অফিসে বসে সারাদিন একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করতে হয়। আর তারপরেই বাড়ি এসে শুরু হয় চোখ জ্বালা! কখনও চোখ বন্ধ করতে গেলে ভারী ভাব অনুভূত হয়। কখনও এমনি এমনিই জল পড়ে চোখ দিয়ে, কখনও বা অদ্ভুতরকম শুষ্ক লাগে। ভাবছেন কেবলমাত্র সারাদিনের ক্লান্তি থেকেই হচ্ছে এমনটা? উঁহু, খুব সম্ভবত 'ডিজিটাল আই স্ট্রেন' (digital eye strain)-এর শিকার হয়েছেন আপনি।
স্ক্রিনে কাজ করার সময় আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলি।
'ডিজিটাল আই স্ট্রেন' কেন হয়?
- দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা - স্ক্রিনে কাজ করার সময় আমরা চোখের পলক স্বাভাবিকের তুলনায় কম ফেলি। ফলে চোখের জল ঠিকমতো ছড়ায় না এবং চোখ শুকিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় কম্পিউটার, মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহার করলে চোখের পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
- এসি, ধুলো ও দূষণ – দীর্ঘ সময় এয়ার কন্ডিশনারের হাওয়ায় থাকলে তা চোখ আরও শুষ্ক করে তুলতে পারে। ধুলো ও দূষণ চোখে জ্বালা বাড়িয়ে দিতে পারে।
- শরীরে জলের ঘাটতি – প্রতিটি ঘটনাই একে অন্যটির সঙ্গে যুক্ত। এয়ার কন্ডিশনারের হাওয়ায় থাকলে জল খাওয়ার চাহিদা তৈরি হয় না। অথচ শরীর শুকিয়ে যেতে থাকে। চোখের উপরেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
- স্ক্রিনের ব্লু লাইট – ব্লু লাইট ফিলটার 'অন' না থাকলে, স্ক্রিনের আলো দীর্ঘ সময় ধরে পড়লে, চোখের ক্ষতি হয়। এছাড়া, ঘরের আলো যদি স্ক্রিনের আলোর চাইতে কম হয়, তাহলেও চাপ পড়ে চোখের উপর।
কী করলে উপকার পাবেন?
- ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন। প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন।
- কাজের সময় সচেতনভাবে চোখের পলক ফেলতে চেষ্টা করুন।
- জল তেষ্টা না পেলেও খানিক সময় পর পর সচেতনভাবে জল পান করুন।
- স্ক্রিনের ব্লু লাইট ফিলটার অন রাখুন। ঘরের আলোর সঙ্গে তার সামঞ্জস্য থাকছে কি-না, খেয়াল রাখুন সেদিকেও।
- স্ক্রিনের থেকে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন। অতিরিক্ত কাছে বা দূরে বসলে চোখের উপর স্ট্রেইন পড়বেই।
'ডিজিটাল আই স্ট্রেন' রুখতে স্ক্রিনের ব্লু লাইট ফিলটার অন রাখুন।
তবে চোখের সমস্যা বাড়াবাড়ি রকমের হলে, বুঝতে হবে যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সময় হয়েছে। যদি চোখের জ্বালা দীর্ঘদিন ধরে হয়েই চলে, চোখ লালচে দেখতে লাগে, ব্যথা হয়, দৃষ্টি ঝাপসা লাগে, এমনকী পর্যাপ্ত বিশ্রামেও তা না কমে, তবে সাবধান। অতি সত্ত্বর বিষয়টি জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে।
