চোখের নিচে কালচে ছোপ। ঠোঁটের কোণে ফোলা ভাব। গাল দুটো যেন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই ভারী। দেড় বছর আগে সমাজমাধ্যমে উরফি জাভেদের (Uorfi Javed) এই রূপ দেখে চমকে উঠেছিলেন অনুরাগীরা। ট্রোলিং-এর বন্যা বয়ে গিয়েছিল রাতারাতি। বিদ্রুপকারীরা বলেছিলেন— প্লাস্টিক সার্জারি বা ফিলার্স করাতে গিয়েই নাকি মুখটা এমন ‘কুৎসিত’ করে ফেলেছেন ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার। ‘বোটক্সের জের’, ‘ফিলার্স ভুল হয়েছে’— এমন হরেক মন্তব্যে ভরে গিয়েছিল সোশাল মিডিয়া । এত দিনে সেই রহস্যময় ফোলামুখের নেপথ্যের আসল সত্যিটা সামনে আনলেন উরফি। জানালেন, কৃত্রিম ফিলার্স নয়, নেপথ্যে ছিল এক অদ্ভুত অসুখ ও তীব্র মানসিক চাপ।
ফাইল ছবি
সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে দেড় বছর আগের সেই ‘ভীতিকর’ দিনগুলির কিছু না-দেখা ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন উরফি। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তাঁর লালচে, ফোলা মুখ। ক্যাপশনে উরফি লিখেছেন, তখন সবাই বলছিল ফিলার্স গোলমাল করেছে। কিন্তু আসল সত্যিটা একেবারেই আলাদা। উরফি জানান, সেই সময় তিনি তীব্র মানসিক অবসাদ এবং স্ট্রেসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছিল। আর সেই মানসিক চাপের ছাপই ফুটে উঠেছিল তাঁর মুখে।
তবে শুধু মানসিক চাপ নয়, এই ফোলা ভাবের নেপথ্যে ছিল আরও এক বড় কারণ। উরফি জানান, দিনের পর দিন চিকিৎসকদের দরজায় ঘুরেও প্রথমে রোগ ধরা পড়ছিল না। কেউ বলছিলেন সাইনাসের সমস্যা, কেউ আবার অন্য কিছু। অবশেষে জানা যায়, বিড়ালের লোম থেকে মারাত্মক অ্যালার্জিতে ভুগছেন তিনি। উরফির নিজের বাড়িতেই রয়েছে তিনটি আদরের পোষ্য বিড়াল! তাদের প্রতি ভালোবাসাই যে তাঁর রূপের বারোটা বাজিয়েছে, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি।
ফাইল ছবি
এই ঘটনার পর থেকেই নিজের জীবনযাত্রায় আমূল বদল এনেছেন এই মডেল-অভিনেত্রী। আগে স্লিম হওয়ার অন্ধ মোহে খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। শরীরকে উপোস করিয়ে ওজন কমানোর সেই ভুল পন্থা থেকে সম্প্রতি সরে এসেছেন তিনি। এখন ভারী শরীরচর্চা আর ওয়েট লিফটিং অভ্যেস করেন তিনি। বিড়ালের অ্যালার্জি সামলাতে শুরু করেছেন ইমিউনোথেরাপি। উরফির কথায়, এখন আর কৃত্রিম উপায়ে রোগা হওয়া নয়, আমি সুস্থ থাকার দিকে মন দিয়েছি। আর তাতেই আমার ত্বক এবং স্বাস্থ্য আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।
