দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
India-Russia Relations

রুশ বন্ধুত্ব বজায় রেখেই যুদ্ধাবসানের পক্ষে, বড় কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে ভারত

মার্কিন কংগ্রেসে রুশ জ্বালানি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের বিধান-কেন্দ্রিক পদক্ষেপ ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল করেছে।
Amit Kumar Das
12:06 PM Sep 22, 2026 IST
মার্কিন কংগ্রেসে রুশ জ্বালানি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের বিধান-কেন্দ্রিক পদক্ষেপ ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি।

ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া। আবার রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রেখেও ভারত যুদ্ধাবসানের পক্ষে।

ইউরোপের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, 'ন্যাটো'-কে সামরিকভাবে 'পরীক্ষা' করতে পারে রাশিয়া। এই সতর্কবার্তা যদি সত্য হয়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধ আর শুধুমাত্র রাশিয়া-ইউক্রেনের সামরিক সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ, রাশিয়া যদি 'ন্যাটো' সদস্যভুক্ত কোনও দেশের উপর সামান্যতমও হামলা করে, তখন ন্যাটোর 'আর্টিকেল ৫' কার্যকর করার প্রশ্ন উঠবে এবং এ যুদ্ধ সরাসরি রাশিয়া-ন্যাটো সংঘাতে পরিণত হতে পারে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণে বিঘ্ন- সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ইতিমধ্যেই জ্বালানি ও সরবরাহ-নিরাপত্তার সমস্যার মধ্যে দিয়ে চলছে। সংঘাত আরও বাড়লে নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক বাধা এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা নতুন করে তীব্র হতে পারে। তার প্রভাব পড়বে তেল, গ্যাস, সার, পরিবহণ খরচ থেকে শুরু করে বিশ্ববাজার ও মুদ্রাস্ফীতিতে। ভারতের জন্যও তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া। ২০২৬ সালের প্রথম ভাগে রাশিয়া ভারতের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা যত কঠোর হবে, ভারতের উপর ততই দ্বিমুখী চাপ বাড়বে।

একই সময়ে ভারতীয় তৈল শোধনাগারগুলি রাশিয়া-সহ বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করে দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি রফতানিও করছে। ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা যত কঠোর হবে, ভারতের উপর ততই দ্বিমুখী চাপ বাড়বে। এখন সস্তা বা তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে রুশ তেল ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে। কিন্তু রুশ তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির উপর মার্কিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা অতিরিক্ত শুল্কের আশঙ্কাও রয়েছে। সম্প্রতি, মার্কিন কংগ্রেসে রুশ জ্বালানি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের বিধান-কেন্দ্রিক পদক্ষেপ ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল করেছে। তাই ভারত কোন পক্ষ নেবে, সমস্যা শুধু সেটাই নয়, ভারতের প্রয়োজন একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, রফতানি বাজার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা।

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ দিনের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে (India-Russia Relations)। আবার আমেরিকা ও ইউরোপ ভারতের বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে নতুন করে 'ঠান্ডা যুদ্ধ'-র মতো দুই মেরু তৈরি হলে দিল্লির চাপ বাড়বে। ভারতকে একই সঙ্গে মস্কো, ওয়াশিংটন, ইউরোপ এবং এশিয়ার শক্তিগুলির সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে হবে। সে-কারণে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও নয়াদিল্লি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের পক্ষে কথা বলছে। বস্তুত, বিশ্ব এখন এমন এক ভূরাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে একটি যুদ্ধ-জ্বালানি, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে নিবিড়ভাবে। এটি বৃহৎ শক্তিগুলির অর্থনীতি ও কৌশলগত স্বাধীনতারও বড় পরীক্ষা।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Russia
Advertisement
Tags :
Russia

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন