চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয়— মনে হবে যেন সত্যি করেই পৌঁছে যাওয়া গিয়েছে প্রাচীন আমলে। এখানকার শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গামঞ্চের পাশে বসেই কেটে যাবে দীর্ঘ সময়।
পঁচেটগড় রাজবাড়ি: পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর ২ নং ব্লকে অবস্থিত দাস মহাপাত্র পরিবারের এই বিলাসবহুল ভবনে থাকা যায় পুজোর ক’টা দিন। লোকমুখে শোনা যায়, এখানকার দুর্গা পুজো বুঝি ৫০০ বছরের পুরনো। সবচাইতে উল্লেখ্য হল, এখানে মূর্তির নয়, পুজো পান পটের দুর্গা। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অপরূপ মেলবন্ধন এই বনেদি বাড়ির পুজোটি।