ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির জেরে বড়সড় ক্ষতি হল ফুটবল বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026)! জানা গিয়েছে, আফ্রিকার সেরা রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতিই দেওয়া হয়নি। পত্রপাঠ তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ওমরের অপরাধ? তাঁর নাগরিকত্ব। ফিফার অন্যতম সেরা এই রেফারি সোমালিয়ার নাগরিক। আর ট্রাম্প প্রশাসন সোমালিয়ার নাগরিকদের জন্য আমেরিকার দরজা বন্ধ করে রেখেছে।
২০১৮ থেকে ফিফার রেফারি হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ওমর। আসন্ন বিশ্বকাপের ৫২ জন রেফারির মধ্যে তিনি অন্যতম। কিন্তু সোমালিয়ার পাসপোর্ট নিয়ে মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেওয়া নিয়ে প্রথম থেকেই সমস্যা ছিল। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর নাইরোবির সোমালিয়া দূতাবাস এগিয়ে আসে সমস্যা সমাধানে। ওমরের জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্টের ব্যবস্থা করা হয়। কারণ মার্কিন নীতি অনুযায়ী, কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকলে সোমালিয়ার নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশের বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে।
সোমবার মায়ামি বিমানবন্দরে নামেন ওমর। কিন্তু বিমানবন্দর থেকেই পত্রপাঠ তাঁকে ডিপোর্ট করা হয়। কেন আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হল না ওমরকে, সেই নিয়ে মার্কিন অভিবাসন দপ্তরও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। সোমালিয়ার সরকার জানিয়েছে, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ওমরকে আমেরিকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেন এমন আচরণ, তার জবাব চেয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সোমালিয়ার ফুটবল ফেডারেশন। যদিও গোটা বিষয়টি থেকে দায় ঝেড়ে ফেলেছে ফিফা। তারা জানিয়েছে, প্রবেশের অনুমতি দেওয়াটা একেবারে আয়োজক দেশের সিদ্ধান্ত। এখানে ফিফা হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
গতবছর আফ্রিকার সেরা রেফারি নির্বাচিত হয়েছিলেন ওমর। এবার ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। এই প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপে সোমালিয়ার নাগরিককে দেখা যেত রেফারি হিসাবে। কিন্তু ট্রাম্পের রোষে শেষ হয়ে গেল সেই স্বপ্নের সফর। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের ভিসা নিয়ে একের পর এক সমস্যা দেখা দিচ্ছে মার্কিন মুলুকে। কখনও আটক করা হচ্ছে ইরাকের ফুটবলারকে, কখনও ইরানের কর্তাদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। এবার রেফারিকেই দেশ থেকে 'তাড়িয়ে' দিল মার্কিন প্রশাসন।
