দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Mohun Bagan vs East Bengal Match Report

বড় ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের 'ছোট'দের লড়াই, কলকাতা লিগের নিষ্ফলা ডার্বিতে নিস্তেজ মোহনবাগান

ইস্টবেঙ্গলের তরুণ তুর্কিদের জয়জয়কার। মোহনবাগানের ফিটনেসের সঙ্গে প্রশ্নের মুখে জয়ের খিদেও।
Arpan Das
07:03 PM Sep 07, 2026 IST
ইস্টবেঙ্গলের তরুণ তুর্কিদের জয়জয়কার। মোহনবাগানের ফিটনেসের সঙ্গে প্রশ্নের মুখে জয়ের খিদেও।
ছবি: মোহনবাগান সোশাল মিডিয়া

মোহনবাগান ১ (মনবীর)
ইস্টবেঙ্গল ১ (বিলাল)
আপাতভাবে নিয়মরক্ষার একটি ডার্বি। কিন্তু ডার্বির ক্ষেত্রে আবার নিয়ম কী? তার মধ্যে কয়েকদিন আগেই ডুরান্ড ডার্বি হারের জ্বালা রয়েছে মোহনবাগানের। কলকাতা লিগে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ও মোহনবাগান (Mohun Bagan) , দুই দলই সুপার সিক্সে উঠে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও ডুরান্ড হারের 'বদলা'য় নজর ছিল সবুজ-মেরুন সমর্থকদের। বারাসত বিদ্যাসাগর স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় ম্যাচ শেষ হল ১-১ গোলে। মোহনবাগানের হয়ে গোল মনবীর সিংয়ের। যা শোধ করেন ইস্টবেঙ্গলের মহম্মদ বিলাল। লিগের অঙ্ক বদলাল না ঠিকই, তবে প্রশংসা প্রাপ্য লাল-হলুদের তরুণ তুর্কিদের লড়াই।

ইস্টবেঙ্গল যে সিনিয়র দলের কোনও ফুটবলার খেলাবে না, তা নিশ্চিত ছিল। ঘরোয়া লিগের চাকু মান্ডি, মনোতোষ মাজি, গৌরব সাউ, আকাশ হেমরামদের কাছে লক্ষ্য বড় ম্যাচের 'বড় তারা' হয়ে ওঠার। অন্যদিকে মোহনবাগান প্রথম থেকেই নামিয়ে দেয় শুভাশিস বোস, রাহুল ভেকে, আপুইয়া, মনবীর সিং, সাহাল আবদুল সামাদদের। ফলে প্রথমার্ধে লড়াই কিছুটা অসম হল। প্রথম থেকে চাপ বজায় রেখেছিল বাস্তব রায়ের ছেলেরা। তবে কলকাতা লিগের 'চেনা রোগ' থেকে এই ম্যাচেও রেহাই মেলেনি। মাঝেমধ্যে তালগোল পাকিয়েছে। গোলমুখে আক্রমণে পরেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ। প্রশংসা প্রাপ্য ইস্টবেঙ্গলের তন্ময় দাস, অঙ্কন ভট্টাচার্যদের।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

চাকু, অঙ্কন, তন্ময়রা অনবদ্য। আকাশের আছে চিতার মতো দৌড়। একঝাঁক বাঙালি ছেলের জয়জয়কার। এঁরা কি আইএসএলে জায়গা পেতে পারেন না? ইস্টবেঙ্গল সিনিয়র দলের কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ভেবে দেখা উচিত।

প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের বড়সড় ভুল বলতে একবারই। সেটাকে লাজে লাগাতে ভুল করেননি মনবীর সিং। ৩৭ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে নির্বিষ বল উড়ে আসে লাল-হলুদের বক্সে। অঙ্কন কিছুটা ফাঁকা জায়গা দিয়েছিলেন মনবীরকে। অন্যদিকে গোলকিপার গৌরব সাউ এগিয়ে গিয়েছিলেন। মনবীরের শট জালে জড়ানোর আগে সেখান থেকে আর ঠিক জায়গায় ফিরে আসতে পারেননি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল মোহনবাগান।

গোলের পর মোহনবাগান দল।

দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ অন্য ইস্টবেঙ্গলকে পাওয়া গেল। অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলল অর্চিষ্মান বিশ্বাসের দল। প্রথমার্ধের শেষে মোহনবাগানের গোলমুখে কোনও আক্রমণই হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যে অন্তত পাঁচটা শটের যে কোনও একটা গোল হয়ে যেতে পারত। বিজয়ের শট শুভাশিসের গায়ে লেগে ফিরল। একবার মেহতাব কোনও রকমে আকাশকে আটকালেন। ৬০ মিনিটে বিজয় মুর্মু পায়ে বলে করতে পারলেন না। একবার বল ফিরল বারে লেগে। টানা আক্রমণে ইস্টবেঙ্গলের গোল পাওয়া যেন সময়ের অপেক্ষা ছিল। সেটাই হল ৬৫ মিনিটে। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে মহম্মদ বিলাল অনায়াসে হেড করে গেলেন। মেহতাব, শুভাশিস, রাহুলদের মতো তারকাদের বোকা বানিয়ে গোল করলেন বিলাল। গোলকিপার দীপ্রভাত শুধু দেখলেন। এরপর কখনও অঙ্কন, কখনও মনতোষ চাকলাদার- জীবন লড়িয়ে ডিফেন্স করে গেলেন। জার্সি বদল করে নামা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নড়তেই দেননি অঙ্কন। ৮৩ মিনিটে গৌরব শরীর ছুড়ে যে সেভটা করলেন, তা নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। ম্যাচ শেষ ১-১ গোলে। সুপার সিক্সে আর ডার্বি হবে না। দু'দলই তিনটি করে ম্যাচ খেলবে।

গোলের পর ইস্টবেঙ্গলের বিলালরা।

ডার্বির ফলাফলে লিগের অঙ্ক বদলাচ্ছে না। তবে বদলাতে পারে দুই প্রধানের দুই কোচের মানসিকতা ও প্রস্তুতি। চাকু বহু ম্যাচের নেপথ্য নায়ক। আজও হয়তো সেই সম্মান পাননি। কিন্তু বড় ম্যাচের চাপ কীভাবে নিতে হয় তা ভালোমতোই জানেন। অঙ্কন, তন্ময়রা অনবদ্য। আকাশের আছে চিতার মতো দৌড়। একঝাঁক বাঙালি ছেলের জয়জয়কার। এঁরা কি আইএসএলে জায়গা পেতে পারেন না? সিনিয়র দলের কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ভেবে দেখা উচিত। অন্যদিকে মোহনবাগানের কোচ প্যানাজিওটিস ডিলেমপেরিস হয়তো ভাববেন, তাঁর দলের ফিটনেস কীভাবে বাড়ানো যায়। জেতার খিদেই বা গেল কোথায়? সামনে দীর্ঘ মরশুম। ড্র ম্যাচেও অনেক প্রশ্ন বা উত্তর পাওয়া গেল।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
CFLEast BengalKolkata DerbyMohun Bagan
Advertisement
Tags :
CFLEast BengalKolkata DerbyMohun Bagan

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন