গ্রীষ্মকালে পোকার হানা, জেনে নিন কীভাবে ধ্বংস হবে ডালের কীটশত্রু

05:00 PM Apr 07, 2021 |
Advertisement
Advertisement

বর্তমান পরিবেশে ডাল জাতীয় শস্যের ফলন কম হওয়ার একটা অন‌্যতম প্রধান কারণ হল
কীটশত্রুর আক্রমণ। লিখছেন বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ‌্যালয়ের কৃষি কীটতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ‌্যাপক ডঃ অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

প্রথম পর্ব

ডাল গরিব মানুষদের প্রোটিনের একমাত্র উৎস। যে কোনও ডাল থেকেই প্রায় ২০-২৫ শতাংশ প্রোটিন(Protien) পাওয়া যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে আমাদের প্রতিদিন গড়ে ৩২-৩৩ গ্রাম ডাল খাওয়া উচিত। ডালজাতীয় ফসল যে কেবল পুষ্টি গুণেই ভরপুর তা নয়, যে কোনও চাষযোগ‌্য জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এদের শিকড়ে রাইজোবিয়াম (Rhizobium)নামক ব‌্যাকটেরিয়া গুটি তৈরি করে বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন(Nitrogen) আবদ্ধ করে গাছকে সরবরাহ করে।

মুগ এরকমই একটি ডালজাতীয় ফসল। নিরামিষাশীদের কাছে মুগ প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস যা থেকে প্রায় ২৪ শতাংশ প্রোটিন পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, একশো গ্রাম পরিণত মুগ দানা থেকে ৬৩ গ্রাম শর্করা, ১.২ গ্রাম স্নেহপদার্থ, ১৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১৩২ মিলিগ্রাম ক‌্যালসিয়াম, প্রায় ৭ মিলিগ্রাম লৌহ ও ১২৪৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়। আমাদের দেশে এই ফসলটি সাধারণত বর্ষাকালেই চাষ হয়ে থাকে। তবে পশ্চিমবঙ্গের(West Bengal) মতো কিছু রাজ্যে গ্রীষ্মকালীন বা প্রাক-বর্ষাকালীন ফসল হিসাবে মুগচাষ বেশ লাভজনক।

googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1615550701979-0'); });

ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদের সর্বভারতীয় ডালশস‌্য গবেষণা প্রকল্পের দেওয়া তথ‌্যানুযায়ী ২০১৮-১৯ বর্ষে সারা দেশে গ্রীষ্মকালীন ফসল হিসাবে ০.৯৪ মিলিয়ন হেক্টর জমি থেকে ০.৫৭ মিলিয়ন টন মুগশস‌্য উৎপাদিত হয়েছিল এবং গড় ফলন ছিল হেক্টর প্রতি ৬০২ কিলোগ্রাম আর আমাদের পশ্চিমবঙ্গে ৭৫.৫ হাজার হেক্টর জমি থেকে ৫৬.৫ হাজার টন মুগ উৎপাদিত হয়েছিল যার গড় ফলন ছিল হেক্টর প্রতি ৭৪৮ কিলোগ্রাম। দৈনিক পুষ্টি যোগানোর ক্ষেত্রে ডালশস্যের ভূমিকা অপরিসীম হলেও আমাদের রাজ্যে এর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় যে অনেকাংশেই কম ডালের ক্রমবর্ধমান বাজার দরই তার প্রমাণ।

কৃষিবিজ্ঞানীদের সমীক্ষা অনুযায়ী বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে গড়পড়তা মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ ডাল উৎপন্ন হয় ফলে প্রয়োজনীয় ডালের বাকি অংশ অন‌্য রাজ‌্য থেকে আমদানি করতে হয়। রাজ্যে চাষিদের মধ্যে ডালশস‌্য চাষে অনীহার একটা অন‌্যতম কারণ হল যথোপযুক্ত ফলন না পাওয়া। বর্তমান পরিবেশে ডাল জাতীয় শষ্যের ফলন কম হওয়ার একটা অন‌্যতম প্রধান কারণ হল কীটশত্রুর আক্রমণ। বিভিন্ন কীটতত্ত্ববিদের মতে মুগে প্রায় ৬৫টি প্রজাতির কীটশত্রুর আক্রমণ লক্ষ‌্য করা যায় যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় প্রায় ৫টি প্রজাতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একটি সাম্প্রতিক তথ‌্য অনুযায়ী কোনও নিয়ন্ত্রণ ব‌্যবস্থা না গ্রহণ করলে মুগ-এর সম্মিলিত কীটশত্রু ফসলটির প্রায় ৩২.৯৭ শতাংশ ক্ষতি করতে পারে। আজ আমরা সেরকমই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কীটশত্রু নিয়ে আলোচনা করব।

[আরও পড়ুন: কৃষকদের নতুন আয়ের দিশা দেখাচ্ছে ড্রাগন ফল, জেনে নিন চাষের পদ্ধতি]

শুঁটি ছিদ্রকারী পোকা: পূর্ণাঙ্গ পোকা সবুজাভ বাদামী, উপরের ডানায় ‘ভি’ আকৃতির দাগ আছে, নিচের ডানায় ধূসর কালো সীমা বর্তমান। পাতার নিচের তলায়, ফুলের কুঁড়িতে, ফুলের উপরে, কচি শুঁটিতে এবং কখনও কখনও কাণ্ডের ডগায় স্ত্রী মথ ডিম পাড়ে। প্রথম অবস্থায় ডিমগুলি সাদা ও চকচকে হয়, পরে ডিম ফোটার সময় গাঢ় বাদামী রঙের হয়। শূককীটগুলি হলুদ, সবুজ, গোলাপি, কমলা, বাদামি, কালো ইত‌্যাদি বিভিন্ন রঙের হতে পারে। তবে মুগে আক্রমণকারী শুককীটগুলি সাধারণতঃ হালকা সবুজ বা হলুদাভ সবুজ রঙের হয়। শরীরের দুই পার্শ্বে হালকা এবং গাঢ় অনুদৈর্ঘ‌্য দাগ দেখা যায়। অপরিণত শূককীটগুলি সবুজ অংশ কুরে কুরে খায় আর পরিণত শূককীটগুলি শুঁটি ছিদ্র করে বীজগুলি খায়। শূককীটগুলি সাধারণতঃ শুঁটির ভিতরে মাথা ঢুকিয়ে রাখে এবং বাকি অংশ শুঁটির বাইরে বের হয়ে থাকে। এরা বহুভোজী। বিভিন্ন ডালশস‌্য ছাড়া এরা টমেটো, চিনাবাদাম, কার্পাস তুলা, সূর্যমুখী, ভুট্টা ইত‌্যাদি ফসলে এদের আক্রমণ লক্ষ‌্য করা গিয়েছে।

[আরও পড়ুন: ৮৫ হাজার টাকা কেজি! ভারতে প্রথমবার এই সবজি ফলিয়ে বাজিমাত বিহারের কৃষকের]

একদিকে এরা বহুভোজী, শুককীটগুলি নিশাচর আ বার প্রচলিত একাধিক কীটনাশকে এদের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে। তাই সুসংহত পদ্ধতিতে এদের নিয়ন্ত্রণ বাঞ্ছনীয়। সেইজন‌্য পরিচর্যামূলক ব‌্যবস্থা হিসাবে গ্রীষ্মকালীন গভীর চাষ, পরিচ্ছন্ন চাষ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বীজ বপন কার্যকরী। জমিতে পাখি বসার খুঁটি লাগাতে হবে। এছাড়া জমিতে বন্ধুপোকার সংরক্ষণ অবশ‌্যই দরকার। ফেরোমোন ফাঁদের মাধ‌্যমে নজরদারি দরকার। ভেষজ কীটনাশক হিসাবে নিম বীজের নির্যাস (৫%) ১% সাবান দ্রবণে মিশিয়ে বা নিমঘটিত অন‌্যান‌্য বাণিজ্যিক ফরমুলেশন ব‌্যবহার করা যেতে পারে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

জৈব কীটনাশক যেমন এইচ এ এনপিভি ২৫০ এলই প্রতি হেক্টরে ব‌্যবহার করা যায়। পরিবেশ বান্ধব কীটনাশক যেমন এমামেক্টিন বেঞ্জোয়েট ৫ এস জি (প্রতি লিটার জলে ০.৫ গ্রাম) বা রাইন‌্যাক্সিপির ২০ এস সি (প্রতি লিটার জলে ০.২৫ মিলি) বা ইনডক্সাকার্ব ১৪.৫ এস সি (প্রতি লিটার জলে ১ মিলি) বা স্পিনোস‌্যাড ৪৫ এস সি (প্রতি লিটার জলে ০.২৫ মিলি) ব‌্যবহার করতে হবে। তবে কোনও কীটনাশকই একটানা ব‌্যবহার করা চলবে না।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
Advertisement
Next