দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Shaque Review

সন্তানের জন্য এক মায়ের একাকী লড়াই, কতটা জমল পরিণীতির ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’?

‘শক : ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এ মায়ের ভূমিকায় পরিণীতি চোপড়াকে ভালো মানিয়েছে। তবে গল্পটা আগেই আন্দাজ করা যায়। সিরিজ দেখে পর্যালোচনা করেছেন দেবত্রী ঘোষ।
Kasturi Kundu
12:20 PM Sep 29, 2026 IST
‘শক : ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এ মায়ের ভূমিকায় পরিণীতি চোপড়াকে ভালো মানিয়েছে। তবে গল্পটা আগেই আন্দাজ করা যায়। সিরিজ দেখে পর্যালোচনা করেছেন দেবত্রী ঘোষ।
'শক : ট্রাস্ট নো ওয়ান' রিভিউ। ছবি: পরিণীতির ইনস্টাগ্রাম

সদ্য মা হয়েছে অন্বিতা (পরিণীতি চোপড়া)। তার পরিবার, কাছের বন্ধুবান্ধব সকলেই খুশি। হাসপাতালে হাসি মুখে ফটো সেশন। আর তার কিছুক্ষণ পরেই মা যখন সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে (অপেক্ষা) বুকে জড়িয়ে ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই এক নার্স এসে বাচ্চাকে তুলে নিয়ে গেল নার্সারিতে রাখবে বলে। আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হলেও, আসলে অন্বিতার কোল থেকেই চুরি হয়ে গেল তার সন্তান। যতক্ষণে হাসপাতালের বাকি কর্মী ও অপেক্ষার স্বামী আলোক (তাহির রাজ ভাসিন) সেটা বুঝতে পারল, ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে।

পাহাড়-ঘেরা সিমলার ‘মিস্ট’ মাখা শহরকেই ‘মিস্ট্রি’র পটভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছেন পরিচালক রেনসিল ডি’সিলভা। সাতটি এপিসোড জুড়ে সাজিয়েছেন তাঁর গল্প। যে গল্পে এক মা তার হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে খুঁজছে আট বছর ধরে। তার পরিবার হাল ছেড়ে দিলেও, সে হাল ছাড়ছে না। গোটা শহর, তার মানসিক স্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, সেই সবে কান না দিয়ে সে চালিয়ে যাচ্ছে তার তল্লাশি। শুধু এটুকুই একটা জোরালো গল্পের ভিত তৈরি করার জন্য যথেষ্ট ছিল। যেখানে দর্শক গল্পের মূল সংকটের সঙ্গে শুরু থেকেই ওয়াকিবহাল। এখন অন্বিতার সঙ্গে তাঁরাও একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে – কেন তার সন্তানকেই কেড়ে নেওয়া হল? এর পিছনের উদ্দেশ্যই বা কী?

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

'শ্যক : ট্রাস্ট নো ওয়ান'

‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ (Shaque: Trust No One) -এর গল্পে অবশ্য আরও অনেক কিছু এনে ফেলেছেন পরিচালক, যিনি নিজেই এই গল্পের লেখক। অন্বিতাকে ঘিরে এমন কিছু চরিত্রের সৃষ্টি করেছেন, যাদের ওপর ওপর দেখে সন্দেহ না হলেও প্রত্যেকে কিছু না কিছু সত্যি লুকিয়ে রেখেছে তার কাছ থেকে। স্বামী আলোক থেকে শুরু করে শাশুড়ি মধু (সোনি রাজদান), বান্ধবী শ্রেয়া (হারলিন শেঠি), তার স্বামী ভাস্কর (সুমিত ব্যাস) ও সাক্ষী (জেনিফার উইঙ্গেট)। সকলেই এত বছর কেটে যাওয়ার পর অন্বিতাকে বলছে, অপেক্ষা ফিরে আসবে সেই আশা ছেড়ে দিতে। কিন্তু মায়ের মন মানতে চায় না। তাকে একমাত্র সঙ্গ দেয় ও তার কথা বিশ্বাস করে ইন্সপেক্টর খুরানা (অনুপ সোনি)।

এছাড়াও পরিচালক এই গল্পে অবৈধ সারোগেসি, সম্পর্কে বিশ্বাসঘাতকতা থেকে শুরু করে ডাইনিবিদ্যা ও ভ্রমের মতো অনেক কিছু ঢুকিয়ে মূল ঘটনা ও তার গতিকে দুর্বল করে ফেলেছেন। এই সিরিজের মূল উদ্দেশ্য ছিল দর্শক যাতে সকল চরিত্রকেই সন্দেহ করেন। কিন্তু কেন্দ্রচরিত্রেরই কাউকে সন্দেহ করার মতো জোরালো কারণ দেওয়া হয়নি গোটা গল্প জুড়ে। আর এটা দুর্বল চিত্রনাট্যের ফল। এমনকী, এর ফলে এই গল্পের আবেগঘন প্রেক্ষাপটও কোথাও গিয়ে যেন হোঁচট খেয়েছে।

'শ্যক : ট্রাস্ট নো ওয়ান'-এর দৃশ্য

ওটিটি সিরিজে পরিণীতি চোপড়ার এটি প্রথম কাজ। বিধ্বস্ত, ক্লান্ত, বিভ্রমে ভোগা অথচ হাল না ছাড়া এক মায়ের ভূমিকায় তাঁকে ভালো মানিয়েছে। আলোকের চরিত্রটি এখানে ধূসর, যেখানে তাহির রাজের অভিনয়ও ভালো লাগে। হারলিন শেঠি ও সুমিত ব্যাস, দুজনেই দক্ষ অভিনেতা কিন্তু তাঁদের চরিত্র দুটির আরও মনযোগী চিত্রনাট্যের প্রয়োজন ছিল। অনুপ সোনির উপস্থিতি ভালো লাগলেও সবচেয়ে দুর্বল চরিত্র দেওয়া হয়েছে সোনি রাজদানকে। জেনিফার উইঙ্গেট স্বল্প পরিসরে জোরালো উপস্থিতির ছাপ রেখেছেন। ‘শ্যক’-এর মূল সমস্যা হল তিনটি এপিসোডের পরেই গল্প কোনদিকে এগোচ্ছে, তা সহজেই ধরে ফেলা যায়। আর সিরিজের ধারা যদি থ্রিলার হয়, তাহলে এটা কোনওভাবেই কাম্য নয়।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন