দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Medicine Shop

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ, গলদ ধরতে এবার দোকানে সিসিটিভি

‘ওভার দ্য কাউন্টার’ ওষুধ কেনার প্রবণতা ঠেকাতে সিসিটিভি ফুটেজ-নির্ভর হবে দোকান। সচেতনতা এলেও ‘বেআইনি’ কারবার রোখা যাবে তো!
Kishore Ghosh
01:47 PM Sep 18, 2026 IST
‘ওভার দ্য কাউন্টার’ ওষুধ কেনার প্রবণতা ঠেকাতে সিসিটিভি ফুটেজ-নির্ভর হবে দোকান। সচেতনতা এলেও ‘বেআইনি’ কারবার রোখা যাবে তো!
নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক।

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের দোকানে সরাসরি কিনে ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ ওষুধ এবং অ্যান্টিবোয়েটিক খাওয়া যে বিপজ্জনক, এ কথা অনেকেই জানে না। ফলে সারা দেশেই মারাত্মক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। যেমন নিয়ম না-মেনে ব্যথানাশক ও প্যারাসিটামল খাওয়ার ফলে যকৃত ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। এই ধরনের ওষুধ সাময়িকভাবে কষ্ট কমালেও অনেক সময় মূল রোগ বা জটিলতাকে লুকিয়ে ফেলে, যা পরে বড় আকার ধারণ করে।

একাধিক ওষুধ একসঙ্গে খেলে বা ভুল ওষুধের বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তৈরি হতে পারে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’। সেক্ষেত্রে সর্দি, কাশি বা সাধারণ রোগের প্রকোপে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। সঙ্গে কোর্স সম্পূর্ণ না-করলে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস তো পায়ই, একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। দিনের-পর-দিন ধরে এই প্রবণতা চলতে থাকায় নড়েচড়ে বসেছে সরকার। ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ বা খুচরো দোকান থেকে ওষুধ কেনা বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের জারি করা একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রির সমস্ত প্রক্রিয়া দোকান বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে সম্পন্ন হবে। সেই ফুটেজ কমপক্ষে ৩ মাস সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে ওষুধটি সত্যি কোনও ‘বৈধ’ প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে বিক্রি করা হয়েছে কি না, তা সরকারের পরিদর্শকরা যাতে পরবর্তীতে যাচাই করতে পারে।

সিংহভাগ ক্রেতার কাছে দেখতে চাওয়া হয় না প্রেসক্রিপশন। ‘নকল’ ও নিম্নমানের ওষুধও দেওয়া হয়, প্রেসক্রিপশন না দর্শানোর সুযোগে।

বিশেষ করে যেগুলি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিক্রি ‘নিষিদ্ধ’, সেগুলির উপর কড়া নজর থাকবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ইচ্ছামতো ওষুধ কিনে খাওয়া বা ‘সেল্‌ফ-মেডিকেশন’ বন্ধ করা এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মটি চূড়ান্ত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক পরামর্শ নিয়ে নিরাপদে ওষুধ কেনার অভ্যাস তৈরি হবে এবং ‘কালোবাজারি’ বা ভুয়া ওষুধ বিক্রি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

তবে আইন বা নিয়ম যাই তৈরি হোক না কেন, তা কার্যকর হচ্ছে কি না, সেই নজরদারিই আসল। চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ ছাড়া মুড়ি-মুড়কির মতো বিকোচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ দোকানে ‘যোগ্য’ বা ‘বৈধ’ ফার্মাসিস্ট থাকে না। ‘লোকালসার্কেলস’-এর সাম্প্রতিক এক দেশব্যাপী সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কাউন্টারে থাকা ব্যক্তির কোনও ‘বৈধ’ যোগ্যতাই নেই ওষুধ দেওয়ার।

সিংহভাগ ক্রেতার কাছে দেখতে চাওয়া হয় না প্রেসক্রিপশন। ‘নকল’ ও নিম্নমানের ওষুধও দেওয়া হয়, প্রেসক্রিপশন না দর্শানোর সুযোগে। অর্থাৎ, সচেতনতার অভাব, লোভ এবং মুনাফার প্রয়োজনে নিয়ম ভাঙাই আদতে ‘নিয়ম’। দেশের ৮৬ শতাংশ মানুষ স্থানীয় ওষুধের দোকানের উপর নির্ভরশীল। শুধু সিসিটিভি দিয়ে এই বিপুল বেআইনি কারবার কতটা রুখে দেওয়া সম্ভব, তা বড় প্রশ্ন।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
DrugsPrescription
Advertisement
Tags :
DrugsPrescription

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন