'নিখুঁত না, মাটির গভীর থেকে উঠে আসা হিরে', তাপস পালের জন্মদিনে খোলা চিঠি নন্দিনীর
Kasturi Kundu
২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চলচ্চিত্র জগতে নক্ষত্রপতন। জীবনাবসান হয় বাংলা সিনেদুনিয়ার কিংবদন্তি অভিনেতা তাপস পালের (Tapas Paul)। দেখতে দেখতে ছ'বছর অতিক্রান্ত। বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হত ৬৮ বছর। কুড়ি সাল থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রয়াত অভিনেতাকে জন্মদিনের (Birthday) শুভেচ্ছা জানানোর একমাত্র মাধ্যম হিসেবে স্ত্রী নন্দিনী পাল বেছে নিয়েছেন সোশাল মিডিয়াকে। এখানেই খোলা চিঠিতে স্বামীর উদ্দেশে মনের কথা লেখেন নন্দিনী। ছাব্বিশের ২৯ সেপ্টেম্বরও তার ব্যতিক্রম হল না।
প্রয়াত অভিনেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন অর্ধাঙ্গিনী নন্দিনী। শুভেচ্ছাবার্তার শুরুতেই লাল হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে লিখেছেন, 'শুভ জন্মদিন, আমার স্বামী'। এরপর প্রতি পংক্তিতেই যেন ফুটে উঠেছে মানসিকযন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। আজ তিনি নেই, কিন্তু প্রতি নিঃশ্বাসে তাপস পালকে অনুভব করেন স্ত্রী নন্দিনী। আবেগঘন পোস্টে মনের কথা ব্যক্ত করে লিখেছেন, 'আজ তোমার জন্মদিনে তোমার শারীরিক অনুপস্থিতি এমন এক যন্ত্রণা নিয়ে আমাকে ছুঁয়ে যায় যা কোনও শব্দ দিয়ে পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অথচ একইসঙ্গে প্রতিটি মুহূর্তে আমি তোমাকে আমার পাশে অনুভব করি।'
আরও পড়ুন:
বাবার জন্মদিনের আগেই বিগ বসের ঘর থেকে বাড়ি ফিরেছেন তাপসকন্যা সোহিনী। সেই প্রসঙ্গে নন্দিনী মনের কথা উজার করে লেখেন, 'আজকের দিনটি আরও বিশেষ। কারণ আজ আমাদের মেয়ে বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। আর আমার মনের কোথাও যেন এক গভীর বিশ্বাস আছে তুমি পুরো সময়টুকু তোমার ছোট্ট মেয়েটার সঙ্গে ছিলে। ওকে দেখেছ, আগলে রেখেছ, নিজের মতো করে তাকে রক্ষা করেছ।'
জন্মদিনে শুধু স্বামীর প্রতি ভালোবাসা নিবেদন নয়, বাবা হিসেবেও তাঁর গুনগ্রাহী নন্দনী। শুভেচ্ছাবার্তায় স্মৃতিমেদুর মুহূর্তগুলোকে যেন আরও একবার মনের রঙিন ক্যানভাসে আঁকলেন! সোহিনীর জন্মের সময় শুটিং সেট থেকে ছুটি আসার দিনটার কথা আজকের দিনে যেন বড্ড বেশি মনে পড়ছে নন্দিনীর। বাবা হিসেবে তাপস পালকে একেবারে একশোতে একশো। স্বামী হিসেবেও তাপস পালকে ফুল মার্কস নন্দিনীর।
এই বিশেষ দিনে স্বামীর উদ্দেশে একজন স্ত্রীর মনের কথা, 'আমাদের বিয়ের বিয়াল্লিশ বছর হয়েছে। তুমি আজ শারীরিকভাবে আমাদের মধ্যে নেই কিন্তু তুমি আমার স্বামী এবং যতদিন না আমি চোখ বন্ধ করছি, ততদিন তুমি আমার স্বামী হয়েই থাকবে। আজ তোমাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। জীবনে তুমি আমাকে যে সবচেয়ে বড় উপহার দিয়েছ তার জন্য, আমাদের মেয়ে।'
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিয়ে লেখা চিঠিতে নন্দিনীর সংযোজন, 'তুমি নিখুঁত মানুষ ছিলে না। আর তুমি কোনও ল্যাবে তৈরি হিরেও ছিলে না। তুমি ছিলে মাটির গভীর থেকে উঠে আসা এক হিরে। কোথাও খানিকটা অমসৃণ, কোথাও অসাধারণ দীপ্তিমান। জীবন, ভালোবাসা, ভুল, অনুতাপ এবং অভিজ্ঞতা তোমাকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিল। আমি তোমার ভালো দিকগুলো দেখেছি, তোমার ত্রুটিগুলোও দেখেছি। দেখেছি তোমার নিঃস্বার্থতা আর দেখেছি সেই অনুতাপ যা নিজের করা ভুলগুলোর জন্য বয়ে বেড়িয়েছিলে।' আকাশের কোনও এক কোণে থাকা প্রিয় মানুষটার উদ্দেশে মনের আরও অনেক জমা কথা লিখেছেন তাপসঘরনি নন্দিনী পাল।