দূষণ শংসাপত্র না থাকলে জ্বালানি নয়, 'বিষবায়ু' নিয়ন্ত্রণে ১ অক্টোবর থেকেই কড়া নিয়ম দিল্লিতে
Kishore Ghosh
গ্রীষ্মপ্রধান দেশে শীতের দু-তিন মাসে স্বস্তি পায় মানুষ। বিপরীত অবস্থা হয় দিল্লিতে। শীতকাল এলেই সেখানে মাত্রা ছাড়া দূষণে নাজেহাল অবস্থা হয় বাসিন্দাদের। এই অবস্থায় আসন্ন শীতকালে রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ১ অক্টোবর থেকেই চালু হচ্ছে কড়া নিয়ম। গাড়ি, বাইক বা অটো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত শংসাপত্র না থাকলে মিলবে না পেট্রল, ডিজেল কিংবা সিএনজি জ্বালানি। গুরুগ্রামের মতো বৃহত্তর দিল্লিতেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
বাতাসের গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশন রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে 'দূষণ শংসাপত্র না থাকলে জ্বালানি নয়'--- ১ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম বলবৎ করার নির্দেশিকা জারি করেছে। উল্লেখ্য, সোমবার কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিল। সেই বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, পূর্তমন্ত্রী প্রবেশ বর্মা এবং দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিংহ সিরসা। বৈঠকের পর দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী বেশ কয়েকটি পরিকল্পনার কথা জানান। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল গাড়ি, বাইক বা অটোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা।
আরও পড়ুন:
পেট্রল ও সিএনজি স্টেশনগুলিতে ‘অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন’ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতির বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। ১৫ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা সিএকিউএম-এর ১০১ নম্বর নির্দেশিকা অনুযায়ী, বৈধ ‘পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল’ শংসাপত্র ছাড়া কোনও গাড়িকে ১ অক্টোবর থেকে জ্বালানি দেওয়া হবে না। পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ডেলিভারি পরিষেবা প্রদানকারী এবং ই-কমার্স কোম্পানিগুলির জন্য জারি করা নির্দেশাবলি কতটা মেনে চলা হচ্ছে, কমিটি তাও পর্যালোচনা করে।
এছাড়াও শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণে পুরনো যানবাহানকে দিল্লিতে ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিএস-৪ ও তার চেয়ে পুরনো প্রাইভেট গাড়ি এবং বাণিজ্যিক পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশে বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। সঙ্গে বৈদ্যুতিন বাস চালানো, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে ধানের নাড়া পোড়ানো রোধ নিয়েও আলোচনা হয় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে।