ভৌতিক লোককাহিনি নির্ভর থ্রিলার ছবি, কেমন হল সিদ্ধার্থ-তামান্নার 'দ্য ভান'?
Kasturi Kundu
হিন্দি ছবির জগতে সেই ১৯১৩ থেকে শুরু করে এই ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময়ে বেশ কিছু বিশেষ ঘরানার ধারা অন্তত কয়েক বছর ধরে দর্শককে মাতিয়ে রেখেছে। কখনও ইতিহাস, কখনও রোমান্টিক তো কখনও রহস্য, বিষয়ের বৈচিত্র্যে খামতি ছিল না কখনও। নব্বইয়ের দশকের শেষদিক ছিল কমেডি ও রমকমের যুগ। মাঝে বেশ কিছুটা সময় রোমান্টিক ও দেশপ্রেমের ধারা আবেগে ভাসিয়েছে দর্শককে। ক্রমশ হরর ও অলৌকিক কাহিনি সেই জায়গা নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বেশ কিছু ভৌতিক লোককাহিনি নির্ভর থ্রিলার ছবি সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে। ‘স্ত্রী’, ‘তুম্বাড’, ‘বুলবুল’ এই ধরনের কাহিনি নিয়ে দর্শকের মন জয় করেছে। একতা কপূর ও শোভা কাপুর প্রযোজিত, ‘পঞ্চায়েত’ সিরিজ খ্যাত দীপক কুমার মিশ্র পরিচালিত ‘দ্য ভান: ফোর্স অফ দ্য ফরেস্ট’ ( The Vvaan Force of the Forrest) ছবিটিও সেই একই ঘরানাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
লোকমুখে রটে যাওয়া আঞ্চলিক লোককথা, প্রাচীন বিশ্বাস আর দৈবশক্তি মিলেমিশে তৈরি হয়েছে গল্পের ভিত। ছট পুজোর ছুটি উপলক্ষে শহর থেকে তার পূর্বপুরুষের গ্রাম দেবাঞ্চলে এসে পৌঁছয় ঋষি (সিদ্ধার্থ মালহোত্রা) ও তার স্ত্রী মমতা (তামান্না ভাটিয়া)। এই গ্রামকে ঘিরে রয়েছে এক ঘন অরণ্য। সেই অরণ্যের মাঝখানে আছে সুপ্রাচীন বনদেবীর মন্দির। দেবীকে ঘিরে রয়েছে নানারকম লোককথা, অন্ধবিশ্বাস আর ভয়। বলা হয়, সন্ধ্যার পর কেউ এই জঙ্গলে প্রবেশ করলে তার আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। দেবীর বাহন বাঘের আক্রমণে প্রাণ যাবে তার। ঋষি এসব বিশ্বাস করে না। কিন্তু এক সাংবাদিকের জঙ্গলে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া থেকে তার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়।
আরও পড়ুন:
উন্নয়নের স্বার্থে জঙ্গল কেটে রাস্তা তৈরির প্রস্তাবে দীপককে (সুনীল গ্রোভার) সমর্থন জানালেও ঋষি নিজেই বুঝতে পারে না জঙ্গলে এমন কী আছে যা তাকে আকর্ষণ করে।মন্দিরের আবির্ভাব ও দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে পূজারীর গল্প তার অবিশ্বাস্য মনে হলেও চেনা চেনা লাগে যেন। অন্যান্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অনুপ সোনি, শ্বেতা তিওয়ারি, মিলিন্দ গুনাজি, অবতার গিল, মণীশ পল, সুলভা আর্য, দুর্গেশ কুমার। পুরনো লোককথা নির্ভর দৈবকাহিনিতে যেমনটা হয়ে থাকে এই গল্প তার চেয়ে খুব কিছু আলাদা নয়। ভয়, ভক্তি, ভালোবাসা, ক্রাইম থেকে আইটেম নাম্বার অবধি সবরকম মশলাই একসঙ্গে রাখা হয়েছে, ফলে দর্শক ছবিটা উপভোগ করবেন।
কিন্তু সমস্যা হয়ে গেল গল্পের ভিতর জটিলতা তৈরি করতে গিয়ে। প্রাচীন কাহিনির সূত্র স্থাপন করতে গিয়ে গল্প কিছুটা শিথিল হয়ে পড়ে। এছাড়া জোর করে আইটেম গান রাখার কারণেও গল্পের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। ভাবনাটা এরকম যে, ছবিতে তামান্না থাকবেন আর তিনি নাচবেন না এমনটা তো হতেই পারে না। যদিও মূল প্লট সবসময়েই পুরুষতন্ত্রের ধারাকে বয়ে নিয়ে যাবে। তাই দেবীর মহিমা প্রচার করতে শেষমেশ আধমরা অবস্থা থেকে জেগে উঠে অস্ত্র ধরতে হয় সেই পুরুষ চরিত্রকেই।
ছবিতে সিদ্ধার্থ প্রায় একাই একশো। স্টাইল এবং অভিনয় দু’দিক দিয়েই তিনি যথেষ্ট নায়কোচিত ভূমিকা রেখেছেন। তামান্নার বিশেষ কিছু করার ছিল না। অনুপ, শ্বেতা, মিলিন্দ প্রত্যেকেই নিজের চরিত্রের সঙ্গে সুবিচার করেছেন। ভৌতিক ছবির নিয়ম মেনে অর্থহীন কিছু কমেডির দৃশ্যে প্রবীণ শিল্পী সুলভা ও মণীশের প্রয়াস ভালো। নিজের ইমেজ থেকে বেরিয়ে অন্যরকম চরিত্রে সুনীলের অভিনয় নজর কাড়বে। আইটেম গান ‘ঠুমক ঠুমক’ ও পুজোর গান ‘ছটি মাইয়া’ দর্শকদের আনন্দ দেবে। প্রথমার্ধে সময় কিছুটা কমিয়ে ছবির দৈর্ঘ্যকে লাগাম দেওয়া যেতে পারত।