দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Nepal Flash Flood

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে কী হবে, শিক্ষা দিয়ে গেল নেপালের বিপর্যয়

প্রকৃতি যখন পালটা মার শুরু করে, তখন সেসব খড়কুটোর মতো ভেসে যায়।
Biswadip Dey
12:12 PM Aug 29, 2026 IST
প্রকৃতি যখন পালটা মার শুরু করে, তখন সেসব খড়কুটোর মতো ভেসে যায়।
ফাইল ছবি।

নেপালের হড়পা বান (Nepal Flash Flood) শিক্ষা দিল মানুষ যতই দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা বানাক, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ব্যর্থ হলে সভ্যতা বারবার ধ্বংস হবে।

নেপালের সাম্প্রতিক হড়পা বান তথা প্রকৃতির চরম রোষ থেকে আমরা কতটা শিক্ষা নিতে পারলাম? প্রাথমিকভাবে এই ভয়াবহ দুর্যোগকে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্ঘটনার জের বলে ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হলেও, উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে অচিরেই স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে- বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনাই এই বিপর্যয়ের মূলে। উষ্ণায়ন-হেতু নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ গলে যাওয়াই হড়পা বানের প্রধান কারণ।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

হিমালয়ের তাপমাত্রা পৃথিবীর গড় উষ্ণতার তুলনায় ক্রমশ বেড়েই চলেছে, এই ঘটনাই 'উষ্ণায়ন'। উষ্ণায়ন, বলা বাহুল্য, একান্তভাবেই মনুষ্যসৃষ্ট। সভ্যতা যত এগচ্ছে, কার্বন নির্গমন বাড়ছে, সবুজ ধ্বংস হচ্ছে। যা বিশ্বের তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত প্রায় অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে উষ্ণায়নের মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে সম্মেলন হচ্ছে। তবে সেই আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত বইয়ের দু'মলাটের মধ্যেই আটকে থাকে। নচেৎ উষ্ণায়নের জেরে বার বার এই বিপর্যয় দেখতে হয় না।

উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে অচিরেই স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে- বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনাই এই বিপর্যয়ের মূলে। উষ্ণায়ন-হেতু নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ গলে যাওয়াই হড়পা বানের প্রধান কারণ।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে যে হিমবাহটি আচমকা ভেঙে বুধবার সকালে লেন্দে খোলা নদীতে আছড়ে পড়েছিল তার তলদেশ গলে যায় উষ্ণায়নের কারণে। বিশাল বপু নিয়ে হিমবাহটি লেন্দে খোলার উপর আছড়ে পড়ে কয়েক সেকেন্ডে বিশাল জলরাশির সৃষ্টি করে। হিমবাহের সঙ্গে যে পাহাড়ের টুকরো নদীর উপর আছড়ে পড়েছিল তা নদীর খাতে জলকে অবরুদ্ধ করে কয়েক মিনিটের জন্য একটি অস্থায়ী হ্রদের জন্ম দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই হ্রদটি ভেঙে হিমবাহের ঠান্ডা জল কাদা, পাথর টুকরো-সহ ভীম গতিতে ভোটেকোশী নদী দিয়ে হড়পা বান হয়ে নেমে আসে। তারপর সেটি ত্রিশূলী নদীতে পড়ে একের পর এক জনপদ ধ্বংস করতে করতে নিচে চলে যায়।

উষ্ণায়নের মতোই পাহাড়ি নদীর পথে পথে অট্টালিকা, সেতু, বাঁধ, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্পূর্ণত মানুষের অবদান। প্রকৃতিকে যখন আমরা এইভাবে ধ্বংস করছি তখন প্রকৃতির ভয়ংকর রোষের কবলে পড়াও একরকম ভবিতব্য। ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদী তার দু'পারের সভ্যতাকে মুছে দিয়েছে। ওই কাদার মধ্যে থেকেই হয়তো ফিনিক্সের মতো ফের দ্রুত মাথা তুলে দাঁড়াবে নগরসভ্যতা। আর আবারও হয়তো পটভূমি রচিত হবে আরও একটি বিধ্বংসী হড়পা বান ও শ'য়ে শ'য়ে মৃত্যুর। প্রশ্ন উঠেছে, হড়পা বানের ক্ষেত্রে কেন আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা কাজ করল না? প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাসের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রকৃতি যখন পালটা মার শুরু করে, তখন সেসব খড়কুটোর মতো ভেসে যায়। ভঙ্গুর লাগে মানুষ-নির্মিত দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থাপনা।

গত প্রায় অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে উষ্ণায়নের মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে সম্মেলন হচ্ছে। তবে সেই আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত বইয়ের দু'মলাটের মধ্যেই আটকে থাকে।

আসলে প্রকৃতিকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে মানুষ যে ব্যবস্থাই গড়ে তুলুক, তা কখনওই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরী নয়। প্রকৃতির ভারসাম্য পুরোমাত্রায় রক্ষা না করে সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে এভাবেই বারবার প্রকৃতির রোষের মুখে পড়তে হবে। এই ভারসাম্য রক্ষার বিকল্প যে কিছু নেই, সেই শিক্ষা ফের দিয়ে গেল নেপালের বিপর্যয়।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Nepal
Advertisement
Tags :
Nepal

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন