গুজরাট হাই কোর্টে মৃত্যুদণ্ড, আহমেদাবাদ বিস্ফোরণে জড়িত সেই 'জঙ্গি'র সর্বোচ্চ সাজায় 'সুপ্রিম' স্থগিতাদেশ
Kishore Ghosh
২০০৮ সালের আমেদাবাদ ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ৩৮ জন দোষীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় বিশেষ আদালত। চলতি বছরের জুলাই মাসে বিশেষ আদালতের ওই নির্দেশ বহাল রাখে গুজরাট হাই কোর্ট। যদিও নাশকতায় জড়িত জঙ্গি সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন’-এর এক সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশে বৃহস্পতিবার স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
গুজরাট হাই কোর্ট যে ৩৮ জনকে মৃত্যদণ্ড দিয়েছিল তাদের অন্যতম আহমেদ বাওয়া ওরফে আব্বু আবুবকর বেরেলভি। সর্বোচ্চ সাজায় স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন আহমেদ বাওয়ার আইনজীবী। মামলা উঠেছিল বিচারপতি বিক্রম নাথ, এজি মাসিহ এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে। প্রাথমিক শুনানি শেষে এই ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন সদস্যের মৃত্যুদণ্ডে স্থগিতাদেশ জারি করে সর্বোচ্চ আদালত। পাশাপাশি জঙ্গির বিরুদ্ধে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ চেয়েছেন তিন বিচারপতি, যার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল গুজরাট হাই কোর্ট। ইতিমধ্যে গুজরাট সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আরও পড়ুন:
গুজরাট হাই কোর্টের বিচারপতি এওয়াই কোগজে এবং বিচারপতি সমীর দাভের ডিভিশন বেঞ্চ বিশেষ আদালতের ২০২২ সালের রায় বহাল রেখে জানিয়েছিল, এই বিস্ফোরণ ছিল সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। আদালত ৩৮ জন দোষীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং বাকি ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখে। এর ফলে বিশেষ আদালতের সাজায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। যদিও সুপ্রিম নির্দেশে এক অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডের সাজা আপাতত স্থগিত রইল।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই আমেদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ২১টি বিস্ফোরণ ঘটে। শহরের বাস, বাজার, জনবহুল এলাকা এবং এমনকী হাসপাতালে পর্যন্ত বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। হামলায় ৫৬ জনের মৃত্যু হয় এবং ২০০-রও বেশি মানুষ আহত হন। তদন্তে উঠে আসে, প্রথম দফার বিস্ফোরণে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হবে জেনেই সেখানে অতিরিক্ত বিস্ফোরকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে। এই মামলায় মোট ৭৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। প্রায় ১৩ বছর ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলার পরে ২০২২ সালে বিশেষ আদালত ৪৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। ২৮ জনকে প্রমাণের অভাবে খালাস দেয়। দোষীদের মধ্যে ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।