দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Impact of Unemployment

ব্রিটিশ তকমা থেকে বেকার যুবকের দ্রোহ, বেকারত্বই কি জন্ম দেয় 'গুন্ডা'র?

'গুন্ডা' কথাটির নেপথ্যে পেশিশক্তির প্রাবল্য এবং লাগামছাড়া শাহি মেজাজের প্ররোচনা লুকিয়ে রয়েছে। যে মেজাজ যথেচ্ছাচারে বিশ্বাসী।
Amit Kumar Das
11:59 AM Sep 28, 2026 IST
'গুন্ডা' কথাটির নেপথ্যে পেশিশক্তির প্রাবল্য এবং লাগামছাড়া শাহি মেজাজের প্ররোচনা লুকিয়ে রয়েছে। যে মেজাজ যথেচ্ছাচারে বিশ্বাসী।
প্রতীকী ছবি।

ভাল স্বাস্থ্য, অসহায়তা, এবং রুজির সন্ধানে ব্যাপৃত যুব সম্প্রদায়ের ত্র্যহস্পর্শে যে 'গুন্ডা' শ্রেণির উদ্ভব ঘটে নগরজীবনে, তা এক সামাজিক অভিশাপ।

'গুন্ডা' কথাটির নেপথ্যে পেশিশক্তির প্রাবল্য এবং লাগামছাড়া শাহি মেজাজের প্ররোচনা লুকিয়ে রয়েছে। যে মেজাজ যথেচ্ছাচারে বিশ্বাসী। এর দরুন মানুষ আক্রান্তও হয়। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ব্যোমকেশ' সিরিজের যেসব সামাজিক উপন্যাসে স্বাধীনতার অব্যবহিত আগের ও পরের প্রেক্ষাপট বিধৃত- সেখানে, পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠা আখড়ার যুবকদের স্বাস্থ্যচর্চার সঙ্গে গুন্ডা প্রতিপালনের একটি পরোক্ষ অথচ মজবুত সম্পর্ক তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালে বেআইনি অস্ত্রের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিল যে নিরক্ষর বা আধা-স্বাক্ষর, প্রান্তিক ও চাকরিহীন যুব সম্প্রদায়, তারা জমাট স্বাস্থ্যের অধিকারী, এবং সুযোগ পেলে পেশির দাপট প্রদর্শন করতে কুণ্ঠা বোধ করত না। স্বাধীনতার পরে দেশের বেকারত্ব যত কঠোর ও কঠিন বিন্যাস প্রাপ্ত হয়, তত যেন একটি এ্যহস্পর্শ গঠিত হতে থাকে- ভাল স্বাস্থ্য, সামাজিক অসহায়তা, এবং রুজির সন্ধানে ব্যাপৃত যুব সম্প্রদায়ের গুন্ডামি করে বেঁচে থাকার দিকে ঝুঁকে পড়ে একটি শ্রেণি।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়েও 'গুন্ডা' বলে একটি অংশকে চিহ্নিত করতে চেয়েছিল ব্রিটিশ প্রশাসন, তবে সেই মার্কা এঁকে দেওয়ার সঙ্গে তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্যের এক ধরনের যোগ পাওয়া যায়। যে দেশীয় যুব সম্প্রদায় স্বাধীনতার জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না, যে যুব সম্প্রদায় অগ্নিযুগের আরাধনা করছে, সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা-প্রাপ্তির সম্ভাবনায় বিশ্বাস করছে- তাদের জন্য 'গুন্ডা' আখ্যাটি অপবাদসূচক হতে যাবে কেন। কিন্তু ১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তপন সিনহার 'আপনজন' আমাদের সামনে উপস্থিত করল ভিন্নতর সামাজিক ন্যারেটিভ। শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের হাতে পর্যাপ্ত চাকরি নেই। অথচ অভাব আছে। 'বেকার' হয়ে বেঁচে থাকার পারিবারিক অপবাদ আছে। আছে বিপুল সময়ের এক মণ্ড, যা কী করে ব্যয় করতে হবে এই যুবকেরা জানে না। ১৯৮৬ সালে বেরয় এন, চন্দ্রার পরিচালনায় 'অঙ্কুশ'।

স্বাধীনতার পরে দেশের বেকারত্ব যত কঠোর ও কঠিন বিন্যাস প্রাপ্ত হয়, তত যেন একটি এ্যহস্পর্শ গঠিত হতে থাকে- ভাল স্বাস্থ্য, সামাজিক অসহায়তা, এবং রুজির সন্ধানে ব্যাপৃত যুব সম্প্রদায়ের গুন্ডামি করে বেঁচে থাকার দিকে ঝুঁকে পড়ে একটি শ্রেণি।

সেখানেও এক ছবি, পুরনো সমস্যার। তবে এবার ছবিটি আরও মারাত্মক, আরও সুগঠিত এবং সমস্যা রূপে প্রায় সর্বভারতীয় স্তরে রূপান্তরিত। শিক্ষিত বেকার সম্প্রদায়ের দ্রোহ, ক্ষোভ, অন্তর্জালার প্রতিফলন ঘটছে পেশি আস্ফালনে এবং একটি অদরকারি 'পুরুষ' ইমেজ নির্মাণের অপচেষ্টায়। অবিভক্ত ভারতে ঠগির উপদ্রব লাগামছাড়া স্তরে পৌঁছয়। ১৮১২ নাগাদ ব্রিটিশ সরকার ঠগিদের সম্বন্ধে প্রথম জানতে পারে বলে অনুমান। উইলিয়াম স্লিম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয় সেই ঠগিদের নির্মূল করার।

'গুন্ডা' বললে যে রক্তখোর, নিকষ নিষ্ঠুর ও অর্থের বিনিময়ে মারদাঙ্গার কাজে লিপ্ত মানুষদের বোঝায়, তার সঙ্গে ঠগিদের অর্থযুক্ত সম্পর্ক আছে। বাংলা ভাষায় শিশুদের উপদ্রবকে 'গুন্ডামি' বললে যে ক্ষমাসুন্দর মনোভাব তৈরি হয়, তার সঙ্গে কিন্তু এই গুন্ডামির যোগ নেই। বর্তমান রাজ্য সরকার জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কাজ রোধে গুন্ডা-দমন বিলের প্রস্তাব করেছে। তবে তা এখনও রাষ্ট্রপতির সম্মতির অপেক্ষায়। সমাজে সমাজবিরোধী গুন্ডার দরকার নেই।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Unemployment
Advertisement
Tags :
Unemployment

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন