ঘুম হচ্ছে না ঠিকমতো। থম মেরে গিয়েছে কেউ কেউ। শহরের মনোবিদদের দরজায় পড়ুয়াদের ভিড়। ফর্টিস হাসপাতালে মনোচিকিৎসক ডা. সঞ্জয় গর্গ জানিয়েছেন, এমনই সমস্যা নিয়ে বছর সতেরোর সমন্বিতা এসেছে আমার চেম্বারে। স্কুলের পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে নব্বই শতাংশ পেয়ে এসেছে সে। একই আশা ছিল সিবিএসই পরীক্ষাতেও। কিন্তু ফলাফল বেরোতে দেখা যায়, মেরেকেটে সত্তর শতাংশ। ভেঙে পড়েছে সমন্বিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমন্বিতা একা নয়, শহরের একাধিক মনোচিকিৎসক জানিয়েছেন, সিবিএসই বোর্ডের রেজাল্ট বেরনোর পর চেম্বারে বাড়ছে সিবিএসই পরীক্ষায় বসা ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়।
কেন এমন সমস্যা? ভুবনেশ্বর রিজিয়নের অধীনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা মিলিয়ে এবছর সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছিল প্রায় ৯৩ হাজার ছাত্র-ছাত্রী। সিংহভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, প্রত্যাশার তুলনায় নম্বর অনেক কম এসেছে এবছর। এবারই প্রথম সিবিএসই পরীক্ষায় অনস্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম পদ্ধতি চালু হয়েছে। যে পদ্ধতিতে খাতা স্ক্যান করে কম্পিউটারে দেখা হয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, এই কারণেই কমেছে নম্বর। ছাত্রছাত্রীদের দাবি, হাতের লেখা যাদের একটু অস্পষ্ট তাদের ক্ষেত্রে স্ক্যান করায় উত্তরপত্র আরও ঝাপসা হয়ে গিয়েছে।
এদিকে নম্বর কমে যাওয়ার কারণে কেউ পছন্দের কলেজে পড়তে পাচ্ছে না অনেকেই। কারও সায়েন্স নিয়ে পড়ার আশা থমকে গিয়েছে। কী বলছেন মনোচিকিৎসকরা? ডা. সঞ্জয় গর্গ জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীরা ছোট। ওরা ভাবছে জীবন শেষ হয়ে গেল। সকলকেই বুঝিয়ে বলছি, একটা পরীক্ষার ফলাফল জীবনের সবকিছু নির্ধারণ করে না। নম্বর নিয়ে সন্দেহ হলে খাতা রিভিউ করতে দাও। তেমন হলে একটা বছর ড্রপ দাও। পরের বছর আবার পরীক্ষা দাও। আলাদা করে মা-বাবার সঙ্গেও কথা বলছেন মনোচিকিৎসকরা।
মনোবিদ রিঙ্কু পাঠক জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ, সেখান থেকে মানসিক অবসাদ। অনিয়মিত ঘুম। চিকিৎসা পরিভাষায় এ অসুখের নাম অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার। এই অবসাদ কাটাতে অভিভাবকদের ভূমিকা নিতে হবে। তবে রিঙ্ক পাঠকের ভরসা, "এখন যাদের ষোলো-সতেরো তারা অনেক পরিণত। সহজে ভেঙে পড়া ওদের ধাতে নেই।" পড়ুয়াদের মানসিক উদ্বেগ কাটাতে চিকিৎসকদের পরামর্শ, "পর্যাপ্ত ঘুম আর সময়মতো খেতে হবে। মনের দুঃখে সারাদিন ঘরবন্দি হয়ে বসে না থেকে কিছু কসরত করতে হবে।” ফর্টিস হাসপাতালের মনোচিকিৎসক ডা. সঞ্জয় গর্গ জানিয়েছেন, মর্নিং ওয়াক করলে কিংবা জিম করলে এন্ডরফিন নামক মন ভালো থাকার হরমোন বেরোয়। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল নিঃসরণ কমে।
