তামিল অস্মিতায় আঘাত! হাইওয়ের সাইনবোর্ডে হিন্দি লেখায় সাসপেন্ড ২ আধিকারিক
Amit Kumar Das
হিন্দি ভাষা নিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে ব্যাপক কড়াকড়ির মাঝেই এবার বড় পদক্ষেপ। তামিলনাড়ুর জাতীয় সড়কের সাইনবোর্ডে হিন্দি লেখার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হল দুই আধিকারিককে। পাশাপাশি মুছে দেওয়া হয়েছে হিন্দি লেখা। এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এটা তামিলনাড়ুর দ্বি-ভাষা নীতির লঙ্ঘন।
জানা গিয়েছে, এই ঘটনা টুটিকোরিনের সাত্তানকুলাম-নাজারেথ রাজ্য মহাসড়কের (এসএইচ-৯৩)। রাস্তার উপরে সাইনবোর্ডগুলিতে তামিল ও ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতে শহরের নাম লেখা হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই তৎপর হয় সরকার। সাসপেন্ড করা হয়, ওই সাইনবোর্ড লাগানোর দায়িত্বে থাকা দুই আধিকারিককে। তামিলনাড়ু সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যের দ্বি-ভাষা নীতির লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। যার মধ্যে হিন্দি ভাষা অপসারণও অন্তর্ভুক্ত। এই নিয়ে চলতি বছরে ৩ বার এহেন ঘটনা সামনে এল।
আরও পড়ুন:
তামিলনাড়ু সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যের দ্বি-ভাষা নীতির লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু রাজ্যে দীর্ঘ বছর ধরে চালু রয়েছে দ্বি-ভাষা নিতে। যার মাধ্যমে সরকারি কাজকর্ম ও শিক্ষাক্ষেত্রে তামিল এবং ইংরেজি ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রীয় সরকার ত্রি-ভাষা নীতি প্রয়োগের চেষ্টা করলে, শুরু থেকে এর বিরোধিতা করে রাজ্য। ১৯৬৫ সালে তামিলনাড়ুতে পাশ হয়েছিল সরকারি ভাষা আইন। যার জেরে তামিল ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইনের বলে রাজ্য মহাসড়ক ও জাতীয় মহাসড়কের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। রাজ্য নিজের এখতিয়ারে পড়া সড়কে নিজস্ব ভাষা নীতি প্রয়োগ করতে পারে।
এছাড়াও, অনেক রাজ্যে দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের জন্য স্থানীয় ভাষার নিয়মকানুন রয়েছে। যেমন, পাঞ্জাবে পাঞ্জাবি এবং কর্নাটকে কন্নড় ভাষার ব্যবহার স্থানীয় আইন দ্বারা বাধ্যতামূলক। এর উদ্দেশ্য হল স্থানীয় ভাষাকে উৎসাহিত করা। তামিলনাড়ুর এই আইনের বলে গত মার্চ মাসে তিরুচিরাপল্লির রেলওয়ে অফিসের প্রবেশদ্বার থেকে হিন্দিতে লেখা 'কর্তব্য দ্বার'। ওই মাসেই দ্রাবিড় রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সিঙ্গানাল্লুর স্টেশনে হিন্দি লেখা কালো কালিতে ঢেকে দেয়।