দোকানে গরম গরম শিঙাড়া ভাজছে, বাড়িতে আনতে চাইলে মুড়ে নিতে হবে খবরের কাগজের ঠোঙায়। একইভাবে চপ, মুড়িমাখা, জিলিপি— যে কোনও খাবার আনতে হলেই চটজলদি খবরের কাগজে মুড়িয়ে নেয় বাঙালি তথা ভারতীয়রা। রাস্তার ধার থেকে কেনা খাবারটি স্বাস্থ্যকর কি-না, তা যদিও বা ক্রেতা মাঝেমধ্যে ভেবে দেখে, কাগজের মোড়কটি নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামায় না। অথচ সেখানেই লুকিয়ে মৃত্যুদূত!
বাড়িতে, দোকানে খাবার মুড়তে দেদার ব্যবহার চলে খবরের কাগজের।
এ যেন যেচে নিজের ও প্রিয়জনদের স্লো পয়জনের সম্ভাবনা বাড়ানো— এ কথা বলছে খোদ ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথারিটি অফ ইন্ডিয়া’ (FSSAI)। কড়াই থেকে তোলা গরম ভাজাভুজি হরহামেশাই খবরের কাগজে মুড়ে নিয়ে আসে গৃহস্থ। অনেক সময়ই আবার বাড়িতেও গরম ভাজা সরাসরি বাটিতে নামিয়ে রাখার বদলে খবরের কাগজের উপর নামানো হয়, যাতে কাগজে তেল টেনে যায়। এমনকী বাড়িতে বানানো এগরোল বা পরোটা খবরের কাগজে জড়িয়ে থাকেন অনেকেই! অনুষ্ঠান বাড়িতেও অনেক সময়েই দেখা যায় যে গরমের খাবার চাপা দিতে খবরের কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এমনটা কেন করা উচিত নয় জানেন?
যে কালিতে খবরের কাগজে লেখা ছাপানো হয়, তাতে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল থাকে। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান ধাতু হল সীসা। গরম তেলের সংস্পর্শে এলেই এই কালি উঠতে থাকে কাগজ থেকে। খাবারের গায়ে আটকে যায়। ফলে ক্ষতিকারক টক্সিন খাবার-বাহিত হয়ে সরাসরি মানুষের পেটে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম রঙ থাকে খবরের কাগজে। থাকতে পারে প্রিজারভেটিভ অথবা অ্যাডেসিভ-ও।
এ সমস্ত ক্ষতিকারক উপাদান পেটে গেলে দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে। প্রাথমিকভাবে যা কেবল সাধারণ হজমের সমস্যা বলে মনে হবে, তা আসলে হয়তো কোনও মারণব্যধির ইঙ্গিত! এমনকী প্রায়শই এমন কেমিক্যাল শরীরে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ক্যানসার জাতীয় প্রাণঘাতী রোগেরও পথ প্রশস্ত হয়।
ব্যবহার করা যায় টিস্যু পেপার, পার্চমেন্ট পেপার, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল কিংবা স্টিলের টিফিন বক্স।
কী ব্যবহার করা যায় খবরের কাগজের বদলে?
- শিঙাড়া-চপ কেনা হবে এমন পরিকল্পনা করেই যদি বাড়ি থেকে বেরনো হয়, তবে সঙ্গে স্টিলের টিফিন বক্স নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
- অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, শালপাতা, কলাপাতা— খাবারের মোড়ক হিসেবে খবরের কাগজ ব্যবহারের চাইতে সব দিক থেকেই ভালো।
- গরম খাবারের তেল টানতে টিস্যু পেপার ব্যবহার করা যায়। রোল-জাতীয় খাবার মুড়তে পার্চমেন্ট পেপার কাজে লাগানো যায়।
খবরের কাগজের ব্যবহার একেবারে থামানো না গেলেও, যথাসম্ভব কমিয়ে আনাই ভালো, জানাচ্ছে FSSAI। সময় থাকতে সাবধানতা অবলম্বন করা গেলে, বড় রকমের ক্ষতি এড়িয়ে যাওয়া যায়।
