'জঙ্গি কাসবের থেকেও বিপজ্জনক রাহুল', আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে বিতর্কে প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তা
Amit Kumar Das
জঙ্গি আজমল কাসবের সঙ্গে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) তুলনা টেনে ব্যাপক বিতর্ক বাঁধালেন প্রাক্তন এক বায়ুসেনা আধিকারিক। ২০০৮ সাল মুম্বইয়ে ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলা চালানো জঙ্গি কাসবের ছবির সঙ্গে রাহুলের ছবি জুড়ে তাঁর দাবি, রাহুল কাসবের চেয়েও বিপজ্জনক। অনুপ বর্মা নামে প্রাক্তন ওই লেফটেন্যান্টের শেয়ার করা ছবি সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনায় কংগ্রেস সেবা দলের তরফে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও আজমল কাসবের একটি ছবি কোলাজ করে পোস্ট করেন অনুপ। যেখানে দেখা যাচ্ছে, দু'জনের পরনেই একই রকম ট্রাউজার, স্নিকার ও কাঁধে ব্যাগ। দু'জনের হাঁটার ভঙ্গিতেও বিশেষ পার্থক্য নেই। এই ছবির সঙ্গে উপরে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, 'আমি আপনাদের জোর দিয়ে বলতে পারি, বাঁ দিকের ব্যক্তিটি ভারতের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক।' এই পোস্ট সামনে আসতেই বিতর্ক চরমে ওঠে। আপত্তিকর এই ছবি পোস্ট করার অভিযোগে কংগ্রেসের সেবা দলের তরফে সাইবার অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। কংগ্রেসের তরফে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের দল বা নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের বিদ্বেষমূলক কার্যকলাপ কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, মত প্রকাশের অধিকারের অর্থ এই নয় যে যা খুশি তাই করা। এখানে বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক পদকে কলঙ্কিত করা হয়েছে।
সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ করে কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, মত প্রকাশের অধিকারের অর্থ এই নয় যে যা খুশি তাই করা। এখানে বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক পদকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতার মানহানি বা গণতান্ত্রিক ভিন্নমতকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তুলনা করা বা যে কোনও অবৈধ কার্যকলাপ রুখতে আইনি পথে যা যা করণীয় তা করা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং যথাযথ আইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে এর জবাবদিহি করতেই হবে।
এই ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা আধিকারিক করমবীর সিং। অনুপের এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, রাহুল গান্ধীকে একজন সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এটা কোনওভাবেই কাম্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রেরই অংশ, কিন্তু সম্মান ও শালীনতা লঙ্ঘন কোনওভাবেই কাম্য নয়।