দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
West Asia Conflict

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে টলমলে বিশ্ব অর্থনীতি! ব্রিকস সমাধান মিলবে?

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়বে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর।
Kishore Ghosh
11:51 AM Sep 11, 2026 IST
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়বে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর।
ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলে দিচ্ছে যে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত যে কোনও মুহূর্তে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমেরিকা-ইরান সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনের হাউথিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আক্রমণ সার্বিকভাবে পরিস্থিতিকে এমন বিপজ্জনক স্তরে নিয়ে যাচ্ছে, যাতে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ ক্রমে বিস্তৃত হয়ে সারা বিশ্বের সুরক্ষা ও অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে।

পারস্য উপসাগর থেকে জর্ডন, সৌদি আরব থেকে লোহিত সাগর, একাধিক ভৌগোলিক অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার অর্থ, সংঘাতের পরিধি শুধুমাত্র ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তবে, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, আমেরিকার 'সর্বোচ্চ চাপ' নীতি ইরানকে নতিস্বীকার করাতে পারেনি। বরং সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক অবরোধকে একই সঙ্গে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন তেহরানের উপর চাপ বাড়িয়েছে, আর তার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধির পথ বেছে নিয়েছে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর জ্বালানি অর্থনীতির কাছেও এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের।

ইরানের তেল রপ্তানিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রভাব পড়লেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত সংখ্যক জাহাজকে মার্কিন নৌ-নিরাপত্তা দেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইরানের চাপের প্রভাব কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই কৌশলও যে তেহরানকে আপসের পথে নিয়ে আসেনি, তা এখন স্পষ্ট। বরং ইরান আমেরিকার যুদ্ধজাহাজকে পারস্য উপসাগরের বাইরেও নিশানা করে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি নিতে তারা প্রস্তুত।

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় বিপদ এখানেই যে, দুই পক্ষের কোনও পক্ষ পিছিয়ে আসতে রাজি নয়। যুদ্ধ যদি আমেরিকা-ইরান সংঘাতের গণ্ডি পেরিয়ে সৌদি আরব, ইয়েমেন, জর্ডন এবং লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যই নষ্ট হয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিও গভীর সংকটে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেব ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথগুলির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাহাজ চলাচলের খরচ বাড়বে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে এবং সরাসরি প্রভাব পড়বে তেল, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই।

ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর জ্বালানি অর্থনীতির কাছেও এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। তার সঙ্গে পরিবহণ ব্যয় ও বিমার খরচ বৃদ্ধি পেলে আমদানি ব্যয়ও বাড়বে। প্রভাব মুদ্রাস্ফীতি, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর পড়তে পারে। তাই প্রয়োজন যুদ্ধের বিস্তার রোধ। বিশ্ব এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে একটি ভুল সামরিক হিসাব বা একটি অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো অঞ্চলকে এমন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত অতলে ঠেলে দিতে পারে, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
AmericaIran war
Advertisement
Tags :
AmericaIran war

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন