'নীতিপুলিশ' বিহারে ফের হেনস্তা যুগলকে! মারধরের পর বাইকের চাবি কেড়ে শাসানি, প্রকাশ্যে ভিডিও
Kishore Ghosh
বিহার যেন নীতিপুলিশের স্বর্গরাজ্য! জামুই, সমস্তিপুর, বাঁকার পর এবারে ঘটনাস্থল গয়া। সেখানে ফের এক কিশোর ও কিশোরীকে হেনস্থা, এমনকী মারধরের অভিযোগ উঠল। শেরাঘাঁটি থানার অন্তর্গত মহুয়াজি গ্রামে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিল যুগল। অভিযোগ, সেই সময় তাদের পথ আটকে হেনস্তা করে একদল স্থানীয় যুবক। কিশোরকে বেধড়ক মারধরা করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন অভিযুক্তেরা।
ভিডিও সূত্রেই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। নজরে পড়ে প্রশাসনের। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বাইকে করে মহুয়াজির কাছে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিল কিশোর-কিশোরী। সেই সময় একদল যুবক তাদের ঘিরে ধরে শাসায়। কিশোরকে মারধরের পর বাইকের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়, টায়ার পাংচার করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এমনকী বেশ কিছুক্ষণ তাদের আটকে রাখে স্থানীয় যুবকেরা।
আরও পড়ুন:
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। জামুই, সমস্তিপুর, বাঁকার মতো ঘটনা উল্লেখ করে নেটপাড়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপরেই ঘটনার তদন্তে নামে গয়া পুলিশ। ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গয়ার সিনিয়র পুলিশ সুপার সুশীল কুমার জানিয়েছেন, বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, অতীতে জামুইয়ের এক স্থানীয় স্কুলের দুই পড়ুয়া সন্ধ্যায় কোচিং শেষে মাদওয়া পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিল। ফেরার পথে তাঁদের পথ আগলে দাঁড়ায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। বাধ্য হয়ে স্কুটার থামায় ওই যুগল। শুরু হয় নির্যাতন। প্রথমে গালাগালি। এরপর শারীরিক হেনস্তা। পুরোটাই ক্যামেরায় বন্দি করে রাখে ওই দলেরই একজন। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে যায় (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কিশোরীকে তুলে নিয়ে রাস্তার অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। রেহাই পায়নি কিশোরীর বন্ধুও।
দিনদুয়েক আগে বিহারের সমস্তিপুরেও একই ধরণের ঘটনা ঘটে। এক নাবালক এবং নাবালিকা পথে হাঁটার সময়ে চারজন মোটরবাইক আরোহী তাদের ঘিরে ধরে। কুকথা বলার পাশাপাশি হেনস্তাও করা হয় তাদের। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেই খবর। এরপর প্রকাশ্যে রাজ্যের বাঁকার আরও একটি ভিডিও। সেখানে মহিলা পর্যটকের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ ওঠে ৬ যুবকের বিরুদ্ধে। পরপর এমন ঘটনায় বিহারে নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজ্যের পর্যটনস্থলগুলি আদৌ নিরাপদ কিনা, সেই নিয়ে সংশয় বাড়ছে।