Advertisement

সংকটের মধ্যেও বেসরকারি হাসপাতালে ‘নষ্ট’লক্ষ লক্ষ করোনার টিকা! কেন্দ্রের রিপোর্টে চাঞ্চল্য

05:22 PM Jun 12, 2021 |
Advertisement
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে টিকার সংকট। অনেক রাজ্যে ভ্যাকসিনের (Corona Vaccine) অভাবে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সিদের টিকাকরণ শুরুই করা যায়নি। অনেক জায়গায় আবার শুরুর পরও বন্ধ করে দিতে হয়ছে। এমনকী ৪৫ ঊর্ধ্বদেরও সকলে টিকা পাচ্ছেন না। অথচ, এসবের মধ্যেও দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ব্যাপক হারে টিকা নষ্ট হচ্ছে। গত একমাসে দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলি প্রাপ্ত ভ্যাকসিনের প্রায় ৮৩ শতাংশ ব্যবহারই করতে পারেনি। এমনটাই জানা যাচ্ছে কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যে।

Advertisement

গত ৪ জুন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Health Ministry) প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মে মাসে গোটা দেশে মোট ৭.৪ কোটি টিকা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১.৮৫ কোটি টিকা বরাদ্দ করা হয়েছিল বেসরকারি হাসপাতালগুলির জন্য। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বেসরকারি হাসপাতালগুলি কিনেছে মাত্র ১ কোটি ২৯ লক্ষ ভ্যাকসিন। এই ১ কোটি ২৯ লক্ষ ডোজের মধ্যে আবার বেসরকারি হাসপাতালগুলি ব্যবহার করেছে মাত্র ২২ লক্ষ। অর্থাৎ মোট প্রাপ্ত ভ্যাকসিনের মাত্র ১৭ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মে মাসে বেসরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিনের বিপুল দামের জন্যই মানুষ সেভাবে আগ্রহ দেখায়নি। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই কেন্দ্র বেসরকারি হাসপাতালের প্রাপ্ত ভ্যাকসিনের দাম বেঁধে দিয়েছে। এখন বেসরকারি হাসপাতালে কোভিশিল্ড মিলছে ৭৮০ টাকায়। রাশিয়ার স্পুটনিক মিলছে ১ হাজার ১৪৫ টাকায়। এবং কোভ্যাকসিন মিলছে ১.৪১০ টাকায়।

[আরও পড়ুন: দুর্দান্ত কার্যকরী করোনা টিকা, ২ ডোজে কমছে হাসপাতালে ভরতির সম্ভাবনা! বলছে সমীক্ষা]

কিন্তু প্রশ্ন হল, এই যে বেসরকারি সংস্থাগুলিতে টিকার লক্ষ লক্ষ ডোজ নষ্ট হল তার দায় কার? সরকারের টিকা নীতি অনুযায়ী এই মুহূর্তে কেন্দ্র সরকার ৫০ শতাংশ, রাজ্য সরকার ২৫ শতাংশ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি ২৫ শতাংশ টিকা উৎপাদকের কাছ থেকে কেনে। আগামী ২১ জুন থেকে সেই নীতিতে বদল আনছে কেন্দ্র। ২১ জুনের পর কেন্দ্র সরকার সরাসরি কিনবে ৭৫ শতাংশ টিকা। রাজ্য সরকারকে কোনও টিকা কিনতে হবে না। বাকি ২৫ শতাংশ টিকা যাবে বেসরকারি সংস্থার হাতে। কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী, কারও সামর্থ্য থাকলে তিনি যাতে বেসরকারি সংস্থা থেকে টিকা নিতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা। এতে সরকারের উপর চাপ কমবে। কিন্তু, এই চাপ কমাতে গিয়ে যেভাবে টিকার লক্ষ লক্ষ ডোজ নষ্ট হচ্ছে, সেটা উদ্বেগজনক তো বটেই। 

Advertisement
Next