জন-ভাগীদারি গণতন্ত্রের ভিত্তি

03:36 PM Sep 17, 2022 |
Advertisement

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনসাধারণকে শেষ পর্যায় পর্যন্ত উৎসাহ জোগানোর প্রচেষ্টায় সর্বতোভাবে সফল। জনসাধারণও তাঁর এই অমোঘ আহ্বানে বহুবার সাড়া দিয়েছে, নীতিসমূহকে নেহাতই কাগজপত্রে আটকে না-রেখে বাস্তবের ভিত্তিভূমিতে সফল রূপায়ণের ক্ষেত্রে। এবং তা সাফল‌্যমণ্ডিত হওয়ার কারণ- প্রকল্পের বহুবিধতা, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশ্বাস ও দূরদর্শিতা। কলমে জগৎপ্রকাশ নাড্ডা

Advertisement

 

মাদের শক্তি নিহিত রয়েছে জনগণের শক্তিতে। দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের মধ্যে নিহিত রয়েছে আমাদের শক্তি। নরেন্দ্র মোদি জন-ভাগীদারির আক্ষরিক অর্থ জনসাধারণের অংশগ্রহণ। সরকারের নীতি রূপায়ণে সম্মিলিত ভূমিকা বলতে যা বোঝায় এটা হল তাই। ভারতের মতো একটি জনবহুল দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি-রূপায়ণের কেন্দ্রীয় বিষয় হল, জনগণের শক্তিকে ব্যবহার করা। জনসাধারণকে তাদের কাজে গভীর উৎসাহ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখিয়েছেন, কোনওকিছু যখন ভুল হচ্ছে তখনই তা সংশোধন করা উচিত। শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়তা এবং অন্যদের উৎসাহ দেওয়া ও নীতিগত রূপায়ণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় সরকারের সামনে তুলে ধরাই জনশক্তির ব্যবহারিক সাফল্যের নামান্তর।

Advertising
Advertising

আলোচনা: উন্নত শাসন পরিচালনার হাতিয়ার জনসংবাদের নিরন্তর প্রক্রিয়া ছাড়া জন-ভাগীদারি অসম্পূর্ণ। প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক শাসনের মূলগত আদর্শই হল, বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে জনসাধারণের সঙ্গে নিরন্তর আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। এবং নীতিপত্রের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনা এবং পরামর্শমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা। প্রকৃত অর্থে নীতি-রূপায়ণের পর জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া কী হচ্ছে তা দেখা অবশ‌্যকর্তব‌্য। এরপর দেখতে হবে, প্রকৃত সুবিধাভোগী যারা, তাদের কী প্রতিক্রিয়া, কারণ তার ভিত্তিতেই হবে নীতি-রূপায়ণ। বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার জনসাধারণের সঙ্গে এই নিরন্তর আলোচনা প্রক্রিয়া চালিয়ে গিয়েছে। জনসাধারণের জীবনযাত্রা সহজ ও তাদের ক্ষমতায়নের বিষয়েও সবসময় যত্নসহকারে ব্যবস্থা নিয়ে এসেছে।

[আরও পড়ুন: সিএএ বিতর্কের সমাধানে আগ্রহ নেই কেন?]

‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ হল এর এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই যোজনার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এরপর শস্য বিমা এবং স্থায়ী কৃষিকাজ এই দু’টি প্রধান প্রকল্পকে যুক্ত করে ২০১৯-’২০ সালে পুনরায় আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এই পরিমার্জিত প্রকল্পটিতে বিভিন্ন অফলাইন এবং অনলাইন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কৃষকদের প্রতিক্রিয়ার এক সম্মিলিত রূপদান প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ, বিভিন্ন বিষয়কে এই প্রকল্প সংযুক্ত করেছে। গঠনমূলক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আলোচনা যে এক বিরাট শক্তি তার এক দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ এটি।

জনগণ পরিচালিত উন্নয়নের সময়কাল প্রধানমন্ত্রী মোদি জনসাধারণকে শেষ পর্যায় পর্যন্ত উৎসাহ জোগানোর প্রচেষ্টায় নিঃসন্দেহে সর্বতোভাবে সফল। জনসাধারণও তাঁর এই অমোঘ আহ্বানে বহুবার সাড়া দিয়েছে নীতিসমূহকে নেহাতই কাগজপত্রে আটকে না-রেখে, বাস্তবের ভিত্তিভূমিতে সফল রূপায়ণের ক্ষেত্রে। সংখ্যার নিরিখে দেখতে গেলে এইসব প্রকল্পগুলির পরিসংখ্যানগত সাফল্য দেখে মনে হতে পারে একদেশদর্শী এবং আনুভূমিক। এই বহুবিধ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে কল্পনা করেছেন, ঠিক সেভাবেই তা রূপায়িত হয়েছে- এখানেই প্রকল্পগুলির সৌন্দর্য। তিনি জনসাধারণের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশ্বাসী এবং এই সামগ্রিক উন্নয়নের যাত্রাপথে জনস্বার্থে কোনও ব্যবস্থা তিনি বাদ রাখেননি। তাঁর কথাই তার প্রমাণ।

নেতা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রধান সংকল্প নীতিগত ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি মানুষকে যুক্ত করা, যাতে প্রত্যেকে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং শাসন পরিচালনায় সবসময়ই তা প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক, প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্মের যে বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এ তিনি সমস্ত নাগরিককে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই জনআন্দোলনের ফল আমরা প্রত্যক্ষ করছি, যেখানে দেশের ১ লক্ষেরও বেশি গ্রাম ‘ওডিএফ প্লাস’ (ওপেন ডিফিকেশন প্লাস) অর্থাৎ উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম মুক্ত। কেবলমাত্র ৬০ মাসের মধ্যে ১১ কোটিরও বেশি শৌচালয় নির্মাণ হয়েছে, যা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এই প্রচেষ্টাকে কেবলমাত্র স্বচ্ছতার একটি উদ্যোগ হিসাবে মনে করা যেতেই পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই উদে‌্যাগ মহিলাদের সম্মান নিশ্চিত করেছে, তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, অসংখ্য শিশুর জীবন রক্ষা করেছে ও অনেক মেয়েকে স্কুলছুট হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে।

আর একটা উদাহরণ ‘জল জীবন মিশন’। এর মাধ্যমে কেবল গ্রামেই ১০ কোটিরও বেশি পাইপবাহিত জলসংযোগ পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজের কথায়, “‘জল জীবন মিশন’-এর সাফল্যের ভিত্তি জনসাধারণের অংশগ্রহণ। সমস্ত অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার।” জনসাধারণের জীবনে মৌলিক ব্যবহারিক চাহিদার এই প্রয়োজন মেটানো বর্তমানে এক বাস্তব সত্য হিসাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। জল আনতে মহিলাদের আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ হেঁটে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। নোংরা জল থেকে রোগের প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনা গিয়েছে এবং গ্রামীণ পরিবারগুলিতে জীবনযাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য সুনিশ্চিত করতে তা এক নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছে।

জনশক্তির আরও এক উদাহরণ, ২০০ কোটিরও বেশি কোভিড-১৯ টিকাকরণের রেকর্ড। কেবলমাত্র ১৮ মাসের মধ্যে এই সাফল্য অর্জন খুব সহজ কথা নয়। কিন্তু আমরা তা করে দেখিয়েছি। এটা যদিও অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার এক সফল রূপ। তবু মনে রাখতে হবে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। যা অর্জন করা সম্ভব নয়, তা অর্জনের মধ্য দিয়ে জনসাধারণের প্রতি তাঁর অটল বিশ্বাস এবং সংকল্পের দৃঢ়তা প্রতিফলিত হয়েছে। অন্য যেসব উল্লেখযোগ্য গণআন্দোলন প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে তা হল, প্রধানমন্ত্রী মোদি অতিমারীর সময়কালে জনসাধারণকে কারফিউ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জনস্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশংসা করে যাঁরা সম্মুখ সমরে করোনার মোকাবিলা করেছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে প্রদীপ প্রজ্বলনের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তাতে দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব সাড়া দেখা গিয়েছিল।

সরকার জনসাধারণকে টিকা নেওয়ার জন্য কোনও আদেশনামা না দিলেও জনসাধারণের মধ্যে বিকল্প, ভাল যা পাওয়া যাচ্ছে তা বেছে নেওয়ার এক প্রত্যয় দেখা গিয়েছিল। এর পাশাপাশি একই রকমভাবে আমরা দেখছি যাদের সামর্থ্য রয়েছে, ভরতুকি চালু থাকা সত্ত্বেও তারা সদিচ্ছায় রান্নার গ্যাস বা রেলটিকিটে ভরতুকি প্রত্যাহার করেছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, যখন তাদেরকে বলা হচ্ছে তখন তারা ‘সুবিধা ত্যাগ’ করতে প্রস্তুত। ওটা যদি কার্যক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বাধীন জন-ভাগীদারির ক্ষমতা হিসাবে পরিগণিত না হয়, তবে অন্য আর কী-ই বা হতে পারে?

অংশগ্রহণ থেকে সমৃদ্ধি ‘মন কি বাত’ সামাজিক বিপ্লবের (এবং প্রকৃত অর্থেই) এক বিরাট সাফল্য হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। জন-ভাগীদারি তার ভিত্তিস্বরূপ। প্রত্যেক ব্যক্তির গঠনমূলক শক্তির প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদির যে অটল বিশ্বাস, প্রতি মাসে একবার করে প্রত্যেকটি পর্বে তা প্রতিফলিত হচ্ছে। স্থানীয় জিনিসের জন্য সোচ্চার হওয়ায় যে গণআন্দোলনের ডাক প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তার ফলে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা যেমন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, উদ্যোগের ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে তেমনই। আজ এই গণআন্দোলন অসংখ্য ছোট ব্যবসায়ীকে ক্ষমতা প্রদান করেছে। দেশের প্রান্তিক এলাকাকেও স্টার্ট-আপের স্থায়িত্ব প্রদানে এবং প্রথাগত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা প্রদান করেছে। স্থানীয় খেলনা নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী মোদি সোচ্চার আহ্বান জানিয়েছেন। খেলনা নির্মাণের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা জোগানোর লক্ষ্যে তা অতুলনীয় ঘটনা।

পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সি শিশুদের আমি সাধুবাদ জানাতে চাই। কারণ জাতির চেতনা জাগ্রত হয়েছে। আমি শুনেছি, অসংখ্য পরিবারে পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সি শিশুরা তাদের বাবা-মাকে বলছে তারা বিদেশি খেলনা চায় না। একজন পাঁচ বছর বয়সি শিশুর মধ্যে যখন এই সংকল্প দেখা যায়, তখন তার মধ্যে যে স্বনির্ভর ভারতের আত্মা জাগ্রত হয়েছে তা প্রমাণিত।

নরেন্দ্র মোদি
স্বাধীনতা দিবস, ২০২২

২০২০ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি স্টার্ট-আপগুলির কাছে আহ্বান জানিয়ে আসছেন খেলনা শিল্পের ক্লাস্টার গড়ে তোলার জন্য, যাতে দেশ ‘বিশ্ব খেলনা হাব’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। ২০২২-এ এসে দেখা যাচ্ছে, অনেক খেলনা শিল্পের ক্লাস্টার দেশে তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ভাবধারার উপর ভিত্তি করে জনসাধারণের মধ্যে খেলনা শিল্পের উদ্ভাবনী প্রকৌশল বের করতে ‘টয়ক্যাথন’-এর মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং তা যথেষ্ট উৎসাহ সঞ্চার করেছে। সমস্ত খেলনা নির্মাতার ক্ষেত্রে বিআইএস-মানক (ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট‌্যান্ডার্ডস) শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলত অনেক চিনা প্রতিযোগীকে ছেঁটে ফেলা সম্ভব হয়েছে। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, একটি সংকল্পবদ্ধ জাতি কী করতে পারে।

“গণতন্ত্র বলতে একটা সরকারকে কেবল ৫ বছরের ঠিকা দেওয়া নয়। বাস্তব ক্ষেত্রে এটা হল জন-ভাগীদারি।” নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীর প্রতি নিরন্তর যে অবিচল বিশ্বাস দেখিয়ে এসেছেন বারবার তা অভূতপূর্ব এবং সদর্থক ফল দান করেছে। গণতন্ত্রে কোনও নীতির সাফল্য যখন শেষ মাইলফলক স্পর্শ করে, তখন তা প্রকৃত অর্থে সাফল‌্য হিসাবেই চিহ্নিত হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর অমোঘ আহ্বানের যথার্থতা হল সকলের অংশগ্রহণে সকলের সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত করা।

(মতামত নিজস্ব)
লেখক জাতীয় সভাপতি, ভারতীয় জনতা পার্টি

 

[আরও পড়ুন: কেমন ছিল বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত রাশিয়ার চেহারা? কীভাবে হয়েছে সাহিত্যে প্রতিফলন]

Advertisement
Next