দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Adulterated Sweets

বাঙালিত্বে মিশল তেতো! মিষ্টিতেও ভেজাল, বঙ্গজীবনে এখন ভেজালত্বের বাড়াবাড়ন্ত

মিষ্টির ভেজাল কি আরও ত্বরান্বিত করবে বাঙালি চরিত্রের ভেজাল-ভাবনাকে?
Biswadip Dey
11:17 AM Sep 16, 2026 IST
মিষ্টির ভেজাল কি আরও ত্বরান্বিত করবে বাঙালি চরিত্রের ভেজাল-ভাবনাকে?
প্রতীকী ছবি।

বাঙালিত্বে মিশল তেতো। মিষ্টিতেও ভেজাল! 'টাটকা' ভাব বজায় রাখতে দুধে মিশছে ইউরিয়া, স্টার্চ। পচন আটকাতে মেশানো হচ্ছে ফর্মালিন!

বাঙালি সাবধান। মিষ্টিতে ভেজাল (Adulterated Sweets)। সামনেই পুজো। যার অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক মিষ্টিমুখের সঙ্গে। সেই সময় এল এই 'তেতো খবর' যে, মিষ্টিতে টাটকা ভাব এবং দেখনাই বজায় রাখতে ভেজাল মেশানো হচ্ছে ভরপুর, যা কিনা স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

মিষ্টির দূষণ শুরু হয় ছানায় ভেজাল থেকে। অর্থাৎ, গোড়ায় গলদ, যা ঘটছে একান্ত আড়ালে। ক্রেতার জানার উপায় নেই। খবরে প্রকাশ, মিষ্টির 'টাটকা' ভাব বজায় রাখতে দুধে ইউরিয়া, স্টার্চ, ও অন্যান্য ফ্যাট মিশিয়ে ছানা তৈরি হয়। এছাড়া মিষ্টি যেন তাড়াতাড়ি না পচে যায়, সেই ব্যবস্থা করতে দুধে অনেক সময় মেশানো হয় ফর্মালিন। তা থেকে হতে পারে ক্যানসার। এবং বাসি মিষ্টির সৌরভ এবং টাটকা ভাব, চাউনিবিন্যাস ধরে রাখতে ছানায় ঘটানো হয় এমন সব সুগন্ধি সংযোগ, যা পরিবর্তন আনতে পারে মানব দেহের ডিএনএ-র। কিন্তু মিষ্টিতে এই বিপজ্জনক ভেজাল সংক্রামে বাঙালির বিষাদ বা ভয়গ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। এর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর এবং জটিল বুননে ব্যাপ্ত সামাজিক, সাংসারিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ভেজালের সঙ্গে বাঙালি দিব্য ঘর করছে। এবং সবসময়ে বুঝতেও পারছে না কোনটা 'ভেজাল', কোনটা 'নির্ভেজাল'। কেননা ভেজাল ও নির্ভেজাল, একই বুননে, কসমেটিক আবরণে ঢাকা।

মিষ্টি ব্যবহারের তলায় নির্ভেজাল শয়তানি। মিষ্টি প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে যায় মরীচিকায়। ক্রমাগত নানাভাবে ঠকতে ঠকতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠি হয়তো এই সত্যে যে, 'খাঁটি' সত্য বলে কিচ্ছু নেই।

ভেজাল হাসির নিচে আবৃত শয়তানি, এ তো নিত্যদিনের ঘটনা, পরিচিত বাস্তব। মিষ্টি মিষ্টি কথা, ঝলমলে ব্যবহার, মনভোলানো প্রতিশ্রুতি, দীর্ঘ মাঙ্গলিক বার্তা কিংবা অর্থের টোপ- এসব আমাদের কত তাড়াতাড়ি প্রভাবিত করে। আমরা ভাবতে শুরু করি একজন বন্ধু পেলাম, পেলাম বিপদেরর আশ্রয়, নির্ভরযোগ্য কেউ। কিন্তু মিষ্টি হাসির নিচে লুকিয়ে থাকে ছুরি। মিষ্টি কথা ঢেকে রাখে প্রবঞ্চনা। মিষ্টি ব্যবহারের তলায় নির্ভেজাল শয়তানি। মিষ্টি প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে যায় মরীচিকায়। ক্রমাগত নানাভাবে ঠকতে ঠকতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠি হয়তো এই সত্যে যে, 'খাঁটি' সত্য বলে কিচ্ছু নেই। আমাদের মনে পড়ে অবসানের আগে রবীন্দ্রনাথের অন্তিম উচ্চারণ: 'অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে/ সে পায় তোমার হাতে/ শান্তির অক্ষয় অধিকার।'

মিষ্টিতে এই বিপজ্জনক ভেজাল সংক্রামে বাঙালির বিষাদ বা ভয়গ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। এর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর এবং জটিল বুননে ব্যাপ্ত সামাজিক, সাংসারিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ভেজালের সঙ্গে বাঙালি দিব্য ঘর করছে।

আশ্চর্যের ব্যাপার যে সাহিত্যে, দর্শনে, শিল্পে অনেক সময়ে শয়তানের রূপের ঘটেছে অনন্য উৎসবায়ন। যেমন, মিলটনের 'দ্য প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তানের রূপের মহিমায়। মধুসুদনের রাবণ সেলিব্রেশনে। রবীন্দ্রনাথের ঘরে বাইরে উপন্যাসে 'ক্লাসিক' ভিলেন সন্দীপের চরিত্রচিত্রনে। যাপিত জীবনে এবং ভাবনার জীবনে- বাস্তবে এবং কল্পনায় অস্তিত্বের প্রবাহে সর্বকালে একটি সত্য উদঘাটিত হয়েছে- সম্ভব নয় নির্ভেজাল শুদ্ধি। ঈশ্বর যদি সর্বত্র বিরাজিত হন, শয়তানও হয়তো তাই। এবং এই সত্য মেনে নেওয়ার মধ্যেই শান্তির অক্ষয় অধিকার। তবে মিষ্টিপ্লাবিত বাঙালি-মন এই সুমিষ্ট তত্ত্বায়নে কতখানি তুষ্ট হবে, সে সংশয় রয়ে যায় বইকি। মিষ্টির ভেজাল না আরও ত্বরান্বিত করে বাঙালি চরিত্রের ভেজাল-ভাবনাকে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Sweet
Advertisement
Tags :
Sweet

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন