সাহেব রোগ সারলেই ঢেঁড়শে লক্ষ্মীলাভ, জেনে নিন সঠিক পদ্ধতিতে চাষের কৌশল

02:30 PM Aug 17, 2022 |
Advertisement

বিশ্বব্যাপী ঢেঁড়শ উৎপাদনের প্রায় ৭২ শতাংশ আসে ভারত থেকে। আমাদের দেশের রাজ্যগুলোর মধ্যে ঢেঁড়শ উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করেছে গুজরাট এবং দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ভারত থেকে রপ্তানিকৃত তাজা শাকসবজির প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়েই রয়েছে ঢেঁড়শ। তবে এর ক্রমহ্রাসমান উৎপাদনশীলতা আমাদের দেশের সবজি বিজ্ঞানীদের প্রতিনিয়ত ভাবাচ্ছে। বিশেষ করে সাহেব রোগের প্রকোপে ক্ষতি হচ্ছে উৎপাদনে। ঢেঁড়শের সাহেব রোগ সম্পূর্ণ রূপে প্রতিহত করতে হলে আমাদের প্রতিরোধী উৎস খুঁজতে হবে। লিখেছেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবজি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষক সৌরভ রায় ও রাজদীপ গুহ মল্লিক।

Advertisement

googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1652782001027-0'); });

ঢেঁড়শকে ইংরেজিতে বলা হয় ওকরা (Okra)। আমেরিকার বাইরের ইংরেজিভাষী অঞ্চলে এটি লেডিজ ফিঙ্গার (Lady’s Fingers) নামেও পরিচিত। ঢেঁড়শ একটি পুষ্টিকর গ্রীষ্মকালীন সবজি। আমাদের দেশে তথা পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত মাঘ মাসের শুরু থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত এই সবজির চাষ হয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সকল জেলাতেই কম বেশি এই ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে। চাষের স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে এবং বিভিন্ন আর্দ্রতাযুক্ত জলবায়ু অঞ্চলের সঙ্গে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারার জন্যে আমাদের দেশে এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সবজি।

window.unibots = window.unibots || { cmd: [] }; unibots.cmd.push(()=>{ unibotsPlayer('sangbadpratidin'); });

আমাদের দেশ, ভারতবর্ষ সারা বিশ্বের মধ্যে ঢেঁড়শ চাষে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ডের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ০.৫৩ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে ঢেঁড়শ চাষ হয়ে থাকে। যেখান থেকে বার্ষিক উৎপাদন হয় ৬.৩৬ মিলিয়ন টন এবং উৎপাদনশীলতা হল ১২ টন/ হেক্টর। বিশ্বব্যাপী ঢেঁড়শ উৎপাদনের প্রায় ৭২ শতাংশ আসে ভারত থেকে। আমাদের দেশের রাজ্যগুলোর মধ্যে ঢেঁড়শ উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করেছে গুজরাট এবং দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ভারত থেকে রপ্তানিকৃত তাজা শাকসবজির প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়েই রয়েছে ঢেঁড়শ। ৭.৫-১২.৫ সেমি লম্বা সবুজ, সতেজ ও ফাইবার মুক্ত ঢেঁড়শ সাধারণত ৫ কেজির পলি ব্যাগে বন্দি করে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো ও আমেরিকাতে সফল ভাবে রপ্তানি করা হয়।

Advertising
Advertising

googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1652782050143-0'); });

সারা বিশ্বজুড়ে ভারতবর্ষের ঢেঁড়শের বিপুল জনপ্রিয়তা থাকলেও এর ক্রমহ্রাসমান উৎপাদনশীলতা আমাদের দেশের সবজি বিজ্ঞানীদের প্রতিনিয়ত ভাবাচ্ছে। ভারতের মতো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সফল ঢেঁড়শ চাষে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে বিভিন্ন জৈবিক (biotic) ও অ-জৈবিক (abiotic) ফ্যাক্টরগুলো। জৈবিক বা biotic ফ্যাক্টর গুলো যেমন বিভিন্ন ক্ষতিকর ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, মাটির কৃমি ও ভাইরাস ইত্যাদি অধিক গুণমান সম্পন্ন ফসল উৎপাদনের পথে সর্বদা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হল কিছু উদ্ভিদ ভাইরাস। বলে রাখা ভাল, ঢেঁড়শ প্রায় ১৯টি ক্ষতিকর উদ্ভিদ ভাইরাস সংবেদনশীল। এই সংবেদনশীল ভাইরাসগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ক্ষতি করে ইয়েলো ভেইন মোজাইক ভাইরাস। এই ভাইরাসের আক্রমণ ঢেঁড়শের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। ফসলের গুণগত মানকেও প্রভাবিত করে। আর এই ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ হল ঢেঁড়শের সাহেব রোগ বা হলুদ শিরা রোগ। ইংরেজিতে একে বলা হয় ইয়োলো ভেইন মোজাইক ভাইরাল রোগ।

[আরও পড়ুন: একশো দিনের কাজে এবার ২০০ বিঘা জমিতে করলা চাষ, লাভের আশায় চাষিরা]

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, সাম্প্রতিক অতীতে আবিষ্কৃত ঢেঁড়শের ওয়াইভিএমভি (YVMV) সহনশীলতা সম্পন্ন কিছু ইন্টার-স্পেসিফিক (আন্ত: প্রজাতি) হাইব্রিড যেমন- অর্ক অভয়, অর্ক অনামিকা, পাঞ্জাব-৭, পার্তানি ক্রান্তি ইত্যাদি হাইব্রিডে প্রতিরোধী শক্তি বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং এই সব সহনশীল জাত হিসেবে মুক্তি পাওয়া হাইব্রিড গুলোতেও ভাইরাস আক্রমণের লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হল ভাইরাসের নতুন প্রজাতি বা অভিনব স্ট্রেইনের আগমন কিংবা, বিদ্যমান ভাইরাসের স্ট্রেইনগুলোর পুনঃসমন্বয় বা recombination। ভাইরাসের নতুন বা অভিনব স্ট্রেইনের উৎপত্তির জন্যে সহনশীল জাতগুলোর প্রতিরোধী ক্ষমতা বিনষ্ট হওয়ার ব্যাপারটা স্বাভাবিক। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সহনশীলতার কার্যক্ষমতা লোকেশন স্পেসিফিক এবং তা অবস্থান ভেদে ভিন্ন।

তাছাড়া সাদা মাছির নতুন পলিফেগাস “B” বায়ো-টাইপের আগমনের জন্যে ভাইরাসের হোস্ট রেঞ্জ বা ব্যাপ্তিও দীর্ঘতর হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঢেঁড়শের yellow vein mosaic virus জেমিনিভিরিডি পরিবারের বেগোমোভাইরাস গণের অন্তর্ভুক্ত। এই ভাইরাসের জিনোম দুটি একই আকারের DNA উপাদান দিয়ে নির্মিত (DNA A এবং DNA-B)। এই ভাইরাসের প্রধান বা মুখ্য বাহক হল সাদা মাছি (বেমেসিয়া টাবাসি)। এই ভাইরাস ভেক্টরের শরীরে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় না। কিন্তু, নানাবিধ উপায়ে প্রাপ্তবয়স্ক সাদা মাছি দ্বারা এক গাছ থেকে অন্য গাছে সহজেই ছড়ায়। স্ত্রী সাদা মাছি ভাইরাস সংক্রমণে পুরুষ সাদা মাছি অপেক্ষা অধিক সক্রিয়। এই ভাইরাল রোগটি ঢেঁড়শের বৃদ্ধির সমস্ত পর্যায়ে সংক্রমিত হয়, তবে, সবচেয়ে সংবেদনশীল পর্যায়টি ৩৫ দিন থেকে ৫০ দিন পর্যন্ত হয়। সাদা মাছির সংখ্যা এবং ভাইরাসের আক্রমণের তীব্রতা তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই ভাইরাসের দ্বিতীয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাহক হল ঢেঁড়শের লিফ হপার (অ্যামরাস্কা ডেভাস্টানস)।

১৯২৪ সালে কুলকার্নি তদানীন্তন বম্বেতে (বর্তমানে মুম্বই) সর্বপ্রথম এই ভাইরাসের আক্রমণের লক্ষণ চিহ্নিত করেন। উপ্পল, ভার্মা এবং কাপুর ১৯৪০ সালে এই ভাইরাসজনিত রোগটিকে yellow vein mosaic viral disease বলে অভিহিত করেন। এই ভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার এবং সংক্রমণের তীব্রতা অঞ্চল ও ঋতু ভেদে ভিন্ন হয়। উত্তর ভারতের কিছু অঞ্চল যেমন কার্নেল, উত্তরাখণ্ডের তরাই প্রদেশ, পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় এই রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে বর্ষাকালে। পশ্চিমবঙ্গে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ঢেঁড়শের জমিতে সাদা মাছির সংখ্যা সবচেয়ে কম থাকে এবং সাদা মাছির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে। আবার, দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশ যেমন তামিলনাড়ুর কয়েম্বাটোর, অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর, পশ্চিম ভারতের গুজরাটের সুরাট প্রভৃতি অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।

উত্তর ভারতে বর্ষাকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা বেশি থাকার দরুণ ভাইরাসের সংক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যায়। আবার, বর্ষা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকলে রোগের বাহক সাদা মাছির সংখ্যা ও কমতে থাকে। যার ফলস্বরূপ রোগের প্রকোপ থেকে গাছ অব্যাহতি পেতে থাকে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঢেঁড়শের yellow vein mosaic virus রোগের প্রকোপের হার নির্ধারণ করার জন্যে এক সমীক্ষা চালানো হয়েছে এবং সেই সমীক্ষায় জানা গেছে কর্ণাটকে এই রোগের প্রকোপের হার ২৩-৬৭.৬৭%, অন্ধ্রপ্রদেশে ৪৫.৮৯-৫৬.৭৮ % , উত্তরপ্রদেশে ৩৫.৭৬-৭৭.০০ % এবং কেরলে ৪২.৪৫-৭৫.৬৬%।

এই রোগ পাতার ক্লোরোফিলের বিভিন্ন স্তর এবং শিরা-উপশিরা হলুদ হওয়া, পাশাপাশি মোজাইক জাতীয় বিকল্প সবুজ এবং হলুদ প্যাচ, ছোট পাতা ও ছোট ফল এবং গাছের স্বল্প বৃদ্ধি দ্বারা চিহ্নিত করা যায়। প্রাথমিকভাবে গাছের সংক্রমিত পাতা গুলোর শিরা সমূহ হলুদ হয়ে যায়। পরবর্তী পর্যায়ে, সংক্রমণের মাত্রা আরও তীব্র হলে সমগ্র পাতা গুলো হলুদ হয়ে ওঠে। অঙ্কুরোদগমের ২০ দিনের মাথায় ভাইরাস আক্রমণ শুরু হলে গাছের পাতার বৃদ্ধি থমকে যায়। কচি পাতাগুলো সংক্রমিত হয়ে হলুদ ও বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং পরবর্তী সময়ে শুকিয়ে যায়। ফুল ফোটার পরে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত গাছের অগ্রভাগের পাতা এবং ফুলের অংশ গুলোর শিরা-উপশিরা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার দেখায়, একে বলে ভেইন ক্লিয়ারিং। এসব গাছ যদিও বা ফল উৎপাদনে সক্ষম থাকে, তবে, সে সব ফল ক্রমশ শক্ত ও হলুদ হয়ে যায় এবং ফলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

অঙ্কুরোদগম এর সময় থেকেই যদি ভাইরাস আক্রমণ শুরু হয়। তবে ফসলের ফলনের ক্ষতি হতে পারে ৯৪% অবধি। আবার, যেসব গাছে ভাইরাস আক্রমণ ৫০ দিন ও ৬৫ দিন এর মাথায় শুরু হয়, তবে ফলনের ক্ষতি হতে পারে যথাক্রমে ৮৪ % এবং ৪৯ % অবধি।দেশ-বিদেশের প্রজননবিদগণ এই রোগের সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তারা, মূলত স্থায়ী ও সুস্থিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিরোধী প্রজনন বা resistance breeding এর কথা বলেছেন। কিন্তু, এই উপায়ে তারা খুব সীমিত সাফল্য পেয়েছেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, yellow vein mosaic viral disease এর মতো ক্ষতিকর ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণের তীব্রতা ও বিস্তার বহুলাংশে ঢেঁড়শ চাষের জলবায়ু ও পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভরশীল।

ঢেঁড়শের যেসব বন্য, প্রতিরোধী ক্ষমতাসম্পন্ন অনাবাদী প্রজাতিগুলোকে প্রজননবিদ গণ resistance breeding এর আওতায় এনে ইন্টার-স্পেসিফিক (আন্ত:-প্রজাতি) হাইব্রিডাইজেশনের মাধ্যমে তাদের প্রতিরোধী সত্তাকে নতুন জাত বা ভ্যারাইটিতে প্রতিস্থাপন করার কথা বলেছেন, সেগুলোর মধ্যে Abelmoschus tuberculatus, Abelmoschus callei Abelmoschus manihot ssp. manihot উল্লেখযোগ্য। এই সকল অনাবাদী বন্য প্রজাতি গুলোর ভাইরাসের বিরুদ্ধে সহনশীলতা ও প্রতিরোধী ক্ষমতা তাদের সেকেন্ডারি মেটাবোলাইট এর উপর নির্ভর করে। সেকেন্ডারি মেটাবোলাইট হলো গাছের শরীরে সৃষ্ট এমন কিছু পদার্থ, যা গাছের বৃদ্ধি কিংবা বংশ বিস্তারে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে না, কিন্তু, গাছের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Abelmoschus callei নামক প্রতিরোধী ক্ষমতাসম্পন্ন বন্য প্রজাতিতে এক প্রকারের সেকেন্ডারি মেটাবোলাইট, ফেনল এবং এর কিছু অক্সিডেটিভ প্রোডাক্ট যেমন কুইনোন এর মাত্রার আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু, সাধারণ ঢেঁড়শ যা কিনা yellow vein mosaic viral disease এর প্রতি সংবেদনীল, তাতে, সেই ফেনল-এর মাত্রা অনেকটাই কম থাকে। গবেষকরা তাই মনে করেন, ফেনল এবং এর অক্সিডেটিভ প্রোডাক্ট গুলো ভাইরাসের কার্যকলাপ হ্রাসের মাধ্যমে এবং বাহকের সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সহনশীলতা প্রদান করে।রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে এই ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণ করা ফলপ্রসূ নয়। কারণ, ভাইরাস খুব সহজেই প্রতিলিপিকরণের মাধ্যমে চরিত্র পরিবর্তন করে। রাসায়নিকের সঙ্গে জৈবিক ভাবে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের এক সমন্বিত পথ বেছে নেওয়া উচিত। ৫% নিম বীজের নির্যাস স্প্রে করে ভেক্টরকে সীমাবদ্ধ করা যায়। নিম কিংবা সর্ষের তেল, রাইজোব্যাকটেরিয়া, ক্রজোফেরা তেল, পালমারোসা তেল প্রয়োগ করে কিছুটা সুফল পাওয়া যায়।

০.৫ % তেল এবং ০.৫ % কাপড় কাচা সাবানের মিশ্রণ প্রয়োগ করেও উপকার পাওয়া যায়। সাদা মাছির দল ও ভাইরাল রোগের বিরুদ্ধে মাটিতে কীটনাশকের প্রাথমিকভাবে ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি বলে মনে হয়। সাদা মাছি দ্রুত কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তাই বিভিন্ন গঠনের কীটনাশক পর্যায়ক্রমে প্রয়োগের সুপারিশ দেওয়া হয়। অ্যাসিটামিপ্রিড 20SP @ 40 গ্রাম ai / হেক্টরের দুটো স্প্রে ভাইরাসের প্রকোপ কমতে সাহায্য করে। ইমিডাক্লোপ্রিড @ ৫ গ্রাম/ কেজি দ্বারা বীজ শোধনের মাধ্যমে ভাইরাল ভেক্টরের প্রাদুর্ভাব কমতে পারে। ভেক্টর পোকার উপদ্রব কমাতে পাহারাদার ফসল হিসেবে ভুট্টা বা গাঁদার চাষ করা যেতে পারে। বর্ষাকালীন মরশুমে যখন সাদা মাছির উপদ্রব বেশি থাকে, তখন, সংবেদনশীল জাত গুলো বপন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাহক পোকা পর্যবেক্ষণ এবং ধরতে গাছের উচ্চতার কিছু উপরে হলুদ আঠালো ফাঁদ (yellow stricky trap) ব্যবহার করা যেতে পারে।

এক একর জমিতে ১২টি হলুদ আঠালো ফাঁদ স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়। জমিকে সর্বদা আগাছামুক্ত রাখতে হবে। জমিতে দেখা মাত্র বন্য বাহক যেমন Croton sparsiflorus ধ্বংস করে দিতে হবে। আক্রান্ত গাছকে জমি থেকে দূরে অপসারিত করতে হবে। ঢেঁড়শের সাহেব রোগ সম্পূর্ণ প্রতিহত করতে হলে আমাদের প্রতিরোধী উৎস খুঁজতে হবে, আর তার জন্যে প্রতিরোধী প্রজনন বা resistance breeding এর দ্বারা জিন পিরামিডের মাধ্যমে সংবেদনশীল জাতে প্রতিরোধী জিন প্রতিস্থাপন করতে হবে। বিভিন্ন বন্য প্রজাতিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ জাতে প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে দু’টি ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে সংকরায়ণের সাফল্য কম হতে পারে। তাই, fertility restoration এর জন্যে embryo rescue technique বা কলচিসিন ট্রিটমেন্ট এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি যুক্ত সঠিক জিনটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্যে মলিকিউলার ব্রিডিং এর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।

[আরও পড়ুন: ভেষজ গুণে ভরপুর ডুমুর, এক একর জমিতে চাষেই হতে পারেন লাখপতি]

Advertisement
Next