পড়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইচ্ছা ছিল পারিবারিক ব্যবসা সামলানো! ভারতের 'হিরো' স্মিত মচ্ছর আসলে কে?
মা চাইতেন না তিনি পাইলট হোন। ককপিটের বাইরে বেরোলে আর নিজের পেশাদার জীবন নিয়ে আর কথা বলতে চান না স্মিত।
Subhajit Mandal
05:18 PM Oct 01, 2026 IST
-
-
সন্ত্রাসের সামনে মাথা নত করেননি স্মিত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি আজ 'হিরো'। তাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রী গর্বিত। গোটা দেশ গর্বিত। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকারাও তাঁকে প্রশংসায় ভরাচ্ছেন। কিন্তু মজার কথা হল, আজ ভারতের যিনি ন্যাশনাল হিরো, তিনি ছোটবেলায় পাইলট হওয়ার স্বপ্নও দেখেননি। তিনি চেয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হতে।
-
গুজরাটে জন্ম স্মিত মচ্ছরের। তবে থাকতেন মুম্বইতে। পরিবারের টেক্সটাইলের ব্যবসা ছিল। শুরুতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য ভর্তি হন। তারপর মুম্বইয়ের ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টে। সেখানে এক সেমিনারে প্রথম পাইলটদের কাজ সম্পর্কে জানেন। তারপরই সিদ্ধান্ত নেন পাইলট হবেন। তখন বয়স ১৯ বছর। স্মিতের মা কিছুতেই চাইতেন না ছেলে পাইলট হন।
-
তবে পরিবারকে রাজি করিয়ে গুরুগ্রামে পাইলট ট্রেনিংয়ে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে চলে যান নিউজিল্যান্ডে। সেখানেও পাইলট হিসাবে ট্রেনিং নেন। গত চার বছর ধরে ফ্লাইদুবাইয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। ১০ বছর তিনি স্পাইসজেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি যোগ দেন ফ্লাই দুবাইতে। পেশাদার বোয়িং ৭৩৭ বিমানে তাঁর ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
-
সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে স্মিতের। তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজে ছুরির কোপ খেয়েও যেভাবে যাত্রীদের রক্ষায় অটল ছিলেন স্মিত, সেই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে আমজনতা। আসলে ছোটবেলা থেকেই স্মিত পরিণত ও ধীরস্থির। তাঁর ছোটবেলার বন্ধু প্রতীক গান্ধীর কথায়, "অল্প বয়স থেকেই স্মিতের উপস্থিত বুদ্ধি প্রখর ছিল। ও খুব শান্ত ও ধীরস্থির স্বভাবের।”
-
মজার কথা হল, ককপিটের বাইরে বেরোলে আর নিজের পেশাদার জীবন নিয়ে আর কথা বলতে চান না স্মিত। তিনি বিশ্বাস করেন, কাজের জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবন আলাদা। এক সাক্ষাৎকারে ২০২৫ সালে তিনি বলেন, "আমি চাই যখন আমি ককপিটের বাইরে তখন কেউ না জানুক আমি পাইলট। ককপিট থেকে বেরোলেই আর বিমান চালনা নিয়ে ভাবি না।"
-
মচ্ছর এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিমানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করেন ইজরায়েলি চিকিৎসক ড. শোতা মোসায়েভ। তিনি বলেন, “পাইলটের শরীরজুড়ে ছিল অসংখ্য ক্ষত। তাঁর মাথা ও হাত এমনভাবে চিরে গিয়েছিল যে প্রায় দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মতো অবস্থা। তাঁর অবস্থা ছিল গুরুতর। কিন্তু সংকটজনক হয়তো বলা যাবে না। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, বেশি দেরি হলে তাঁকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যেতে পারত।
Advertisement
Advertisement