'তোকে খুব মনে পড়ে রে, একসঙ্গে কত গল্প-হাসি', তাপস পালের জন্মদিনে আবেগপ্রবণ প্রসেনজিৎ
Sandipta Bhanja
আট-নয়ের দশকে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দুই মহীরুহ- তাপস পাল এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। একজনের জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর। আরেকজনের ৩০ সেপ্টেম্বর। বছর ছয়েক আগে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছেন বন্ধু তাপস। একসঙ্গে কত কাজ, কত হাসি-ঠাট্টা, সময় কাটানো, প্রয়োজনে বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে পরিচালক-প্রযোজকদের কাছে পরস্পরকে এগিয়ে দেওয়া। আজও সেসব স্মৃতি সযত্নে আগলে রেখেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বন্ধু তাপস পালের জন্মদিনে স্মৃতির পাতা থেকে সেসব রঙিন মুহূর্তই তুলে ধরলেন বুম্বা।
কখনও তাঁরা একসঙ্গে ছবি করছেন, কখনও একে-অন্যের শুটিংয়ে ঢুঁ মেরে যাচ্ছেন, কখনও বা নির্ভেজাল আড্ডায় বসেছেন। পর্দার বাইরেও একে-অপরের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন।
সালটা ১৯৮৭। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের 'অমরসঙ্গী' এবং তাপস পালের 'গুরুদক্ষিণা',সেবছর খুব কম সময়ের ব্যবধানে ব্লকবাস্টার তকমা পেয়েছিল দুই সিনেমা। পরবর্তীতে 'আপন আমার আপন', 'সংঘর্ষ', 'প্রতিশোধ', 'চোখের আলোয়', 'প্রাণের চেয়ে প্রিয়', 'নয়নের আলো'র মতো একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজও করেছেন দুই সুপারস্টার। আশির দশকে বাংলা সিনেমার নায়ক বলতে চিরঞ্জিৎ-তাপস-প্রসেনজিৎ। কখনও তাঁরা একসঙ্গে ছবি করছেন, কখনও একে-অন্যের শুটিংয়ে ঢুঁ মেরে যাচ্ছেন, কখনও বা নির্ভেজাল আড্ডায় বসেছেন। পর্দার বাইরেও একে-অপরের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন। অভিনেতাদের এহেন 'ভাইচারা' রসায়ন পছন্দ করতেন অনুরাগীরাও। কিন্তু আজ সবটাই স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি। বছর ছয়েক আগে ২০২০ সালের এই সেপ্টেম্বর মাসেই ইহলোকের মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন তাপস পাল। বেঁচে থাকলে আজ ৬৮ বছরে পা দিতেন। আর বন্ধুর জন্মদিনে স্মৃতির সরণি বেয়ে পুরনো সেই দিনের কথাই মনে করলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
রাত পোহালেই ৬৪ বছরে পা দেবেন তাপসের প্রিয় 'বুম্বা'। তার আগের দিন বন্ধুর জন্মদিনে আবেগে ভাসলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। একটা সময়ে বছরের পর বছর জন্মদিনের কেক একসঙ্গে কেটেছেন দু'জনে।
অতীতে ফ্রেমবন্দি এক হাসিমাখা স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে প্রসেনজিৎ লিখেছেন, 'একসঙ্গে কত বছর, কত গল্প, কত হাসি… ২৯ শে সেপ্টেম্বর এলেই আজও কত স্মৃতি মনে পড়ে। তোকে খুব মনে পড়ে রে। শুভ জন্মদিন রে তাপস। যেখানে থাকিস, ভালো থাকিস।' রাত পোহালেই ৬৪ বছরে পা দেবেন তাপসের প্রিয় 'বুম্বা'। তার আগের দিন বন্ধুর জন্মদিনে আবেগে ভাসলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। একটা সময়ে বছরের পর বছর জন্মদিনের কেক একসঙ্গে কেটেছেন দু'জনে। রাতের পর রাত সিনেমা, ব্যক্তিগত জীবন, কেরিয়ার নিয়ে আড্ডা দিতেন। তবে রাজনীতি যোগের পর থেকেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে ধীরে ধীরে সরতে থাকেন তাপস পাল । তবে বন্ধু বুম্বার কাছে তাপস কিন্তু চিরকাল বাংলার সিনেশিল্পের এক উজ্জ্বল শিল্পী। তাই তো তাপস পালের মৃত্যুর পর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, "বন্ধু, তুই শিল্পী ছিলিস, থাকবি। আর দেখিস, তোকে মানুষ শিল্পী হিসেবেই মনে রাখবে। আর মনে রাখবে তোর ওই হাসিটা। ভালো থাকিস বন্ধু।"