জ্ঞানেশ কুমারকে ভারতরত্ন দেওয়া হোক, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি এনসিপিআইয়ের
Anwesha Adhikary
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক। তাঁর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দায়ের হয়েছে মামলা। সেই মামলা শুনতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এহেন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিল এনসিপিআই। দলের আবেদন, জ্ঞানেশ কুমারকে যেন ভারতরত্ন দেওয়া হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অসামান্য় অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হোক জ্ঞানেশকে, এমনটাই আবেদন এই দলের।
এসআইআর নিয়ে ‘কাঠগড়ায়’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বাকি নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিকে পাত্তা দেননি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তদন্তমূলক প্রতিবেদন এমনটাই দাবি করা হয়েছে। তারপরেই দেশজুড়ে সুর চড়িয়েছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস-সহ রাজনৈতিক দলগুলো জ্ঞানেশের ইস্তফা চাইছে। এহেন পরিস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই এই মামলা শুনবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বেঞ্চ।
আরও পড়ুন:
এই বিতর্কের আবহেই মোদিকে চিঠি লিখলেন এনসিপিআই প্রেসিডেন্ট জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, "ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তিতে বিশ্বাসী এক নাগরিক হিসাবে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হোক। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদান অপরিসীম। কারণ পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় ভোটের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে ছিল সন্ত্রাস, রিগিং, রক্তপাত। কিন্তু জ্ঞানেশের নেতৃত্বে ভোটাররা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আস্থা ফিরে পেয়েছেন।"
জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগ উঠেছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় 'ছড়ি ঘোরানো'র। কিন্তু এনসিপিআইয়ের লেখা চিঠিতে জ্ঞানেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ যোগ দেন এনসিপিআইতে। তাঁদের সাংসদ পদ নিয়ে এখনও চলছে টানাপোড়েন। এনডিএর শরিক হিসাবেই আপাতত কাজ করছে এনসিপিআই। পুজোর আগেই বিজেপিতে মিশে যাবে এনসিপিআই, এমনটাও চলছে চর্চা। কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া জানিয়েছেন, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই পুজোর আগে বা পরে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। তবে তিন সংখ্যালঘু সাংসদ বিজেপিতে যোগদান করবেন না। তাঁরা এনসিপিআইতে থেকে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন।