‘হনুমান চালিশা পড়ছিলাম’, মোদির সঙ্গে কথায় চোখে জল ‘হিরো’ পাইলট মচ্ছরের
Kishore Ghosh
৯/১১-এর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হতে পারত। মৃত্যু হতে পারত শয়ে শয়ে মানুষের। কিন্তু প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন ফ্লাইদুবাই উড়ানের (Flydubai Flight ) ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর (Smit Machhar)। বৃহস্পতিবার সেই 'বীর' স্মিতের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। 'আপনার কাজে দেশ গর্বিত, যখন প্রয়োজন একটি ফোন করুন', বার্তা মোদির। পালটা চোখের জলে ভাসলেন ভারতীয় পাইলট।
বর্তমানে বিদেশে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্মিত মচ্ছর। শুক্রবার সেখানেই তাঁকে ফোন করেন মোদি। কঠিন পরিস্থিতিতে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি, সেকথা মনে করিয়ে প্রশংসায় ভরান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভারতীয় পাইলটের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে মোদি বলেন, "আপনার অসীম সাহসের কাজে দেশ গর্বিত।" পালটা স্মিত বলেন, "আমি কখনও ভাবিনি যে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারব।" প্রত্যুত্তরে মোদি বলেন, "আমার কাছে আপনি আবেগপ্রবণ হবেন না তো কোথায় হবেন!"
আরও পড়ুন:
অশ্রুসজল চোখে স্মিত বলেন, "আপনি আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ। আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আপনি এভাবে ফোন করে আমাকে উৎসাহিত করছেন। আমি অনেক আঘাত পেয়েছিলাম, কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম যে উঠে দাঁড়াতেই হবে, কাজ করতে হবে। সেই মুহূর্তে আমি আমার জীবনের জন্য লড়ছিলাম। আমি পড়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু বুঝতে পেরেছিলাম যে যদি না উঠি, তাহলে মারা যাব।"
ভারতীয় পাইলট আরও বলেন, "আমি ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিমান চালাচ্ছি, গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ফলে চোখ বন্ধ থাকলেও বুঝতে পারি বিমানের ভেতরে কী ঘটছে। জানতাম, শেষবারের মতো জোর চেষ্টা চালাতে হবে। আমি ককপিটের দরজা খোলার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছিলাম। দরজাটি খোলার পরেই অন্যরা ভেতরে চলে আসে। এই ঘটনায় (বিমান হাইজ্যাক না হতে দেওয়া) প্রত্যেকের সমান ভূমিকা ছিল।"
দেখুন সেই ফোনালাপ:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় ৩৯ বছরের স্মিত আরও জানান, যখনই তিনি কোনও বিপদে পড়েন, তখনই হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বুধবার বিমানে হামলার সময়েও তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন। মোদি জানান, তিনি পাইলটের মা গীতার সঙ্গেও কথা বলেছেন। জেনেছেন মা তাঁকে ভগবৎ গীতার মূল্যবোধ ও শিক্ষা দিয়ে বড় করেছে। স্মিতকে তিনি আরও বলেন, "দেশ গর্বের সঙ্গে এ কথা বলতে পারে যে ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ কেড়ে নেন না, বরং অন্যিদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবন বিপন্ন করতেও প্রস্তুত থাকেন।"