থ্রিলার ও ভীতির ককটেল, ত্রিকোণ প্রেমের গল্পে কতটা জমল 'অটবী'?
Kasturi Kundu
দুই বোন ডিম্পল (মধুমিতা) ও তানিয়া (ইনিয়া)। তাদের সখ্য ও ভালোবাসা গভীর। শিক্ষিকা তানিয়ার হঠাৎ উধাও হওয়ায় উদ্বিগ্ন দিদি। খবর আসে সে নাকি চামসুট্টির গভীর জঙ্গলে হারিয়ে গেছে। সুতরাং দিদি বের হয় তাকে খুঁজতে। পরিচালক সৌমাভ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র বোনকে খোঁজা নিয়ে থ্রিলার বানালে মন্দ হত না। কিন্তু এর মধ্যে তিনি ত্রিকোণ প্রেমের গল্পও জুড়ে দিয়েছেন। সেটা উহ্য থাক! দর্শক ছবি শেষ হওয়ার পরেও বোধহয় ধন্দে থাকবেন। ঝাড়গ্রামের কাছে চামসুট্টি জঙ্গলের অস্তিত্ব পরিচালক ও চিত্রনাট্যকারের কল্পনা ও মস্তিষ্ক প্রসূত!
সেই কল্পনায় ঢুকে পড়েছে ‘প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সত্ত্বেও দিদি ডিম্পল একা নন, সঙ্গী হয়ে পড়ে বাংলাদেশি সাংবাদিক সাকিব (সাহেব) এবং ‘নো এন্ট্রি’ জঙ্গলের এক গাইড শমীক (রাহুল অরুণোদয়)! ওরা ঘুরতে ঘুরতে দেখতে পায় গাছের গোড়ায় সিঁদুর মাখানো মানুষের মাথার কঙ্কাল, হাড়গোড়, লাল শালু জড়ানো গাছ! হয়তো কোনও তান্ত্রিকের আখড়া। আরও দেখা যায়। সুদৃশ্য তাঁবু খাটিয়ে কে বা কারা সেখানে থাকেনও। এসব নিয়ে কোনও গোলমেলে প্রশ্ন তুলে আরও গোলমেলে উত্তর পাওয়ার চাইতে ওঁদের অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণের সঙ্গী হয়েই থাকুন!
আরও পড়ুন:
মন্দ লাগবে না একই জঙ্গলের মধ্যে ঘুরপাক খেতে খেতে সাকিব ও মধুমিতার আলাপচারিতা ও মৃদু ঘনিষ্ঠতার আভাস। তবে মানুষের ভয় জিনিসটা যে বাইরের নয়, নিজেরই মনের সৃষ্টি, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন পরিচালক। তার এই সাফল্যের পিছনে অবশ্য সাহেব, মধুমিতা ও রাহুল–তিন অভিনেতার পরিশ্রম অনেকটাই দায়ী। আরিয়ান আছেন, অথচ প্রায় নেই অবস্থায়।
চিত্রনাট্যে তাঁর জায়গা খুবই কম। দিনে-রাতে জঙ্গলের ফোটোগ্রাফি অবশ্যই ভালো। আবহ ছবির থ্রিলিং ব্যাপারটি জমাতে সাহায্য করেছে। সবচেয়ে অস্বস্তি লেগেছে আচমকা জংলি পোশাকে প্রান্তিকা দাশের ‘তোমার প্রেমে পইড়া...’ গানের সঙ্গে আইটেম ডান্স। একেবারেই অপ্রয়োজনীয় এই ছবির মুডের সঙ্গে।