‘তুলসীদাস জুনিয়র’ছবিতে স্বমহিমায় ‘টুটু বোস’, মোহনবাগান সভাপতিই কি ধরা দিলেন সিনেমায়?

10:06 PM Jul 19, 2022 |
Advertisement

সুলয়া সিংহ: বলিউডের তারকাখচিত নানা ছবি বক্স অফিসে ঝড় তোলে। তবে কিছু ছবি সিনেমা হলে এসেও হারিয়ে যায় চকিতে। কিন্তু সেই তালিকার অনেক ছবিই মনে দাগ কেটে যায়। ভাবায়, অনুপ্রেরণা জোগায়। মুখ থুবড়ে পড়ার পরও মূল স্রোতে ফেরার সাহস দেয়। নতুন করে বাঁচতে শেখায়। তেমনই একটি ছবি ‘তুলসীদাস জুনিয়র’ (Toolsidas Junior)। সঞ্জয় দত্ত অভিনীত পরিচালক মৃদুল মাহিন্দ্রার ছবিটি গত ৪ মার্চ মুক্তি পেয়েছিল। বর্তমানে নেটফ্লিক্সের পর্দায় চোখ রাখলে দেখতে পাবেন ছবিটি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এতদিন পর কেন এ ছবি নিয়ে হঠাৎ আলোচনা! আসলে ছবিতে রয়েছেন ‘টুটু বোস’ নামের এক চরিত্র। কিন্তু এই টুটু বোস কি মোহনবাগান সভাপতি? নাকি কাল্পনিক কোনও চরিত্র? সেক্ষেত্রে চরিত্রের নাম কেন এমনটা হল? এবার সেই রহস্যই ফাঁস করলেন ছবির অভিনেতা।

Advertisement

ছবির মূল বিষয়বস্তু স্নুকার। কলকাতার (Kolkata) প্রেক্ষাপটেই তৈরি হয়েছে ছবিটি। স্নুকার চ্যাম্পিয়নশিপে একাধিকবার অংশ নিয়েছে বাবা (প্রয়াত অভিনেতা রাজীব কাপুর)। তাই বাবার হয়ে স্বপ্নপূরণ করতে চায় ছেলে, বরুণ বুদ্ধদেব ওরফে মিডি। এই মিডিই প্রতিযোগিতায় যোগ নেয় তুলসীদাস জুনিয়র নামে। আর এই খুদের স্বপ্নকে ডানা মেলে ওড়ার পথ প্রশস্ত করে দেন ‘টুটু বোস’। কলকাতার ময়দান তাঁকে যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত, সেরকম হাসিখুশি, পরোপকারী হিসেবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চরিত্রটিকে। তাহলে কি মোহনবাগান সভাপতিকেই দেখানো হয়েছে? টুটু বোসের চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন, সেই রামাদিত্য রায়কে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানালেন, নাহ্, মিডির জীবনে টুটু বোস সরাসরি এমন কোনও ভূমিকা নেননি। তবে রক্তমাংসের টুটু বোসের সঙ্গে একটা যোগ অবশ্যই রয়েছে।

[আরও পড়ুন: স্ত্রীকে টাকার মেশিন বানানো মানসিক হেনস্তা, বলল কর্ণাটক হাই কোর্ট]

Advertising
Advertising

বাঁ-দিকে: ‘টুটু বোস’ নামের চরিত্রে রামাদিত্য রায়

কীরকম? রামাদিত্য রায়ের কথায়, “ছবিটিতে পরিচালক মৃদুল নিজের জীবনের কাহিনিই তুলে ধরেছেন। তিনি যেভাবে বাবার স্বপ্নপূরণে বদ্ধপরিকর ছিলেন, এ ছবিতে সে বিষয়টিই ধরা পড়ে। আর পরিচালকের জীবনে মোহনবাগান অন্তঃপ্রাণ টুটু বোসের বিশেষ ভূমিকা ছিল। আসলে অনেক ছোটবেলা থেকে মৃদুল টুটু বোসকে দেখতেন কলকাতার স্যাটারডে ক্লাবে যেতে, উঠতি খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে, খুদেদের ‘মসিহা’ হয়ে উঠতে। সেই বিষয়টিই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল।”

শুধু তাই নয়, রামাদিত্যবাবু আরও জানান, এককালে একই পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন পরিচালক মৃদুল ও টুটু বোস। ভিন্ন সময়ে একই স্কুলেই লেখাপড়াও করেছেন। তাই ছেলেবেলা থেকেই এই নামটা মৃদুলের কাছে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এককথায় টুটু বোস তাঁর কাছে ছিলেন আইকন। আর তাই ‘তুলসীদাস জুনিয়র’ ছবির মধ্যে দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন মৃদুল। সেই কারণেই এই নামটি ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ সিনেমার চরিত্রটি হুবহু ‘টুটু বোস’ না হলেও বাস্তবের মানুষটিকেই সম্মান জানানো হয়েছে এ ছবিতে।

[আরও পড়ুন: ফের ঊর্ধ্বমুখী বাংলার দৈনিক করোনা গ্রাফ, একদিনে প্রাণ হারালেন ৬ জন]

Advertisement
Next