Mahishasur Marddini Review: সিনেমার ব্যাকরণ ভাঙতে পারল ঋতুপর্ণা-শাশ্বত-পরমব্রতর ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’? পড়ুন রিভিউ

03:41 PM Nov 26, 2022 |
Advertisement

চারুবাক: ‘হৃদমাঝারে’ এবং ‘আহা রে’র মতো পরিচ্ছন্ন ছবি যে রঞ্জন ঘোষ বানিয়েছিলেন, সেই রঞ্জন তাঁর সিনেমা ভাবনায় এবার এক নতুন দিশা যেন দেখতে চাইছেন। সিনেমার চলতি ব্যাকরণ ভেঙে তিনি এবার সম্ভবত নাটক ও সিনেমার এক সন্ধি করতে চাইছেন। তাঁর নতুনতম ছবি ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’র (Mahishasur Marddini) পটভূমি দুর্গাপুজোর চতুর্থী বা পঞ্চমীর দিন।

Advertisement

googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1652782001027-0'); });

Advertising
Advertising

window.unibots = window.unibots || { cmd: [] }; unibots.cmd.push(()=>{ unibotsPlayer('sangbadpratidin'); });

এক অভিজাত পরিবারের পুজোর দালান অকুস্থল। সেই জায়গাটিই যেন নাটকের মঞ্চ। সেখানেই একে একে উপস্থিত হন একদল যুবক-যুবতী (ঠাকুর সাজাতে), পুরুত-ঠাকুর, রাজনৈতিক নেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, বামপন্থী নেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সাহেব ভট্টাচার্য এবং ছবির প্রধান মহিলা চরিত্র ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। যে ক’দিন বাদেই মহাকাশ অভিযানে যাবার জন্য বিদেশ যাবে। অর্থাৎ একদিকে বিজ্ঞান, অন্যদিকে দুর্গতিনাশিনী দুর্গার আবাহন। যেখানে যুক্তির চাইতে ধর্মীয় আবেগে ও দুর্বলতার প্রতি বেশি মনোযোগ।

googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1652782050143-0'); });

[আরও পড়ুন: এক ছবিতেই ফ্যান! জন্মের ১ মাসের মধ্যেই বার্সেলোনার বিশেষ স্বীকৃতি পেল রণলিয়ার মেয়ে]

ছবির শুরুতেই দেখানো হল একটি কিশোরী স্কুলছাত্রী ধর্ষিতা। জানানো হল একদিকে কুমারী পুজো হচ্ছে, অন্যদিকে চলছে কুমারী ধর্ষণ। তাহলে নারী সৌন্দর্য শুধুই সম্পদ, নাকি বিপদও? এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে চিত্রনাট্যে। পুজোর (Durga Puja 2022) দালানটি যে একটি মঞ্চ সেটা বুঝতেই অনেক সময় লাগে, যখন শাশ্বত (Saswata Chatterjee) ও ঋতুপর্ণা ঢুকে পড়েন তখনই বোঝা যায় পরিচালক মঞ্চের পরিবেশ তৈরি করতে চলেছেন। পরদিন সকালে দুর্গামূর্তির সাজসজ্জা পূর্ণ করা হবে, তারই প্রস্তুতি চালাচ্ছে তরুণদের দল। কারণ বাড়িটা আদলে এইসব তরুণ ছাত্রছাত্রীদের আবাস। ঋতুপর্ণা যাঁদের প্রায় মাতৃসমা অভিভাবক।

নারী ধর্ষণের গল্প শুধু নয়, নারী নির্যাতনের নানা কাহিনি শোনা গেল ঋতুপর্ণা ও পরমব্রতর (Parambrata Chattopadhyay) মুখে। মাঝে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনাও এসে পড়ে, যদিও সেটা বড্ড সাজানো লাগে। হ্যাঁ, মানছি রঞ্জন ঘোষ নাটকের সঙ্গে সিনেমার বন্ধুত্ব করাতে চেয়েছেন। কিন্তু সেটা মসৃণভাবে হলো কোথায়? একমাত্র শেষ দৃশ্যে ড্রপসিন পড়তে বোঝা গেল – এতক্ষণ পরিচালক পুজোর দালানে এক সাজানো নাটকের আয়োজন করেছিলেন। দালানের মাঝখানে সারারাত জ্বলল এক আগুন। সেটা সম্ভবত ক্যামেরাম্যান শুভদীপ রায়ের কাজের সুবিধার জন্য, তাছাড়া অন্য কোনও কারণ পরিষ্কার নয়।

সাহেব ভট্টাচার্যর (Shaheb Bhattacherjee) চরিত্রটির আগমন-নিষ্ক্রমণ চিত্রনাট্যে বাড়তি কিছু যোগ করল কি? আরও একটা প্রশ্ন, নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গ এলে ধর্ষণ, সংসরিক অসাম্য, পুত্র সন্তান না হওয়ার জন্য নারীকেই দায়ী করার মত বিষয়গুলি চিত্রনাট্যে রাখতেই হবে এমন তো কোনও কথা কোথাও লেখা আছে কি? ছবির মূল বক্তব্য সমাজের অসুর এবং দস্যুদের চিহ্নিত করতে হবে, নিকেশ করতে হবে তাদের। দুর্গাপুজোর আসল উদ্দেশ্য সেটাই। কিন্তু পুরো ছবি দেখে দর্শক কি সেই উপলব্ধি নিয়ে হল থেকে ফিরবেন?
আসলে সিনেমার ফর্ম ভাঙতে চেয়ে রঞ্জন। তবে বিষয়টি বেছেছেন তাতে নাটক এবং সিনেমার মেলবন্ধন ঠিক হল না। গণ্ডগোল হয়ে গেল চিত্রনাট্যে এবং চিত্রায়নে। তবে তাঁর প্রচেষ্টাকে একেবারেই ফেলে দেওয়া যাবে না, দর্শক যদি ছবিটা পুরো দেখেন তাহলে একটু অন্যরকম ভাবনার রসদ পাবেন। কিন্তু সেই রসদ তাঁকে কতটা নির্মল আনন্দ দেবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। অভিনয়ে ঋতুপর্ণা, শাশ্বত, পরমব্রত, সাহেব, কৌশিক কর, পঙ্কজ মুন্সী, পৌলমী, শ্রীতমা সকলেই মঞ্চে নাটকের স্টাইলে অভিনয় করেছেন এবং রঞ্জনের নাট্য ভাবনার শরিক হওয়ার চেষ্টা করেছেন! অভিজিৎ বসুর আবহ অবশ্যই ছবির চলনের সঙ্গে সাযুজ্য রাখতে প্রয়াসী, কিন্তু চিত্রনাট্যই যে বেপথু। রঞ্জনকে একটিই কথা বলার – সিনেমার ব্যাকরণ এবং নাটকের ব্যাকরণের বন্ধুত্ব স্থাপন করতে হলে আরও একটু সময়, অভিজ্ঞতা এবং গভীর নান্দনিক ভাবনার সমন্বয় দরকার।

সিনেমা – মহিষাসুরমর্দ্দিনী
অভিনয়ে – ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সাহেব ভট্টাচার্য, পৌলমী দাস, কৌশিক কর, শ্রীতমা দে, অরুণিমা হালদার, অভ্যুদয় দে প্রমুখ।
পরিচালনায় – রঞ্জন ঘোষ

This browser does not support the video element.

Advertisement
Next