২৬ মে থেকে শুরু হতে চলেছে ইউনিটি কাপ। তার আগে এই টুর্নামেন্ট নিয়ে নয়া মোড়। শুরুতে এই প্রতিযোগিতা ছিল ফিফা উইন্ডোর বাইরে স্বীকৃতিহীন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত।
ফিফা ঘোষণা করেছে, ‘ইউনিটি কাপ ২০২৬’-কে এখন থেকে ‘টিয়ার ১’ মর্যাদা দেওয়া হবে। ফলে এই টুর্নামেন্ট আর নিছক প্রীতি প্রতিযোগিতা নয়। ম্যাচগুলির ফলাফল সরাসরি ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলবে। এখানেই শেষ নয়, রেফারিং থেকে ম্যাচ রিপোর্টিং - সবই ফিফার নির্ধারিত মানদণ্ডে হবে। নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'ইউনিটি কাপ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার টিয়ার ১ ইভেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি টুর্নামেন্টের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।'
এই স্বীকৃতির ফলে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে। টুর্নামেন্টটি নক আউট ফরম্যাটে হবে। দু’টি সেমিফাইনালের জয়ীরা খেলবে ফাইনাল। আর বাকি দুই দল লড়বে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। ইউনিটি কাপ মূলত এমন দেশগুলিকে নিয়ে আয়োজন করা হয়, ইংল্যান্ডে যাদের বড় কমিউনিটি রয়েছে। ভারতকে প্রথমবার এই প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ২৬ মে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নাইজেরিয়া ও জিম্বাবোয়ে। পরদিন, ২৭ মে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জামাইকার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ভারত। ফাইনাল ৩০ মে। এখন দেখার, ফিফা স্বীকৃত এই প্রতিযোগিতায় কেমন খেলে খালিদ জামিলের ছেলেরা।
ভারতীয় দলের জন্য ইংল্যান্ড সফর নতুন নয়। ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিক ছিল ব্লু টাইগার্সদের প্রথম ইংল্যান্ড সফর। ২০০০ সালে শেষবার ব্রিটিশভূমে পূর্ণাঙ্গ সফরে গিয়েছিল ভারত। সেই সময় ফুলহ্যাম এফসির কাছে ০-২ ব্যবধানে হারলেও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে। ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র এবং লেস্টারে বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারিয়ে সফর শেষ করেছিল বাইচুং ভুটিয়ার নেতৃত্বাধীন দল। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া করলেও নাইজেরিয়া ও জামাইকা, দুই দলই এই টুর্নামেন্টের প্রধান আকর্ষণ। বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২১ ও ৭১ নম্বরে রয়েছে তারা। প্লেঅফে হেরে আসন্ন বিশ্বকাপের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিল নাইজেরিয়া। অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গোর কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল জামাইকার।
ফিফার স্বীকৃতি মিললেও এর একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। টুর্নামেন্টটি ফিফা অনুমোদিত আন্তর্জাতিক উইন্ডোর বাইরে আয়োজন করা হচ্ছে। তাই ক্লাবগুলো তাদের ফুটবলারদের জাতীয় দলের জন্য ছাড়তে আইনত বাধ্য নয়। পাশাপাশি, ম্যাচগুলো টিয়ার ১ মর্যাদা পেলেও ফুটবলারদের নামের পাশে অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ‘ক্যাপ’ হিসাবে গণ্য হবে না। এই প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য মোহনবাগান এবং কেরালা ব্লাস্টার্স তাদের ফুটবলারদের ছাড়েনি। তাদের যুক্তি, ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফিফা উইন্ডো। তার আগে যদি কোনও ফুটবলার চোট পান, তাহলে চিকিৎসার পুরো দায়ভার ক্লাবের উপরেই পড়ে। সেই ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
