জিনপিংকে আনতে বিমানবন্দরে সস্ত্রীক ট্রাম্প! প্রোটোকল ভাঙার নেপথ্যে বড় অঙ্ক
Biswadip Dey
সস্ত্রীক শি জিনপিংকে বিমানবন্দর থেকে আনতে হাজির হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; সঙ্গে স্ত্রী মেলানিয়া। প্রোটোকল ভাঙা নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে ঝড়।
আমেরিকা সম্প্রতি 'স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট' নামে যে আইনটি তৈরি করল সেটির নিশানায় যেমন ভারত রয়েছে, তেমনই রয়েছে চিন। এই আইনে মূলত বলা হয়েছে, রাশিয়া ও ইরান থেকে যারা জ্বালানি তেল কিনবে, তাদের পণ্যের উপর আমেরিকা ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে। ভারতীয় পণ্যের প্রধান আমদানিকারী দেশ যেহেতু আমেরিকা তাই এই আইনের অভিঘাত খুব ব্যাপক আকারে পড়তে পারে ভারতীয় অর্থনীতির উপর। নিউ ইয়র্কে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠকে এই আইনটি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস, জয়শংকর।
আরও পড়ুন:
ভারত যখন আইনটি নিয়ে আমেরিকার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, ঠিক তখনই দেখা গেল অদূরেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে (Xi Jinping) লাল কার্পেটে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির হচ্ছেন সস্ত্রীক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দীর্ঘ ১১ বছর পর ওয়াশিংটন সফরে সস্ত্রীক জিনপিং। তাৎপর্যপূর্ণ হল যাবতীয় প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে মেলানিয়াকে নিয়ে ট্রাম্পের হাজির হওয়া। কয়েক দিন আগে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে জিনপিং দিল্লি আসেন। তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রোটোকল মেনে পাঠান তাঁর এক রাষ্ট্রমন্ত্রীকে। আমেরিকায় সাধারণ প্রোটোকল, প্রেসিডেন্ট কোনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে অভ্যর্থনা জানান হোয়াইট হাউসে। একদিকে যখন রাশিয়া ও ইরানকে সহযোগিতার জন্য আমেরিকা বিশ্বজুড়ে নানারকম নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছে, তখন অন্যদিকে এই দুই দেশের সবচেয়ে বড় মিত্র চিনের রাষ্ট্রপ্রধানকে ট্রাম্প বেনজির অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। জিনপিংকে ট্রাম্পের এইভাবে স্বাগত জানানো নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে ঝড়।
শি জিনপিংকে লাল কার্পেটে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির সস্ত্রীক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ ১১ বছর পর ওয়াশিংটন সফরে সস্ত্রীক জিনপিং। তাৎপর্যপূর্ণ হল যাবতীয় প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে মেলানিয়াকে নিয়ে ট্রাম্পের হাজির হওয়া।
আসলে আমেরিকা সম্ভবত বুঝতে পারছে ভারত-সহ অন্য দেশগুলির সঙ্গে যে ধরনের দর কষাকষি চলতে পারে, চিনের ক্ষেত্রে তা নৈব নৈব চ। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য আমেরিকার এখন প্রয়োজন বিপুল পরিমাণে বিরল মৃত্তিকা ধাতু যা একমাত্র মজুত রয়েছে চিনের কাছে। এবং বিপুল পরিমাণে। বস্তুত, বলা যায় বিশ্বে যত বিরল মৃত্তিকা ধাতু রয়েছে তার সিংহভাগই এই মুহূর্তে চিনের কাছে। ইলেকট্রনিক্স থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, সব ধরনের পণ্য উৎপাদনেই এই বিরল মৃত্তিকা ধাতুর চাহিদা তুঙ্গে। চিনকে চটালে যে এই প্রয়োজনীয় সরবরাহ যে আর থাকবে না- ট্রাম্পের থেকে ভাল আর কে বোঝে। সেই কারণে ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যে ধরনের দর কষাকষি করা চলে তা চিনের ক্ষেত্রে কখনওই সম্ভব নয়।
আসলে আমেরিকা সম্ভবত বুঝতে পারছে ভারত-সহ অন্য দেশগুলির সঙ্গে যে ধরনের দর কষাকষি চলতে পারে, চিনের ক্ষেত্রে তা নৈব নৈব চ। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য আমেরিকার এখন প্রয়োজন বিপুল পরিমাণে বিরল মৃত্তিকা ধাতু যা একমাত্র মজুত রয়েছে চিনের কাছে।
একদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি ও ইজরায়েলকে খুশি রাখতে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া যেমন ট্রাম্পের গতি নেই, তেমনই অন্যদিকে জিনপিংকেও হাতে রাখা তাঁর অন্যতম বাধ্যবাধকতা। তাই দীর্ঘদিনের প্রথাভেঙে ট্রাম্পকে সস্ত্রীক বিমানবন্দরে ছুটতেই হয় জিনপিংকে স্বাগত জানাতে। একেই বলে ভূ-রাজনীতি!