বিশ্বের মানচিত্রে বদল, অখণ্ড কাশ্মীরকেও ভারতের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হোক
Biswadip Dey
'ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন' ব্যবহারে বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর প্রকৃত আয়তন ফুটে উঠলে ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভূগোল বই কিংবা শ্রেণিকক্ষে যে বিশ্ব মানচিত্র দেখে আমরা অভ্যস্ত, তাতে দেশ বা মহাদেশগুলোর আসল আয়তন সঠিকভাবে ফুটে ওঠে না। বিশেষ করে আফ্রিকার মতো বিশাল একটি মহাদেশ বাস্তবে যতটা বড়, বহু বছর ধরে তার চেয়ে অনেক ছোট আকারে দেখানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই ভৌগোলিক বিভ্রান্তি দূর করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল রাষ্ট্রসংঘ।
আরও পড়ুন:
সাধারণ পরিষদে 'কারেক্ট দ্য ম্যাপ' শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছে, যেখানে সুপরিচিত 'মার্কেটর প্রজেকশন'-এর পরিবর্তে দেশগুলোর প্রকৃত আয়তন তুলে ধরতে 'ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন' ব্যবহারের পক্ষে রায় দেওয়া হয়। প্রস্তাবক দেশ টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে স্পষ্ট জানিয়েছেন, একটি ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের শুরু হওয়া উচিত একটি ন্যায্য মানচিত্রের মধ্য দিয়ে। ঔপনিবেশিক যুগের এই ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে টোগো চলতি বছরের মধ্যেই তাদের দেশের স্কুলের ভূগোল বই থেকে পুরনো মার্কেটর মানচিত্র বাদ দিয়ে নতুন ইকুয়াল আর্থ মানচিত্র যুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছে।
আফ্রিকার মতো বিশাল একটি মহাদেশ বাস্তবে যতটা বড়, বহু বছর ধরে তার চেয়ে অনেক ছোট আকারে দেখানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই ভৌগোলিক বিভ্রান্তি দূর করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল রাষ্ট্রসংঘ।
ঔপনিবেশিক আমলের বহু ভুল এখনও বহন করছে বিশ্বের বহু দেশ। সেগুলো শুধরে নিয়ে প্রকৃত ছবিটা তুলে ধরা সকলেরই কর্তব্য। বিশ্ব মানচিত্র বদলানোর মূল লাভ হল মহাদেশগুলোর সঠিক ও বাস্তব আয়তন চেনা, যা এতদিন প্রচলিত মানচিত্রে ভুলভাবে উপস্থাপিত হত। প্রচলিত মার্কেটর মানচিত্রে আফ্রিকা ও গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় সমান দেখানো হত, অথচ বাস্তবে আফ্রিকা প্রায় ১৪ গুণ বড়! ঔপনিবেশিক আমলের প্রভাবে তৈরি পুরনো মানচিত্রগুলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বড় এবং আফ্রিকা বা এশিয়াকে ছোট দেখাত, শতকের পর শতক ধরে চলে আসছে যা। নতুন মানচিত্র এই বৈষম্য দূর করেছে। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ-নোয়েল বরোতের কথা মাথায় রাখতে হবে। তিনি বলেছেন, 'মানচিত্র বদলালেই পৃথিবী বদলে যাবে না। কিন্তু পৃথিবীকে বিকৃতভাবে তুলে ধরা কোনও কিছুতে সংশোধন ঘটানো সত্যনিষ্ঠ থাকার পরিচয়।' এটাই সারকথা।
নয়া মানচিত্রে সায় দিয়েও ভারত সেই 'সত্যের' যুক্তি তুলে ধরে দাবি করেছে, নতুন মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ আঁকতে হবে ভারতের মানচিত্র অনুসারে। এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-সহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড। কোনও ত্রুটিপূর্ণ, ভুল মানচিত্র মেনে নেওয়া হবে না। প্রসঙ্গত, ভারত ভাগ এবং তৎপরবর্তী পাকিস্তানি আগ্রাসনের জেরে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর সৃষ্টি এবং কাশ্মীর নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থান- সবটাই সেই ঔপনিবেশিক শাসনের বিষময় ফল; রাজনৈতিক কারণে যা দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখা হয়েছে। যার নেপথ্যে মদত রয়েছে পুরনো ও নতুন ঔপনিবেশিক মানসিকতার।
ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ-নোয়েল বরোতের কথা মাথায় রাখতে হবে। তিনি বলেছেন, 'মানচিত্র বদলালেই পৃথিবী বদলে যাবে না। কিন্তু পৃথিবীকে বিকৃতভাবে তুলে ধরা কোনও কিছুতে সংশোধন ঘটানো সত্যনিষ্ঠ থাকার পরিচয়।' এটাই সারকথা।
যদি বিশ্বের মানচিত্রে বদল এনে সেই ঔপনিবেশিক কায়েমি স্বার্থকে অস্বীকার করা হয়, তাহলে ভারতের ক্ষেত্রেও অন্যথা হবে কেন? বাস্তবতা ও সত্য মেনে মহারাজা হরি সিংয়ের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে অখণ্ড কাশ্মীরও ভারতের অন্তর্ভুক্ত হোক।