ইরানের 'ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পস' বা 'আইআরজিসি'কে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করা হোক! ভারতের কাছে এমনই দাবি রাখা হয়েছে ইজরায়েলের তরফে। শুধু তাই নয়, ইরানের এই সামরিক সংগঠনের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইজরায়েলের এহেন দাবিতে স্বাভাবিকভাবেই দোলাচলে ভারত। কারণ দুই দেশই নয়াদিল্লির পরম মিত্র।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এমনটাই জানিয়েছেন ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। ইজরায়েলের আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, আইআরজিসি শুধু পশ্চিম এশিয়া নয়, এদের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব গোটা বিশ্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। ইজরায়েল বারবার নয়াদিল্লির কাছে এই সশস্ত্র সংগঠনকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ইজরায়েলের আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই আইআরজিসির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে একাধিক দেশ। ফলে তাদের আশা ভারতও এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।
ইজরায়েলের দাবি, 'আইআরজিসি শুধু পশ্চিম এশিয়া নয়, এদের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব গোটা বিশ্বের জন্য হুমকি স্বরূপ।'
এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির কথাও তুলে ধরেন ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। বলেন, এই দেশগুলির আইআরজিসির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে। তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে। ভারতেরও তেমনটা করা উচিত। তবে ইজরায়েল চাইলেও ভারতের তরফে তেমন পদক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কারণ, ইরান ও ইজরায়েল দুই দেশের সঙ্গেই কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে ভারতের। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভারত সফরে আসেন এবং দিল্লি ও তেহরানের সম্পর্ককে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ মাস ধরে ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা চলছে ইজরায়েল ও আমেরিকার। যার জেরে বন্ধ রয়েছে বিশ্বের তৈল ধমনী হরমুজ। গোটা বিশ্বজুড়ে তেল সংকট ভয়ংকর আকার নিলেও শুরু থেকে হরমুজে ছাড়পত্র দিয়ে রাখা হয়েছিল ভারতের জন্য। পরে আমেরিকার তরফে অবরোধ চালু হলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারন করে। প্রসঙ্গত, ইরানে আলাদা করে সেনাবাহিনী থাকলেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ বাহিনী এই আইআরজিসি। এই বাহিনী সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয় সুপ্রিম লিডার দ্বারা।
