রাতের খাবার সেরে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস ভরে দুধ খাওয়ার অভ্যেস রাখেন অনেকেই। অনেকে আবার বদভ্যেস রাখেন, শুতে যাওয়ার আগে কফি খাওয়ার! যার ফলে কাজের কাজ তো দূরের কথা, রাতের ঘুম ছুটে গিয়ে একাক্কার কাণ্ড হয়! চিকিৎসকেরা বলেন, রাতের খাওয়া ও ঘুমের মাঝে বেশ কিছুটা সময়ের অন্তর থাকা উচিত। এমনও অনেকে রয়েছেন যারা এই জেগে থাকার সময়টিতেই টুকটাক কিছু খাওয়ার অভ্যেস বানিয়ে ফেলেন। পানীয় না হয়ে তা স্ন্যাক্সও হতে পারে, যার পরিণতি আরও খারাপ!
শোয়ার আগে ফোন স্ক্রোল করার বদলে এক কাপ গ্রিন টি-তে মনোনিবেশ করা অনেক উপকারী।
ডায়েটেশিয়ানরা জানাচ্ছেন, রাতে ঘুমের আগে যদি অল্পবিস্তর খিদে পায়, তবে খাবারের বদলে বেছে নেওয়া হোক পানীয়। তাও আবার গ্রিন টি (green tea)! শুনে চক্ষু চড়কগাছ হতেই পারে। কারণ গ্রিন টি-র জায়গা কেবল সকালের জলখাবারে, অনেকেই মনে করেন এমনটা। মূলত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে, এমন পানীয় হিসেবেই জনসাধারণের কাছে গ্রিন টি-র পরিচিতি। সকালে খালি পেটে, অথবা সামান্য কিছু খাবারের সঙ্গে তা গ্রহন করা উচিত বলেই মনে করা হয় তাই। তার বদলে সারাদিনের শেষে ভরা পেট নিয়ে শুতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি খেলে কি আদৌ কোনও কাজে লাগবে? সন্দেহ জাগবেই।
ডায়েটেশিয়ানরা অবশ্য জানাচ্ছেন, এমন কাজের বিস্তর গুণাগুণ রয়েছে।
১। শোয়ার আগে নিয়মিত গ্রিন টি খেলে, হুটপাট খাবারের ক্রেভিং কমে। ফলে রাত জাগলেই যে মিষ্টি কিছু খাবার অথবা চিপস খাওয়ার ইচ্ছে দেখা দেয় এমনিতে, তা অনেকখানি দমন হয়।
২। মন শান্ত হয়। সারাদিনের ক্লান্তি অচিরেই অনেকখানি কমে যায় যেন। শোয়ার আগে ফোন স্ক্রোল করার বদলে এক কাপ গ্রিন টি-তে মনোনিবেশ করা তাই অনেক উপকারী।
৩। রাতের খাওয়ার খানিক পড়ে গ্রিন টি পান করতে হবে এ কথা মাথায় থাকলে, আপনা থেকেই রাতে খাওয়ার পরিমাণ কমে। এমনিতেও ডিনার হালকা করার পরামর্শই দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।
ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে পান করা উচিত গ্রিন টি।
৪। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে পান করা উচিত গ্রিন টি। এতে ঘুম ভালো হয়। নার্ভাস উত্তেজনা উদ্বেগ অনেকখানি থিতু হয়।
৫। যে কোনও সু-অভ্যেসই নিয়মিত মেনে চললে তার প্রভাব সামগ্রিক জীবনযাপনের উপর পড়ে। যদি মাথায় থাকে যে রাতের খাওয়ার পর্ব তাড়াতাড়ি সারতে হবে, তার কিছুক্ষণ বাদে গ্রিন টি, ও তার আরও কিছুক্ষণ পর ঘুমাতে যাওয়া যাবে, তবে আপনা থেকেই যেন সারাদিন বাঁধা পড়ে যাবে নির্দিষ্ট রুটিনে।
