মৃত্যুমুখেও অটল! ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে পুরস্কৃত করছে গুজরাট সরকার, বিশেষ সম্মান ইজরায়েলেরও
Subhodeep Mullick
৯/১১-এর মতো ভয়ংকর হামলা প্রায় নিশ্চিত! বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রী তো বটেই, আরও শয়ে শয়ে মানুষের প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা। সে সময়ে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অসীম সাহসিকতার নিদর্শন রাখেন তিনি। সতীর্থের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় লড়ে গিয়ে বাঁচান অগুণতি প্রাণ। সেই ‘হিরো’ ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে (Smit Machhar) পুরষ্কৃত করবে গুজরাট সরকার। পাশাপাশি, তাঁকে বিশেষ সম্মান দেবে ইজরায়েলও।
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, 'ইজরায়েলগামী বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতাকে আজ সারা বিশ্ব কুর্নিশ জানাচ্ছে। হামলার পর রক্তাক্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় যে অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক ও প্রশংসনীয়।' তিনি আরও বলেন, "গুজরাটের এই বীর সন্তান তাঁর সাহসিকতার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে গুজরাট ও দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর ধমনীতে প্রবাহিত গুজরাটি চেতনা আমাদের সকলকে গর্বিত বোধ করে। তাঁর এই অভূতপূর্ব সাহস ও মানবিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ গুজরাট সরকার ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে বিশিষ্ট গুজরাট গরিমা পুরস্কার-এ ভূষিত করবে।"
আরও পড়ুন:
বুধবার সকালে ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। চালকের আসনে ছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। অভিযোগ, ককপিটের ভিতর তাঁর উপর আচমকা হামলা চালান সহ-পাইলট। ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় তাঁকে। প্রায় দু’মিনিটে ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে আসে বিমানটি। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা অন্যান্য পাইলট এবং বিমানকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ককপিট। গুরুতর আহত অবস্থায় পড়েছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কিন্তু উড়ানটি নিরাপদে সৌদির উত্তর-পশ্চিমে, তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
মচ্ছার প্রায় ১৩ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছেন। ১০ বছর তিনি ‘স্পাইসজেটে’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি যোগ দেন ‘ফ্লাই দুবাই’তে। ক্যাপ্টেন হিসাবে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বিমানসংস্থায় কর্মরত। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে মচ্ছারের। তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজে ছুরির কোপে গুরুতর আহত হয়েও যেভাবে যাত্রীদের রক্ষায় অটল ছিলেন, সেই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা বিশ্ব।