'নারীরা পুরুষদের পাপোশ নন', গোবিন্দার পরকীয়া গুঞ্জনে 'কর্মফল' মনে করালেন স্ত্রী সুনীতা
Sandipta Bhanja
এই মুহূর্তে আপনি আলোচনার কেন্দ্রে। এরই মাঝে কলকাতা সফরে এলেন কেন?
- কলকাতার সঙ্গে আমার আত্মিক যোগ। আমার মা-বাবার বিয়ে এই শহরে, পার্ক স্ট্রিটে আমাদের বাড়ি ছিল। বাবা সিনে পরিবেশক ছিলেন। এখনও অনেক আত্মীয়রা আছেন। দার্জিলিঙে আমার বাংলো রয়েছে। এবারেও এসেই দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে গিয়েছিলাম। যখনই মনে হয় আত্মার শান্তি দরকার তখনই আমি কলকাতায় ছুটে আসি।
আপনার অভিনীত প্রথম ছবি মুক্তির অপেক্ষায়। কতটা এক্সাইটেড?
- ছবির পরিচালক সাজিদ খান এবং প্রযোজক একতা কাপুর। আমি আমার ছেলের সঙ্গে অভিনয় করেছি। ছবিতেও আমি যশের মায়ের চরিত্রেই। দর্শকের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি। আমি তো প্রথাগত অভিনেত্রী নই। আমাকে যেমন বলা হয়েছে, ঠিক তেমনই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।
আরও পড়ুন:
"কাউকে মিথ্যে বলে ঠকিয়ে, কাউকে দুঃখ দিলে সেই ফল পরজন্মে নয়, এই জন্মেই পেতে হয়। ভগবানের লাঠির আঘাত মারাত্মক।"
অনেকেই 'জাজড' হওয়ায় মন খুলে কথা বলতে পারেন না। মন খুলে কথা বলতে আপনি কতটা স্বচ্ছন্দ?
- কেন মন খুলে কথা বলতে পারব না? অসুবিধা কোথায়? আমি তো মিথ্যে বলি না। সত্যি কথা বলতে ভয় কীসের! শিল্পীদের সবকিছুই এখন ভীষণ ওপেন। তাই লুকিয়ে রাখার কোনও চেষ্টা নেই আমার। আমার বিশ্বাস, মিথ্যে বললে ঈশ্বর সেই হিসেব রাখেন। কর্ম সব সময় ফল দেয়।
আপনি কর্মফলে বিশ্বাসী?
- ভীষণভাবে বিশ্বাস করি। কাউকে মিথ্যে বলে ঠকিয়ে, কাউকে দুঃখ দিলে সেই ফল পরজন্মে নয়, এই জন্মেই পেতে হয়। ভগবানের লাঠির আঘাত মারাত্মক।
বর্তমান সময়ে সম্পর্কে ‘ট্রাস্ট ইস্যু’ একটা মারাত্মক সমস্যা। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
- এখন কাউকে বিশ্বাস করতে নেই। শুধু নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হয়। এই বয়সে এসে বুঝেছি শুধু নিজের ভালো ভাবো। নিজের ভালোর জন্য বাঁচো। নিজে উপার্জন করো, নিজের শর্তে বাঁচো। তাহলে ভালো থাকবে।
নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার আপনিও। এগুলো প্রভাব ফেলে?
- নেগেটিভ পাবলিসিটি ইজ ইন থিং। সবার পিছনে নেগেটিভ কথা বলা হয়। আমার কিছু যায় আসে না। আমি যেহেতু ঠোঁটকাটা, তাই আমাকে নিয়ে একটু বেশি খারাপ মন্তব্য হয়। কিন্তু আমি এগুলোকে নেগেটিভ পাবলিসিটি হিসেবেই দেখি।
"আমি তো গোবিন্দার পায়ে পড়তে পারি না। গোবিন্দা যদি সেখানে খুশির সন্ধান পায় তাহলে থাকুক। আমাদের দুটি সন্তান রয়েছে।"
গোবিন্দার সঙ্গে আপনার দাম্পত্য নিয়ে চর্চা চলছে। আপনি গণেশ দর্শন করে আসার পরেই গোবিন্দা কোমল রানিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। বিষয়টি আপনার মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলেছিল?
- আমি শুধু এটুকুই বলব ঈশ্বর তাঁর ভালো করুন। শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যেভাবে চলছে চলুক। আমি নিজের জীবনে ফোকাস করতে চাই।
গোবিন্দার দ্বিতীয় বিয়ের জল্পনাও ভীষণভাবে শোনা যাচ্ছে। সুনীতা-গোবিন্দার দাম্পত্যের অবস্থান কী?
- আমি কী করতে পারি! আমি তো গোবিন্দার পায়ে পড়তে পারি না। গোবিন্দা যদি সেখানে খুশির সন্ধান পায় তাহলে থাকুক। আমাদের দুটি সন্তান রয়েছে। আমাদের ডিভোর্স হয়নি। সেখানে বিয়ে কীভাবে হতে পারে? যদি সেটা হয়েও থাকে ভালোবাসা ভিক্ষার জিনিস নয় বা ছিনিয়ে আনার জিনিসও নয়। আমি আমার আত্মসম্মানে বাঁচি। গোবিন্দা তাঁর জীবনে সুখী, আমি আমার জীবনে সুখী।
"সব মহিলাদের বলব নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা ভীষণ জরুরি। নারী বা স্ত্রীরা কখনওই পুরুষের ‘ডোরম্যাট’ নন। স্ত্রী স্বামীর বাড়ির পরিচারিকাও নন।"
নিজের পরিচয় তৈরি করে অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্তটা অনেক দেরিতে নিলেন বলে আক্ষেপ হয়?
- না, আমার আক্ষেপ নেই। আমি আমার সন্তানদের বড় করেছি। বাবা-মা দুজনেই কাজ করলে আমার বাচ্চাদের কে দেখত? আমি সব মহিলাদের বলব নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা ভীষণ জরুরি। নারী বা স্ত্রীরা কখনওই পুরুষের ‘ডোরম্যাট’ নন। স্ত্রী স্বামীর বাড়ির পরিচারিকাও নন। নিজের পায়ে দাঁড়ান। নিজের পরিচয় গড়ে তুলুন। আমি যদি ৫৬ বছর বয়সে এসে নতুন করে শুরু করতে পারি, তাহলে আপনারাও পারবেন। আমি ইউটিউব থেকে জার্নি শুরু করেছিলাম। এখন আমার অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন। শুধু আত্মবিশ্বাস আর ইচ্ছেশক্তিটা প্রয়োজন।