জনবিন্যাসের ভারসাম্যই আসল! SIR বিতর্কের মধ্যেও দেশজুড়ে NRC চাইছে আরএসএস
Subhajit Mandal
SIR নিয়ে যা-ই বিতর্ক হোক, আরএসএস তথা বিজেপির পরবর্তী টার্গেট যে দেশজুড়ে এনআরসি কার্যকর করা, সেটা আরও একপ্রকার স্পষ্ট করে দিল সংঘ পরিবার। আরএসএসের প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর স্পষ্ট বলে দিলেন, দেশের জনসংখ্যার বিন্যাসের ভারসাম্য রাখতে, নাগরিকদের চরিত্র বোঝার স্বার্থে এনআরসি (NRC) জরুরি।
বুধবার দিল্লিতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও পরিবর্তিত জনগণনার পরিসংখ্যান’ সংক্রান্ত বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংঘের প্রচারপ্রমুখ সুনীল বলেন, "জনবিন্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে, দেশের ঐক্য, সুরক্ষা, ভারসাম্যের কথা মাথায় রেখে দেশজুড়ে এনআরসি হওয়া উচিত।" তিনি বলছেন, "ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ভুল করে উঠে গিয়েছে, বা যারা পাশের রাষ্ট্রগুলি থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের জন্য এ দেশে এসেছেন তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য এনআরসি হওয়া দরকার।"
আরও পড়ুন:
দেশের সীমান্তবর্তী বিশেষ করে পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যের জেলাগুলিতে জনবিন্যাসের ভারসাম্য পাল্টে গিয়েছে বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই জনবিন্যাস বদল নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাস নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গড়া হয়েছে। আরএসএস নেতার মুখেও জনবিন্যাস নিয়ে উদ্বেগ শোনা গেল। তিনি বলছেন, "জনবিন্যাস বদলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ভারতের। এই বদল রোখার অন্যতম অস্ত্রই হচ্ছে এনআরসি।"
সদ্য এসআইআর নিয়ে প্রবল বিতর্ক চলছে। এনআরসি করতে গেলেও একাধিক আইনি প্যাঁচ আসবে। আইনি পথেই সেটার মোকাবিলা করতে হবে। আইনি পথে কোনও আপত্তি উঠলে সেটা মেটানো যেতে পারে। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক কারণে কেউ দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে, সেটাও সমর্থনযোগ্য নয়। শুধু এনআরসি নয়, আগামী দিনে ভারতে সব ধর্মের মানুষের জন্য একই আইন অর্থাৎ অভিন্ন দেওয়ানি বিধিও যে প্রয়োজনীয় সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন সংঘের প্রচার প্রমুখ।