'অসম্পূর্ণ হৃদয়কে কেউ...', আত্মঘাতী ইনফ্লুয়েন্সরের রহস্যময় পোস্ট! কে এই নিধি?
Kasturi Kundu
গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের তুলনায় জনপ্রিয়তার নিরিখে কোনও অংশে কম নন নেটপ্রভাবীরা। সাম্প্রতিক সময়ে সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সরদের প্রতি সাধারণ মানুষের যে অমোঘ আকর্ষণ সে কথা বলাই বাহুল্য। সপ্তাহের প্রথম দিনই মন খারাপ করা খবর। মাত্র তিরিশ বছরে আত্মঘাতী মধ্যপ্রদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সর নিধি তিওয়ারি (Nidhi Tiwari)।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার্স সংখ্যা যে কোনও তাবড় তারকার ফলোয়ার্সকে অনায়াসেই টেক্কা দিতে পারে। ফেসবুকে নিধির ফলোয়ার রয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৭ লক্ষ। এই জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সরের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকাতুর পরিচিতমহল। কে এই নিধি? মডেলিং, বিভিন্ন ইভেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে নিজের একটা আলাদা জগৎ তৈরি করেছিলেন বছর তিরিশের এই সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সর।
আরও পড়ুন:
২০২৪ সালে নিধি 'মিস প্রিটি ইন্ডিয়া' খেতাব জিতেছিলেন। সেই সঙ্গে চলচ্চিত্র দুনিয়াতেও নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন। জনপ্রিয়তা যখন মধ্যগগনে ঠিক সেই সময়ই জীবনের মোহ মায়া ত্যাগ করেন নিধি। আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত পরিবার, বন্ধু ও অনুরাগীমহল। মৃত্যুর আগে নিধির শেষ পোস্ট ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য। সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই পোস্ট, যখানে জীবনের এক যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতির কথা শেয়ার করেছেন।
অন্য কাউকে ভালোবাসার আগে নিজেকে ভালোবাসা উচিত। বিদায়বেলায় জীবনের এই পাঠ পড়িয়ে গেলেন নিধি। এই পোস্টের নেপথ্যে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে কাছের মানুষজন। ঠিক কী লেখা নিধি তিওয়ারির পোস্টে? তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, 'এই অসম্পূর্ণ হৃদয়কে কেউ পূর্ণ করতে পারেনি। তাই আমি নিজেই নিজেকে পূর্ণ করেছি। এজন্যই বলা হয়, নিজেকে ভালোবাসো অন্য কাউকে নয়। নিজের মধ্যে নিজেকে খুঁজে নাও। আর কতদিন অন্যের মধ্যে নিজেকে খুঁজবে?'
নিধির লেখা বিশেষ অর্থ বহন করছে বলেই মনে করছেন প্রিয়জনেরা। প্রেমে আঘাত নাকি অন্য কোনও যন্ত্রণা? সেই উত্তরের খোঁজে নিধির কাছের মানুষ ও অনুরাগীমহল। মৃত্যুর আগের মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল তা এখন পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। ফোনের কল রেকর্ড, ডিজিটাল কার্যকলাপ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিধির পরিবারের দাবি অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় তিনি দিল্লিনিবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন।ফোনালাপের সময় তাঁদের মধ্যে তর্ক হচ্ছিল। এরপর নিধি নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। রাতে খাবারও খাননি। দীর্ঘসময় পর তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।