৫০০ টাকা ধার করে রাতভর পার্টি, দশ বছর নিখোঁজ 'মুন্নাভাই' খ্যাত অভিনেতা
Kasturi Kundu
সাল ২০০৩, সেবছর মুক্তি পেয়েছিল বলিউডের অন্যতম ব্লকবাস্টার মুভি 'মুন্নাভাই এমবিবিএস'। সঞ্জয় দত্ত ও আরশাদ ওয়ারসি অভিনীত এই ছবিতে খুব অল্প সময় স্ক্রিনে উপস্থিত থাকলেও দর্শকের নজর কেড়েছিল শিশুশিল্পী বিশাল ঠাক্কর। 'মুন্নাভাই এমবিবিএস'-এ অভিনয়ের পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। সিনেমার পাশাপাশি সিরিয়ালেও কাজের সুযোগ আসে তাঁর কাছে। একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দক্ষ অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেন। ঠিক সেই সময়ই ছন্দপতন। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান বিশাল।
মায়ের থেকে পাঁচশো টাকা ধার নিয়ে বাড়ি থেকে বেরনোর পর আজ পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি। এক দশক পেরিয়ে বিশাল ঠাক্করের নিখোঁজ হওয়ার রহস্য আজও অমিমাংসিত। বর্তমানে ২০২৬-এ বিশালের বয়স প্রায় ৪০ বছর হওয়ার কথা। দশ বছর পর আজও স্পষ্ট নয় সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল। ২০১৯ সালে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশাল তাঁর মাকে নিয়ে 'স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স' সিনেমাটি দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু, বিশালের মা তাঁর সঙ্গে যাননি।
আরও পড়ুন:
ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর সেই আক্ষেপ আজও বহন করে চলেছেন। সেদিন যদি বিশালের আবদার শুনতেন তাহলে একসঙ্গে মা ও ছেলের কাটানো কিছু ভালো মুহূর্তের স্মৃতি আগলে রাখতে পারতেন! রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বিশাল তাঁর মায়ের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা পর, তখন ঘড়ির কাঁটায় রাত প্রায় একটা। বাবা মহেন্দ্রকে মেসেজে লেখেন, 'আমি একটি পার্টিতে যাচ্ছি। কাল দেখা হবে।' পরিবারের উদ্দেশে সেটাই ছিল বিশালের শেষ বার্তা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল নতুন বছরের প্রথম রাত বান্ধবীর সঙ্গে আহমেদাবাদ হাইওয়ের কাছে একটি রিসর্টে কাটিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাঁরা হোটেলে চা খেয়ে আন্ধেরিতে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যান। ২০১৬ সালে পুলিশ কর্মকর্তা জয়বন্ত পাডভি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিশালের নিখোঁজ হওয়ার পর বান্ধবী তাঁকে খোঁজার বহু চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। এমনকী বিশালের ফোনও বন্ধ। পুলিশের মতে, পয়লা জানুয়ারি বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শেষবার অটো রিক্সায় দেখা যায় বিশালকে।
দুপুর ১২টা বেজে ১০ মিনিটে বিশাল ফেসবুকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। সেটিই ছিল তাঁর শেষ সোশাল মিডিয়া পোস্ট। এর কিছুক্ষণ পরই ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং আর কখনও চালু হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এন. এ. কুলকার্নি সাম্প্রতিক অতীতে জানিয়েছিলেন, পুলিশ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি যে ঘটনাটি খুন, অপহরণ, নাকি বিশাল স্বইচ্ছায় অন্তরালে চলে গিয়েছেন। পুলিশের রিপোর্টে আরও উল্লেখ ছিল, বান্ধবীর সঙ্গে বিশালের ঝগড়া হয়েছিল। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিশালের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরিবারের প্রতি এই অসম্মান সহ্য করতে পারেননি বলেই জানা যায়। সেই সময় তিনি নাকি কাজও হারিয়েছিলেন!