অনুষ্কার এক 'তুড়ি'তেই ভাগ্যবদল! ১৮ লক্ষ দেনা থেকে একলাফে কোটি-কোটি মাসিক আয় রেস্তরাঁর
Sandipta Bhanja
দেনার দায়ে সর্বস্বান্ত হয়ে ডুবতে বসেছিল রেস্তরাঁ। কিন্তু দুঃসময়ে অনুষ্কা শর্মার (Anushka Sharma) এক চালেই কিস্তিমাত! দিল্লি থেকে মুম্বইয়ে প্রাদেশিক পদের স্বাদ নিয়ে এসে রেস্তরাঁ খুলেছিলেন দুই ভাই। কিন্তু ২০২২ সালে ঋণে জর্জরিত হয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে চেম্বুরের ওই রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন জসপাল সিং খালসা ও মহিন্দর সিং খালসা। কিন্তু বিরাটঘরণির এক 'তুড়ি'তেই ভাগ্যবদল। যে ফুড জয়েন্ট কিনা বিগত কয়েক বছর ধর লোকসানের মুখে পড়ে ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে চলেছিল, এখন তাঁদের মাসিক আয় কোটি কোটি। কী এমন করলেন অনুষ্কা শর্মা? কৌতূহল অমূলক নয়।
সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ব্যবসা গোটানোর পরিকল্পনা করতে হয় দুই ভাইকে। এরপরই ময়দানে ঈশ্বরের দূতের মতো অবতরণ অনুষ্কা শর্মার।
জানা গিয়েছে, ক্রমাগত লোকসানের ফলে 'দিল্লি সে' রেস্তরাঁটি প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার ঋণের মুখে পড়েছিলেন। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে দু'ভাই মিলে শুরু করেন ওই খাবারের ব্যবসা। চেম্বুরে মাত্র ২৫০ বর্গফুট জায়গায় তিনটি টেবিল ও ন'টি আসন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল রেস্তোরাঁটি। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আচমকা বিক্রি কমতে শুরু করে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ব্যবসা গোটানোর পরিকল্পনা করতে হয় দুই ভাইকে। এরপরই ময়দানে ঈশ্বরের দূতের মতো অবতরণ অনুষ্কা শর্মার। খ্যাতনামা কমেডিয়ান উপমন্যুর ইনস্টাগ্রাম ভিডিও দেখে মুম্বইয়ের ওই রেস্তরাঁ থেকে দু'প্লেট ছোলে ভাটুরে অর্ডার করেন বলিউড অভিনেত্রী। এরপরই রাতারাতি বদলে যায় 'দিল্লি সে'র ভাগ্য।
আরও পড়ুন:
"আধ ঘণ্টার মধ্যেই এত ভিড় জমে যায় যে আমরা একেবারে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। 'দিল্লি সে' এখন প্রতিদিন ৩০০০-এরও বেশি প্লেট বিক্রি করে।..."
সংবাদমাধ্যমের কাছে জসপাল জানান, "১৩ সেপ্টেম্বর অভিষেক উপমন্যু 'ছোলে ভাটুরে' খেতে এসেছিলেন। তখন আমরা তাঁকে চিনতাম না। এরপর ১৪, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।" পরে তাঁরা জানতে পারেন যে ওই কমেডিয়ান তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে রেস্তোরাঁর কথা সুপারিশ করেছিলেন। এরপর বিরাট কোহলির বাড়ি থেকে একটি অর্ডার আসে। জুহুর বাংলোতে দুই প্লেট 'ছোলে ভাটুরে'র অর্ডার করেন তাঁরা। জসপাল প্রথমে প্রতারক বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে ব্যাংক ডিটেইলস দেখে জানতে পারেন ওই অর্ডার আদতেই বিরাট-অনুষ্কার বাড়ি থেকে এসেছে। আর সেই খাবার খেয়েই অনুষ্কা শর্মা ইনস্টাগ্রামে রেস্তোরাঁটিকে ট্যাগ করে লেখেন 'অবশেষে মুম্বইতে একদম দিল্লির মতো ছোলে ভাটুরে খুঁজে পেলাম।' জসপাল বলেন, "ওই পোস্টের পরই রেস্তোরাঁয় মানুষের ঢল নামে। আধ ঘণ্টার মধ্যেই এত ভিড় জমে যায় যে আমরা একেবারে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। 'দিল্লি সে' এখন প্রতিদিন ৩০০০-এরও বেশি প্লেট বিক্রি করে। আর মাসিক আয় ২ কোটি।"