বাগানের শখ কার না থাকে! কিন্তু ব্যস্ত জীবনে রোজ রোজ গাছের পেছনে দেওয়ার মতো অত সময় কোথায়? তাই অনেকেই চান এমন কিছু গাছের খোঁজ, যা একবার পুঁতলেই কেল্লাফতে। মরশুম বদলাবে। ক্যালেন্ডারের পাতা ওলটাবে। কিন্তু আপনার সাধের বাগান থাকবে ফুলে ফুলে ভরা। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, বারোমাসই সেখানে লেগে থাকবে রঙের উৎসব।
প্রতিবেশীর চোখ টাটানো এমন এক চিলতে স্বর্গ তৈরি করতে চান? তাহলে আজই নার্সারি থেকে নিয়ে আসুন এই ৬টি গাছ। কম পরিচর্যাতেই এরা আপনার বাগানকে মাতিয়ে রাখবে বছরভর।
ছবি: সংগৃহীত
জবা
বাঙালির বারান্দা কিংবা ছাদবাগান, জবা ছাড়া যেন সবটাই অসম্পূর্ণ। লাল, হলুদ, গোলাপি কিংবা সাদা— জবার রঙের শেষ নেই। প্রবল শীতে ফুল কিছুটা কম হয়। যদিও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় কড়া শীত বলতে তেমন কিছুই নেই। তাই জবা ফোটে বছরভর।
যত্নআত্তি: এই গাছের চাই ভরপুর রোদ। আলো-হাওয়া পেলে জবা গাছ হাসিখুশি থাকে।
সতর্কতা: গাছে নিয়মিত জল দিন। তবে খেয়াল রাখবেন, টবের গোড়ায় যেন জল জমে না থাকে।
ছবি: সংগৃহীত
মধুমালতী
বাড়ির সদর দরজা বা বারান্দার গ্রিল বেয়ে লতিয়ে উঠতে দেখা যায় মধুমালতীকে। এতে আপনার গৃহকোণের রূপই বদলে যাবে। থোকায় থোকায় সাদা-গোলাপি ফুলের মেলা আর তার মিষ্টি সুবাসে চারপাশ মজে থাকে সবসময়।
যত্নআত্তি: দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা কড়া রোদ এই গাছের ভীষণ প্রিয়। রোদ-জল-ঝড় অনায়াসে সহ্য করে নেয় এই লতানো গাছ।
সতর্কতা: মাটিতে যেন আর্দ্রতা থাকে। জল কম পেলে কিন্তু মধুমালতীর বাড়বাড়ন্ত থমকে যাবে।
ছবি: সংগৃহীত
বোগেনভেলিয়া
কাগজ ফুল বা বোগেনভেলিয়া চেনে না এমন মানুষ বিরল। লাল, গোলাপি, হলুদ, কমলার এমন রঙের বিস্ফোরণ আর কোনও গাছে দেখা যায় না। একবার ডালপালা মেলে দিলে এই গাছ পুরো বাগান আলো করে রাখে।
যত্নআত্তি: বোগেনভেলিয়া যত কড়া রোদ পাবে, তত বেশি ফুল ফোটাবে। ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা রোদ এর জন্য আদর্শ।
সতর্কতা: মাটি হালকা ভিজে থাকবে, কিন্তু জল জমলেই বিপদ। বেশি জল দিলে ফুল কমে পাতা গজাবে বেশি।
ছবি: সংগৃহীত
টগর
একদম কম খরচে এবং বিনা পরিশ্রমে যদি সারা বছর ফুল পেতে চান, তবে টগর আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। ধবধবে সাদা থোকা থোকা টগর বাগানকে এক শান্ত, স্নিগ্ধ রূপ দেয়।
যত্নআত্তি: সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন জল দিলেই এই গাছ দিব্যি বেঁচে থাকে। বেশি ফুলের জন্য মাঝেসাঝে একটু জৈব সার দিতে পারেন।
সতর্কতা: একেও এমন জায়গায় রাখুন যেখানে দিনে অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা সূর্যের আলো পৌঁছায়।
ছবি: সংগৃহীত
কসমস
সাদা, হলুদ, বেগনি রঙের কসমস দেখতে ভারী চমৎকার। গরমের দিনে এই গাছের বৃদ্ধি হয় দেখার মতো। সাধারণ দোঁআশ মাটি আর সামান্য জৈব সার পেলেই এরা খুশি।
যত্নআত্তি: কসমসের বীজ মাটিতে পড়লে এমনিই নতুন চারা গজিয়ে যায়। বিশেষ কোনও দেখভালের প্রয়োজনই পড়ে না।
সতর্কতা: গাছ যখন বড় হতে শুরু করবে, তখন মাঝেমধ্যে একটু খোল জল বা জৈব সার দিলে ফুলের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে।
ছবি: সংগৃহীত
অপরাজিতা
বারোমাসি ফুলের তালিকায় নীল-টোনা বা অপরাজিতার নাম না নিলেই নয়। লতানো এই গাছটি ঘরের সামান্য কোণেই লতিয়ে ওঠে। নীল কিংবা সাদা রঙের এই ফুল সারা বছরই আপনার বাগানের শোভা বাড়িয়ে চলবে।
যত্নআত্তি: হালকা রোদ পেলেই অপরাজিতা তরতরিয়ে বেড়ে ওঠে।
সতর্কতা: নিয়মিত গাছের ডাল ছাঁটাই বা প্রুনিং করুন। এতে গাছটি ঝাঁকড়া হবে এবং ফুলের সংখ্যাও বাড়বে।
